উন্নয়নশীল বিশ্বের বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বৈশ্বিক সংস্থার 'দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেস' বার্ষিক সাধারণ সভা সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই উন্নয়নের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি এ মহাসভায় বিশ্বমানের গবেষণায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ নতুন আজীবন 'টিডব্লিউএএস ফেলো' নির্বাচন এবং মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সর্বমোট ৮৭ বিজ্ঞানীকে আজীবন 'টিডব্লিউএএস ফেলো' হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক এ সংস্থায় বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক গৌরব বহন করে এনেছেন নির্বাচিত ৮৭ জনের মধ্যে স্থান পাওয়া বাংলাদেশ একাডেমি অব সাইন্সেসের সদস্যভুক্ত দেশের ৭ জন বিজ্ঞানী ও গবেষক।
বাংলাদেশ থেকে ২০২৭ মেয়াদের জন্য আজীবন ফেলোশিপ অর্জন করা ৭ জন বিজ্ঞানী ও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়
১. ড. কাজী মতিন উদ্দিন আহমেদ — অধ্যাপক, ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা (ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবস্থাপনা, আর্সেনিক দূষণ ও প্রাকৃতিসম্পদ গবেষণায় বিশেষ ভূমিকার জন্য)।
২. ড. কামরুন নাহার — অধ্যাপক, কৃষি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।
৩. ড. মোহাম্মদ আবদুল লতিফ — পরিচালক, রাইস রিসার্চ সেন্টার, সুপ্রিম সীড কোম্পানী লিমিটেড, ত্রিশাল, ময়মনসিংহ এবং প্রাক্তন পরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জয়দেবপুর, গাজীপুর ।
৪. ড. মোহাম্মদ আবদুর রশীদ — অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগ, ফার্মেসী অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
৫. ড. মুবারক আহমদ খান — বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা, রিসার্চ ল্যাব, ইকোটেক্স লিমিটেড, ঢাকা (পাট থেকে পাটের তৈরি 'জুটলিনের' উদ্ভাবক এবং বিসিএসআইআর-এর সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা)।
৬. ড. মোহাম্মদ সোহেল রহমান — অধ্যাপক, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা।
৭. ড. এ কে এম আখতার হোসেন — অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ এবং সহযোগী ডীন, পোস্টগ্রাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), ঢাকা।
একই আন্তর্জাতিক সাধারণ সভায় বাংলাদেশের পরিবেশ ও কৃষিবিজ্ঞান গবেষণার অন্যতম শীর্ষ গবেষক প্রফেসর ড. কামরুন নাহার-কে তার অসামান্য বৈজ্ঞানিক অবদানের জন্য মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা টিডব্লিউএএস ফায়জাহ এম আল-খারাফি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। ফলে তিনি একইসঙ্গে একাডেমির আজীবন ফেলো নির্বাচিত হওয়া ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনের এক বিরল দ্বৈত গৌরব অর্জন করেছেন।
এছাড়া ড. ফেরদৌসি কাদেরী ৩ বছরের জন্য দ্য ওয়ার্ল্ড একাডেমি অব সায়েন্সেসের সদস্য নির্বাচিত করা হয়েছেন।
বার্ষিক সভায় বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমির আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলী ও নির্বাহী পরিষদ ভূতত্ত্ব, ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষা, কৃষিবিজ্ঞান, ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি, পরিবেশবান্ধব পাট প্রযুক্তি, কম্পিউটার সায়েন্স ও কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের বিকাশে বাংলাদেশের গবেষকদের বৈশ্বিক ভূমিকা ও অবদানের উচ্চ প্রশংসা করেন।
বাংলাদেশের ৭ জন গবেষকের আজীবন ফেলোশিপ লাভ ও মর্যাদাপূর্ণ ১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন দেশের বিজ্ঞান শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, মৌলিক নীতি নির্ধারণ এবং আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক স্থাপন করলো। --- বিজ্ঞপ্তি