বিশ্বজুড়ে এখনো বড় ধরনের সাইবার হুমকির নাম র্যানসমওয়্যার। বিভিন্ন দেশে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, গ্রেফতার ও অপরাধী চক্র ভেঙে দেয়ার চেষ্টা চললেও ২০২৫ সালে এ ধরনের হামলা কমেনি। বরং আগের বছরের তুলনায় র্যানসমওয়্যার হামলা আরো বেড়েছে। নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমসিসফটের এক নতুন প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর টেকরাডার।
‘দ্য স্টেট অব র্যানসমওয়্যার ইন দ্য ইউএস: রিপোর্ট অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিকস ২০২৫’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে ২০২৩-২৫ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে র্যানসমলুকডটআইও ও র্যানসমওয়্যারডটলাইভ নামের দুটি তথ্যভাণ্ডারের উপাত্ত ব্যবহার করা হয়েছে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, বড় বড় অপরাধী গোষ্ঠী বন্ধ হয়ে গেলেও সামগ্রিকভাবে হামলার সংখ্যা কমেনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে র্যানসমওয়্যার হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল আনুমানিক ৫ হাজার ৪০০। ২০২৫ সালে তা বেড়ে আট হাজার ছাড়িয়েছে। দুই বছরে এ সংখ্যা ৫৩-৬৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। গবেষকরা বলছেন, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে, কারণ অনেক প্রতিষ্ঠান হামলার তথ্য প্রকাশ করে না।
২০২৪-২৫ সালে র্যানসমহাব, বিয়ানলিয়ান ও হান্টারস ইন্টারন্যাশনালের মতো কয়েকটি আলোচিত গোষ্ঠী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ভেঙে পড়ে বা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এসব গোষ্ঠী আগে কাওয়াসাকি মোটরস ইউরোপ, প্ল্যানড প্যারেন্টহুড, ডেল ও টাটা টেকনোলজিসের মতো বড় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালিয়েছিল। বাবুক-বিয়র্কা, ফাংকসেক, এইটবেস ও ক্যাকটাসের মতো গোষ্ঠীও নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।
তবে বড় গোষ্ঠীগুলো হারিয়ে গেলেও নতুন গোষ্ঠী দ্রুত সক্রিয় হয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে সক্রিয় র্যানসমওয়্যার গোষ্ঠী ছিল প্রায় ৭০টি, ২০২৫ সালে তা বেড়ে ১২৬-১৪১টিতে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছর কিলিন, ক্লপ, প্লে ও সেফপের মতো গোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।
এমসিসফট বলছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাপ কিছুটা প্রভাব ফেললেও র্যানসমওয়্যার ঠেকাতে আরো সমন্বিত ও শক্ত পদক্ষেপ জরুরি।