চলতি বছরেই ‘চ্যাটজিপিটি মোমেন্টের’ দেখা পাবে হিউম্যানয়েড রোবট?

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে হঠাৎ এক বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে হিউম্যানয়েড রোবট। যেকোনো সময়ে বিনিয়োগ ও ব্যবহারের দ্রুত বৃদ্ধির মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির মতো ব্যাপক এবং আকস্মিক উত্থান ঘটতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত হিউম্যানয়েড রোবটেরও। এমনকি চলতি ২০২৫ সালেই এর সূত্রপাত দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। দ্রুত, আকস্মিক ও ব্যাপক মাত্রায় উত্থানের প্রত্যাশিত মুহূর্তটিকে হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য ‘চ্যাটজিপিটি মোমেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা অর্জনের মধ্য দিয়ে হঠাৎ এক বড় পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে হিউম্যানয়েড রোবট। যেকোনো সময়ে বিনিয়োগ ও ব্যবহারের দ্রুত বৃদ্ধির মাধ্যমে চ্যাটজিপিটির মতো ব্যাপক এবং আকস্মিক উত্থান ঘটতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত হিউম্যানয়েড রোবটেরও। এমনকি চলতি ২০২৫ সালেই এর সূত্রপাত দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন কোনো কোনো বিশ্লেষক। খবর সিএনবিসি।

দ্রুত, আকস্মিক ও ব্যাপক মাত্রায় উত্থানের প্রত্যাশিত মুহূর্তটিকে হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য ‘চ্যাটজিপিটি মোমেন্ট’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে এক আলোচনা সভায় বেইজিং ইনোভেশন সেন্টার ফর হিউম্যানয়েড রোবটিক্সের জেনারেল ম্যানেজার এবং ইউবি টেক রোবটিক্সের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা শিওং ইয়োজুন বলেন, ‘আমাদের শিল্পে এখন একটি ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। তা হলো হিউম্যানয়েড রোবটের জন্য চ্যাটজিপিটি মুহূর্ত এসে গেছে।’

তিনি ও বাজার সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সাল হলো বাণিজ্যিকভাবে হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের প্রথম বছর। আর চলতি ২০২৫ সালেই অর্জন হয়ে যেতে পারে এ প্রযুক্তির ‘চ্যাটজিপিটি মোমেন্ট’।

হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হয় মানুষের আকৃতি ও গতিবিধি অনুকরণ করে। এগুলো বিভিন্ন শিল্পখাতে যেমন উৎপাদন, সরবরাহ, পরিষেবা ও জনসাধারণের ব্যবহারে কাজে লাগবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বহু বছর ধরে এর প্রটোটাইপ তৈরি করলেও, এখন অনেকেই এটিকে বাণিজ্যিকভাবে বৃহদায়তনে নিয়ে আসতে প্রস্তুত।

টেসলার অপ্টিমাস রোবটের পাশাপাশি চীনা কোম্পানি ইউনিট্রি, গ্যালবট, অ্যাজিবট ও ইউবি টেক রোবটিক্স এ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। গ্যালবটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার ঝাও ইউলি জানান, প্রতিষ্ঠানটি এরই মধ্যে প্রায় এক হাজার রোবট বিভিন্ন কারখানা ও ব্যবসায়িক খাতে সরবরাহ করেছে। চীনা সংবাদমাধ্যমের ভাষ্যমতে, ইউবি টেক ও গ্যালবটের রোবট বিভিন্ন কারখানায় কাজে লাগানোও হচ্ছে।

এ বছর চীন হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে বড় বড় অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। ‘ওয়ার্ল্ড হিউম্যানয়েড রোবটিক্স গেমে’ ফার্মাসিউটিক্যাল সামগ্রী বাছাইয়ের প্রতিযোগিতায় গ্যালবট স্বর্ণপদক জিতেছে। দেশটিতে অনুষ্ঠিত ম্যারাথন ও বক্সিংয়ের মতো খেলাধুলায়ও এসব রোবটের দক্ষতা প্রদর্শিত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি জেনারেটিভ এআইয়ের অগ্রগতির কারণে এ ধরনের রোবট কমান্ড ছাড়াই নিজে থেকে কাজ শিখে নিতে সক্ষম হচ্ছে। এর ফলে রোবটের কাজের ক্ষেত্রও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক বলেছেন, চলতি বছর কোম্পানিটি ৫ হাজার অপ্টিমাস রোবট তৈরি করবে। তিনি আশা করেন, ভবিষ্যতে টেসলার ব্যবসার সবচেয়ে বড় অংশ দখল করবে হিউম্যানয়েড রোবট।

তবে এসব রোবট হঠাৎ করেই মূলধারায় চলে আসবে এমন প্রত্যাশার সঙ্গে সবাই একমত নন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেমিআ্যানালাইসিসের বিশ্লেষক রেইক নুহটসেন বলেন, ‘চ্যাটজিপিটির মতো এক লাফে নয়, বরং মানবাকৃতির রোবট ধীরে ধীরে বিভিন্ন খাতে প্রবেশ করবে।’

তার মতে, প্রাথমিকভাবে রোবটগুলোকে কম ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো হবে।

ইউবি টেকের শিওং ইয়োজুনও স্বীকার করেন, এখনো এ খাতের বড় বাধা হয়ে রয়েছে নৈতিক প্রশ্ন, আইন ও নীতিমালা। তবে তিনি মনে করেন, যত দিন রোবটের স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা বাড়ছে, ততদিন বিনিয়োগও চলতে থাকবে।

ব্যাংক অব আমেরিকার সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেরিল লিঞ্চের হিসাবে ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবটের সরবরাহ ১৮ হাজার ইউনিটে পৌঁছাতে পারে, যেখানে ২০২৪ সালে তা ছিল মাত্র আড়াই হাজার। প্রতিষ্ঠানটি ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী হিউম্যানয়েড রোবটের সংখ্যা ৩০০ কোটিতে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছে।

আরও