মেটার নতুন মিক্সড রিয়ালিটি চশমা বাজারে আনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এ চশমা উন্মোচনের কথা থাকলেও, এখন তা পিছিয়ে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে করা হয়েছে। চশমাটির সাংকেতিক নাম দেয়া হয়েছে ‘ফিনিক্স’। খবর টেকক্রাঞ্চ।
ফিনিক্স মূলত একটি মিক্সড রিয়ালিটি গ্লাস প্লাটফর্ম। এর ডিজাইন সাধারণ চশমার চেয়ে কমপ্যাক্ট হেডসেটের মতো। ওজন কমাতে ও তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এতে পাক আকৃতির (ছোট, গোল ও প্যাড বা ডিস্কের মতো) বাহ্যিক বিদ্যুৎ উৎস ব্যবহার হবে। এটি অ্যাপল ভিশন প্রোয়ের ব্যাটারি প্যাকের মতোই। এর ডিজাইন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মেটা উন্নত মাইক্রোডিসপ্লে, শক্তিশালী সেন্সর ও উচ্চক্ষমতার ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করতে যাচ্ছে।
বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেটার নির্বাহী কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ মেমোয় এ বিলম্বের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরো টেকসই ও উচ্চ মানের অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে সময় নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
মেটার মেটাভার্স প্রধান গ্যাব্রিয়েল অউল ও রায়ান কেয়ার্নস জানিয়েছেন, বাড়তি সময় পাওয়ায় সবকিছু আরো নিখুঁতভাবে তৈরি করার সুযোগ পাওয়া গেছে। মেটার এ বিলম্বের পেছনে আর্থিক চাপও রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। বহু বছরের বড় বিনিয়োগের পর মেটা তাদের মেটাভার্স সম্পর্কিত ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করছে। ২০২৩ সালে মেটার রিয়ালিটি ল্যাবস বিভাগে পরিচালন ব্যয় প্রায় ১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার লোকসান দেখেছে।
এদিকে বাজারের বর্তমান অবস্থা মেটার ওপর চাপ বাড়িয়েছে। আইডিসি ও কাউন্টারপয়েন্টসহ কয়েকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলছে, বিশ্বব্যাপী এআর ও ভিআর হেডসেটের বাৎসরিক সরবরাহ এখনো খুব কম। এটি ডেভেলপারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্মার্টফোন বাজারের তুলনায় ছোট ও উচ্চমূল্যের হার্ডওয়্যার বিনিয়োগকে কঠিন করে তোলে। অ্যাপল ভিশন প্রোও বাজারে কিছু সীমাবদ্ধতা দেখিয়েছে। যেমন ব্যয়বহুল মাইক্রোডিসপ্লের উৎপাদন সমস্যা ও তারযুক্ত ব্যাটারির কারণে আরামের ঘাটতি।