বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ায় দ্রুত আয় বাড়ছে ওপেনএআইয়ের। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক রাজস্ব আয় দাঁড়িয়েছে ১০ বিলিয়ন অর্থাৎ ১ হাজার কোটি ডলার। ছয় মাস আগেও তা ছিল ৫৫০ কোটি ডলার। খবর ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
বিশ্বজুড়ে চ্যাটজিপিটির ব্যবহার ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে থাকায় ওপেনএআই বলছে, ২০২৫ সালে বিনিয়োগকারীদের সামনে তারা ১ হাজার ২৭০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল, যা পূরণের পথে প্রতিষ্ঠানটি এখন ভালো অবস্থানে আছে।
এ রাজস্ব হিসাবের মধ্যে মাইক্রোসফটের কাছ থেকে পাওয়া লাইসেন্স ফি ও এককালীন বড় কোনো চুক্তির অর্থ অন্তর্ভুক্ত নয় বলে জানিয়েছেন ওপেনএআইয়ের এক মুখপাত্র।
২০২৩ সালে চ্যাটজিপিটির প্যারেন্ট কোম্পানিটি প্রায় ৫০০ কোটি ডলার লোকসানের মুখে পড়ে। তবে এ বছরের শুরু থেকে আয়ের প্রবৃদ্ধির কারণে ওপেনএআই অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়েও রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
ওপেনএআইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের মতো আয় করছে, যার বড় অংশ আসে কোড-জেনারেশন স্টার্টআপ থেকে।
চ্যাটজিপিটি চালু হওয়ার পর দুই বছরের মধ্যে ওপেনএআই ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন চালু করেছে। মার্চ পর্যন্ত সাপ্তাহিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল ৫০ কোটি।
বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তিতে ক্রমবর্ধমান চাহিদা, দ্রুত গ্রাহক বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজের কারণে ওপেনএআই সামনের বছরগুলোয় প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) ছাড়িয়ে এবার প্রথমবারের মতো হার্ডওয়্যারের জগতে প্রবেশ করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ছোট আকারের, স্ক্রিনবিহীন ও আইপড শাফলের মতো দেখতে ক্যামেরাযুক্ত ডিভাইসটি ডিজাইন করছেন অ্যাপলের সাবেক প্রধান ডিজাইনার জনি আইভ। ডিভাইস ২০২৭ সাল থেকে ব্যাপকভাবে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানা গেছে।
সিইও স্যাম অল্টম্যান বিশ্বাস করেন, এ ডিভাইসের মাধ্যমেই ওপেনএআইয়ের বাজারমূল্য ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে।