আর্সেনিক নির্ভর জীবের দাবি ঘিরে বিতর্কিত গবেষণা প্রত্যাহার করল ‘সায়েন্স’, গবেষকদের আপত্তি

তারা বলেন, তথ্যসংশ্লিষ্ট ভুল বা প্রতারণার কারণে নয়, বরং ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্কের কারণেই যদি গবেষণা প্রত্যাহার করা হয়, তা হলে বিজ্ঞান প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করে।

গবেষকরা দাবি করেছিলেন, তারা এমন এক ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পেয়েছেন যা বেড়ে ওঠার জন্য ব্যবহারে করেছে আর্সেনিক। এই দাবি ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক কারণ, আর্সেনিক এমন একটি উপাদান যা সাধারণত প্রাণের জন্য বিষাক্ত।

এক দশকেরও বেশি আগে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি হ্রদে আবিষ্কৃত একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীবকে ঘিরে বিজ্ঞানজগতে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। গবেষকরা দাবি করেছিলেন, তারা এমন এক ব্যাকটেরিয়া খুঁজে পেয়েছেন যা বেড়ে ওঠার জন্য ব্যবহারে করেছে আর্সেনিক। এই দাবি ঘিরে তৈরি হয় বিতর্ক কারণ, আর্সেনিক এমন একটি উপাদান যা সাধারণত প্রাণের জন্য বিষাক্ত।

এই দাবি সত্য হলে তা পৃথিবী ছাড়াও অন্য গ্রহে প্রাণের অস্তিত্বের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দিত। কিন্তু এরপর একাধিক গবেষক দল সেই ফলাফল পুনরাবৃত্তি করতে ব্যর্থ হয় এবং দাবি করে, এমন বিষাক্ত উপাদান ব্যবহার করে ডিএনএ বা প্রোটিন গঠন সম্ভব নয়। কিছু বিজ্ঞানী পরামর্শ দেন, মূল পরীক্ষাগুলোর ফলাফল হয়তো অজানা দূষণের কারণে বিকৃত হয়েছিল।

এই বিতর্কিত গবেষণাটি ২০১০ সালে প্রথম প্রকাশ করেছিল শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স। দীর্ঘ বিতর্কের পর জার্নালটি অবশেষে গত বৃহস্পতিবার গবেষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে গবেষকদের কোনো অসদাচরণ বা প্রতারণার কারণে এটি প্রত্যাহার করা হয়নি।

জার্নালটির প্রধান সম্পাদক হোলডেন থর্প এক বিবৃতিতে জানান, ‘যদি কোনো গবেষণাপত্রের পরীক্ষাগুলো তার মূল সিদ্ধান্তকে সমর্থন না করে, তা হলে প্রতারণা না থাকলেও সেটি প্রত্যাহার করা যুক্তিসঙ্গত।‘

তবে গবেষণাটির সঙ্গে যুক্ত বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তারা বলেন, তথ্যসংশ্লিষ্ট ভুল বা প্রতারণার কারণে নয়, বরং ব্যাখ্যা নিয়ে বিতর্কের কারণেই যদি গবেষণা প্রত্যাহার করা হয়, তা হলে বিজ্ঞান প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়।

গবেষণার সহলেখক এবং অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অ্যারিয়েল অ্যানবার এক ইমেইলে লেখেন, ‘কোনো ব্যাখ্যা বিতর্কিত হলেই সেই গবেষণা প্রত্যাহার করা যায় না, বরং মতভেদ থাকাটাই বিজ্ঞান চর্চার স্বাভাবিক অংশ। অন্তত এতদিন পর্যন্ত সেটাই রীতি ছিল।‘

তিনি আরো বলেন, বড় ধরনের ভুল বা প্রতারণা থাকলে গবেষণা প্রত্যাহার স্বাভাবিক। কিন্তু মতভেদের কারণে এমন পদক্ষেপ নেয়া বিজ্ঞান চর্চার এক নতুন দৃষ্টান্ত।

মূল গবেষণার তহবিলের একটি অংশ এসেছিল নাসা থেকে। সংস্থাটির বিজ্ঞান মিশনের প্রধান নিকি ফক্স এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নাসা এই প্রত্যাহার সমর্থন করে না এবং সায়েন্স জার্নালকে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানায়।‘

সায়েন্স জার্নালের সম্পাদক থর্প ও নির্বাহী সম্পাদক ভ্যাদা ভিনসন এক ব্লগ পোস্টে লেখেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রতারণা ছাড়াও অন্যান্য কারণে গবেষণা প্রত্যাহারের হার বেড়েছে।

২০১০ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় গবেষকরা দাবি করেছিলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মনোলেকের একটি ব্যাকটেরিয়া প্রজাতি আর্সেনিক ব্যবহার করে জীবনধারণ করে। এই প্রজাতির নাম দেয়া হয় জিএফএজে-১।

গবেষণার মতে, ব্যাকটেরিয়াটি ফসফরাসের পরিবর্তে আর্সেনিক ব্যবহার করে ডিএনএ ও কোষীয় উপাদান তৈরি করেছিল— যা ছিল জৈব রসায়নের প্রচলিত ধারণার বাইরে এক বিস্ময়কর দাবি।

কিন্তু পরবর্তীতে একাধিক গবেষণায় এই দাবির যথাযথ পুনরাবৃত্তি হয়নি এবং সন্দেহ দেখা দেয় যে, ব্যাকটেরিয়াটি আসলে আর্সেনিক ব্যবহার করছিল নাকি দূষণের কারণে এমনটা মনে হয়েছে।

এপি অবলম্বনে

আরও