আগামী ১২ আগস্ট চাঁদের আড়ালে পুরোপুরি ঢাকা পড়বে সূর্য। দিনের আলো নিভে গিয়ে কয়েক মিনিটের জন্য নেমে আসবে রাতের মতো অন্ধকার। ২০২৬ সালের এই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যাবে স্পেন, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড থেকে। বিরল এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে এরই মধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও আকাশপ্রেমীরা।
তবে বাংলাদেশ থেকে এ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। গ্রহণ চলাকালে দেশে রাত থাকাসহ বাংলাদেশ চাঁদের ছায়াপথের বাইরে অবস্থান করবে। তবে যেসব অঞ্চল থেকে গ্রহণ দেখা যাবে না, তাদের জন্যও সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা থাকবে। বিশ্বের বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞান সংস্থা ও পর্যবেক্ষক দল স্পেন, আইসল্যান্ড ও গ্রিনল্যান্ড থেকে অনলাইনে গ্রহণের প্রতিটি পর্যায় দেখাবে। গ্রহণের সময় ঘনিয়ে এলে এসব লাইভস্ট্রিমের বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।
টাইম অ্যান্ড ডেটের তথ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, পর্তুগাল, রাশিয়া ও স্পেনের প্রায় ১ কোটি ৫২ লাখ মানুষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণের সরাসরি সাক্ষী হতে পারবেন। গ্রহণের পূর্ণতা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ১২ আগস্ট রাত ১০টা ৫৮ মিনিটে। এ সময় চাঁদ সূর্যের চাকতিকে সম্পূর্ণ ঢেকে ফেলবে।
পূর্ণ গ্রহণের পথের বাইরে থাকা বিশ্বের আরো প্রায় ৯৮ কোটি মানুষ আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখতে পারবেন। সংখ্যাটি পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২ শতাংশ। আংশিক গ্রহণের সময় সূর্যের চাকতির একটি অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। তখন সূর্যকে দেখে মনে হবে, এর এক পাশ থেকে কেউ যেন বড় একটি কামড় বসিয়েছে।
প্রতি মাসে অমাবস্যার সময় চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে অবস্থান করে। তবে চাঁদের কক্ষপথ কিছুটা হেলানো হওয়ায় প্রতি অমাবস্যায় সূর্যগ্রহণ ঘটে না। সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী প্রায় একই সরলরেখায় অবস্থান করলেই চাঁদের ছায়া পৃথিবীর কোনো অংশের ওপর পড়ে এবং সূর্যগ্রহণ দেখা যায়। পূর্ণ গ্রহণের সময় চাঁদের ঘন ছায়া যে সরু অঞ্চল অতিক্রম করে, সেটিকে ‘পাথ অব টোটালিটি’ বা পূর্ণতার পথ বলা হয়।
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ থেকে আকর্ষণীয় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এসব অঞ্চলের কোনো কোনো জায়গায় সূর্যের প্রায় ৯০ শতাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যাবে। পশ্চিম দিগন্তে সূর্য নিচে নেমে যাওয়ার সময় গ্রহণটি দৃশ্যমান হওয়ায় সেখানকার আকাশে তৈরি হবে ব্যতিক্রমী দৃশ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, মেইন ও পেনসিলভানিয়াসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কয়েকটি অঙ্গরাজ্য থেকেও আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। তবে অঞ্চলগুলো পূর্ণ গ্রহণের পথ থেকে অনেক দূরে থাকায় সূর্যের খুব সামান্য অংশই চাঁদের আড়ালে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আংশিক সূর্যগ্রহণের সময় খালি চোখে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে চোখের রেটিনা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি দৃষ্টিশক্তিও হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। গ্রহণ দেখতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানসম্পন্ন সোলার ভিউয়িং গ্লাস বা বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস, ক্যামেরার লেন্স কিংবা ধোঁয়াটে কাচ চোখকে সুরক্ষা দিতে পারে না।
আগস্টের এই সূর্যগ্রহণকে আগামী কয়েক বছরের ধারাবাহিক মহাজাগতিক আয়োজনের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চল দিয়ে তিনটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ এবং তিনটি বলয়গ্রাস বা ‘রিং অব ফায়ার’ সূর্যগ্রহণ অতিক্রম করবে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এ সময়কে সূর্যগ্রহণের একটি ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।