বিশ্বজুড়ে যোগাযোগের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপ। স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, ২০২৪ সালে মেটা প্লাটফর্মস মালিকানাধীন মেসেজিং অ্যাপটির মাসিক ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৮০ কোটির বেশি। সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী আছে ভারতে, ৫৩ কোটি ৫০ লাখের বেশি। নিরাপদ মেসেজিংয়ের জন্যও হোয়াটসঅ্যাপ বেশ জনপ্রিয়। তা সত্ত্বেও এর কিছু বিষয় গুরুত্ব দিয়ে ভেবে দেখা দরকার। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅবের প্রতিবেদনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের আগে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে—
হোয়াটসঅ্যাপ থেকে ব্যান: মাধ্যমটির পরিষেবাগত শর্তাবলির লঙ্ঘন করলে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট ব্যান করা হতে পারে। এতে নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ব্যবহার করা যাবে না। ব্যান বা নিষিদ্ধ হওয়ার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে স্প্যাম বার্তা পাঠানো, স্ক্যামের চেষ্টা ও ম্যালওয়্যার ছড়ানো। স্বয়ংক্রিয় মেসেজিং টুল বা অ্যাপের আনঅফিশিয়াল ভার্সন ব্যবহার করলেও নিষিদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে থাকে। এজন্য হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের আগে এর নির্দেশিকা বা শর্তাবলি জেনে নেয়া জরুরি।
ডাটা শেয়ারিং: ফেসবুকসহ মেটা মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তথ্য ভাগাভাগি করে হোয়াটসঅ্যাপ। যেখানে থাকতে পারে মোবাইল নম্বর, আইপি অ্যাড্রেস ও ডিভাইস সম্পর্কিত তথ্য। প্রয়োজন হলে মেটা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে তথ্য ভাগ করে নিতে পারে। অন্যান্য বিজনেস অ্যাকাউন্ট বা ব্যবসা সম্পর্কিত কাজের জন্য হোয়াটসঅ্যাপের সময় সার্চ ও কেনাকাটার হিস্ট্রি দেখতে পারে কোম্পানিটি। এমনকি তথ্যগুলো পর্যালোচনাও করে থাকে হোয়াটসঅ্যাপ।
মেটাডাটা সংগ্রহ: নির্দিষ্ট কোনো মেসেজ পড়তে সক্ষম নয় হোয়াটসঅ্যাপ এবং একটি মেসেজ ডেলিভারি হওয়ার পর তা সার্ভার থেকে ডিলিট করা হয়। তবে মেসেজিং কার্যকলাপের মেটাডাটা সংগ্রহ করে মেটা। অর্থাৎ মেটাডাটার সাহায্যে হোয়াটসঅ্যাপ জানতে পারে কতবার ও কোন সময় মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। এসব তথ্য মেটা মালিকানাধীন কোম্পানির সঙ্গে ভাগ করে নেয়া হয়। প্রাইভেসি পলিসি অনুসারে মেসেজ পড়তে না পারলেও মেটাডাটার বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু না বলা থাকায় প্রাইভেসি সচেতন অনেকেই অ্যাপটি ব্যবহার বন্ধের কথা জানিয়েছেন।
হ্যাকিংয়ের ঝুঁকি: সাধারণভাবে বললে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার নিরাপদ। তবে একজন ব্যবহারকারী নানাভাবে হ্যাকিংয়ের শিকার হতে পারেন, তা নিজের অবহেলার কারণেই হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ বা টুলের ব্যবহার ও অপরিচিত লিংক ক্লিকের মাধ্যমে হ্যাকিংয়ের ফাঁদে পা দেয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ মেসেজিং অভিজ্ঞতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পারে। কিন্তু এসব অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকসেসের অনুমতি দিতে হয়, যা যেকোনো সময় ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। তাছাড়া ডাটা শেয়ারিংয়ের ঝুঁকিও রয়েছে। এজন্য সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক ও শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। পাশাপাশি কখনো অঘটন ঘটে গেলে সেক্ষেত্রে কী করণীয়, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেয়া যেতে পারে।