সাবসি ইন্টারনেট কেবল তৈরির পরিকল্পনা মেটার

বিশ্বব্যাপী ফাইবার-অপটিক সাবসি ইন্টারনেট কেবল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা।

বিশ্বব্যাপী ফাইবার-অপটিক সাবসি ইন্টারনেট কেবল নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ফেসবুকের প্যারেন্ট কোম্পানি মেটা। এ প্রকল্পে ১ হাজার কোটি ডলার খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। সাবসি কেবলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সুনীল তাগারে এ প্রকল্পের কথা জানান। এটি আগামী বছর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। তবে টেকক্রাঞ্চকে মেটার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এ পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। খবর এনগ্যাজেট।

ফাইবার-অপটিক সাবমেরিন ইন্টারনেট কেবল সমুদ্রের তলদেশে স্থাপন করা হয়। এটি আলোর মাধ্যমে তথ্য পরিবহন করে। এ কেবল বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মহাদেশের মধ্যে ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপনে ব্যবহার হয়।

মেটার সূত্র বলছে, কয়েকটি বিশেষ দক্ষ ঠিকাদারই শুধু এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে। তাদের বেশির ভাগই এরই মধ্যে অন্য প্রকল্পে ব্যস্ত। যদি মেটার প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়, তবে কেবল স্থাপন ও চালু করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কেবলটির দৈর্ঘ্য হতে পারে প্রায় ২৫ হাজার মাইল।

বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের ১০ ও মোবাইল ট্রাফিকের ২২ শতাংশ মেটার ও এর পরিষেবাগুলোর দখলে। বর্তমানে বেশকিছু সাবসি নেটওয়ার্কের আংশিক মালিকানা রয়েছে কোম্পানিটির, তবে এটি হবে তাদের প্রথম সম্পূর্ণ নিজস্ব মালিকানাধীন ও পরিচালিত কেবল। এছাড়া টেক জায়ান্ট গুগলের কিছু নিজস্ব কেবল রয়েছে। তবে প্রযুক্তি দুনিয়ায় সুপরিচিত কোম্পানি অ্যামাজন ও মাইক্রোসফটের কোনো ডেডিকেটেড কেবল নেই। তারা অন্য নেটওয়ার্কগুলোর আংশিক মালিক। মেটার কেবলটি কেবল তাদের নিজস্ব ব্যবহারে তৈরি করা হবে বলে ধারণা করছেন প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা।

মেটার তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে উত্তর আমেরিকার তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে বেশি আয় করছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এ কেবল মেটাকে তাদের অবকাঠামোর ওপর আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে, ফলে এর পরিষেবাগুলো আরো স্থিতিশীল হবে। মেটা এর আগে নিজস্ব ওয়াই-ফাই ও মোবাইল ইন্টারনেট প্রকল্পে কাজ শুরু করেছিল। তবে ২০২২ সালে তারা ওয়াই-ফাই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কেবলটি যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা, এরপর ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার উত্তর উপকূল হয়ে পশ্চিম উপকূলে পৌঁছবে।

আরও