অর্ধশতক পর আবারো চাঁদের পথে মানুষ

আর্টেমিস-২ মিশনে ব্যবহৃত হচ্ছে নাসার নতুন প্রজন্মের ওরিয়ন ক্যাপসুল। যেখানে থেকে নভোচারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ অভিযানের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকিং কৌশল পরীক্ষা করা হবে।

পাঁচ দশক পর আবারো চাঁদের পথে মানুষ পাঠাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ঐতিহাসিক এ অভিযানের জন্য সংস্থাটি তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট উৎক্ষেপণের জন্য 'স্পেস লঞ্চ সিস্টেম' (এসএলএস) প্রস্তুত করছে। আর্টেমিস–২ নামের এ মিশনে চারজন নভোচারী চাঁদকে প্রদক্ষিণ করে পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে এ যাত্রা শুরু হতে পারে।

এ মিশনে নভোচারীরা প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার মাইল পথ পাড়ি দেবেন। প্রায় ১০ দিনের এ যাত্রার শেষে প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের ক্যাপসুল নামবে। ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ অভিযানের পর এ প্রথম মানুষ আবার চাঁদের চারপাশে ঘুরে আসবে। যদিও তারা চাঁদে অবতরণ করবেন না, তবে এটি ভবিষ্যতের চাঁদে নামার পথকে আরো মসৃণ করবে।

আর্টেমিস-২ মিশনে ব্যবহৃত হচ্ছে নাসার নতুন প্রজন্মের ওরিয়ন ক্যাপসুল। যেখানে থেকে নভোচারীরা প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। এ অভিযানের মাধ্যমে জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ প্রযুক্তি ও ভবিষ্যতের মহাকাশযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকিং কৌশল পরীক্ষা করা হবে। নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যানের ভাষায়, এটি গত ৫০ বছরের মধ্যে মানব মহাকাশ অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিশন।

অভিযানে অংশ নিচ্ছেন নাসার তিন অভিজ্ঞ নভোচারী—রিড উইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার ও ক্রিস্টিনা কক। আর তাদের সঙ্গে প্রথমবার মহাকাশে যাচ্ছেন কানাডার নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এ যাত্রার মাধ্যমে ক্রিস্টিনা কক হবেন চাঁদের পথে যাত্রাকারী প্রথম নারী, আর ভিক্টর গ্লোভার হবেন পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী।

প্রায় ১০০ মিটার উঁচু এসএলএস রকেটটি বিপুল পরিমাণ তরল জ্বালানি বহন করে, যা পুড়লে ঘণ্টায় প্রায় ২৪ হাজার ৫০০ মাইল গতিতে মহাকাশযানটি এগিয়ে যাবে। উৎক্ষেপণের আগে বিশাল ‘ক্রলার-ট্রান্সপোর্টার’ দিয়ে রকেটটিকে ধীরে ধীরে লঞ্চপ্যাডে নিয়ে যাওয়া হবে। এ যাত্রাতেই সময় লাগতে পারে প্রায় ১২ ঘণ্টা। এরপর একের পর এক পরীক্ষা। জ্বালানি ভরা, কাউন্টডাউন অনুশীলন, নিরাপত্তা যাচাই সবকিছু ঠিকঠাক হলেই মিলবে চূড়ান্ত ছাড়পত্র। সামান্য ত্রুটি ধরা পড়লেও রকেটকে আবার ফেরত নিতে হতে পারে প্রস্তুতিমূলক ভবনে।

উৎক্ষেপণের পর নভোচারীরা দু’বার পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন। এরপর ওরিয়ন ক্যাপসুল রকেট থেকে আলাদা হয়ে নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে চলবে। চাঁদের অদৃশ্য পেছনের দিক ঘুরে তারা আবার পৃথিবীর পথে ফিরবেন।

এটি একটি পরীক্ষামূলক অভিযান—অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটতেই পারে এমন ঝুঁকি সম্পর্কে নাসার বিজ্ঞানীরা অবগত আছেন। তবু প্রস্তুতি ও সতর্কতায় কোনো ঘাটতি রাখতে চান না তারা। নাসার ভাষায়, নভোচারীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

অর্ধশতক পর মানুষ আবার চাঁদের দিকে রওনা হচ্ছে, এ যাত্রা শুধু প্রযুক্তির পরীক্ষা নয়, মানব কৌতূহল ও সাহসেরও নতুন অধ্যায়।

আরও