টানা দুই বছর পর চীনে আবারো আইফোন বিক্রিতে প্রবৃদ্ধি দেখল টেক জায়ান্ট অ্যাপল। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে চীনে আইফোনের বিক্রি ৮ শতাংশ বেড়েছে। বাজার গবেষণা সংস্থা কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর সিএনবিসি।
সংস্থাটি বলছে, অ্যাপলের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তির খবর। কারণ কয়েক বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের (এপ্রিল-জুন) পর এই প্রথমবার চীনে অ্যাপলের বিক্রি বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এবারের প্রবৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে মে মাসে দেয়া মূল্যছাড় ও পুরনো ফোনের বদলে নতুন ফোন কেনার জন্য বাড়তি ট্রেড-ইন সুবিধা।
কাউন্টারপয়েন্ট জানায়, মে মাসে চীনের বড় বড় ই-কমার্স প্লাটফর্মগুলো অ্যাপলের সর্বশেষ আইফোন ১৬ সিরিজে উল্লেখযোগ্য ছাড় দেয়। এ ছাড়ের সময়সূচি ছিল দেশটির জনপ্রিয় ‘৬১৮ শপিং ফেস্টিভ্যাল’-এর আগেই, যেখানে ব্যাপক হারে কেনাকাটা হয়ে থাকে।
কাউন্টারপয়েন্টের সহযোগী পরিচালক ইথান কিউ বলেন, ‘৬১৮ উৎসবের ঠিক এক সপ্তাহ আগে অ্যাপলের আইফোন মূল্যের সমন্বয় ছিল দারুণ সময়োপযোগী এবং এর ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।’
গবেষণা সংস্থাটি আরো জানায়, এ প্রবৃদ্ধি অ্যাপলের বিনিয়োগকারীদের জন্যও বড় সুসংবাদ। কারণ চলতি বছর শেয়ারবাজারে কোম্পানিটির শেয়ারদর প্রায় ১৫ শতাংশ কমে গিয়েছিল। তবে এটি ভালো খবর হলেও, বাজারে অ্যাপলকে এখনো কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারি ও আমেরিকায় আইফোন তৈরির চাপ অ্যাপলকে উদ্বেগে রেখেছে। অন্যদিকে চীনা স্মার্টফোন জায়ান্ট হুয়াওয়ের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন অ্যাপলের জন্য বড় বাধা তৈরি করেছে।
এদিকে চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে আবারো বাজারে শক্ত অবস্থানে ফিরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে হুয়াওয়ে একসময় চাপে থাকলেও ২০২৩ সালের শেষ দিকে নিজেদের তৈরি চিপসহ তারা নতুন ফোন বাজারে আনে, যা বেশ সাড়া ফেলে। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে হুয়াওয়ের বিক্রি ১২ শতাংশ বেড়েছে। চীনা বাজারে হিস্যা অনুযায়ী শীর্ষে রয়েছে হুয়াওয়ে, এরপর ভিভো এবং তৃতীয় অবস্থানে অ্যাপল।
কাউন্টারপয়েন্টের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ইভান লাম বলেন, ‘পুরনো হুয়াওয়ে ব্যবহারকারীরা নতুন ফোন কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এ ব্যবহারকারীরাই তাদের মূল শক্তি।’
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা জানান, তীব্র প্রতিযোগিতা থাকা সত্ত্বেও চীনে অ্যাপলের এ সাম্প্রতিক প্রবৃদ্ধি একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে তাদের আরো উদ্ভাবনী কৌশল গ্রহণ করতে হবে।