খোঁজ মিলল মহাবিশ্বে হারিয়ে যাওয়া সাধারণ পদার্থের

মহাবিশ্বে দুই ধরনের পদার্থ রয়েছে। একটি হলো অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার, যেটা সরাসরি দেখা যায় না। এটি শুধু মহাকর্ষীয় প্রভাবে ধরা পড়ে। আরেকটি হলো সাধারণ পদার্থ। যেমন— গ্যাস, ধূলিকণা, তারা, গ্রহ, এমনকি আমাদের শরীরের অংশ বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রও।

মহাবিশ্বে বহুদিন ধরেই এক প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছিল— আমরা যেসব সাধারণ পদার্থের কথা জানি, তার অর্ধেকের বেশি কোথায়? এবার সেই রহস্যের জবাব পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি তারা দূর মহাকাশ থেকে আসা ৬৯টি দ্রুত রেডিও তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে হারিয়ে যাওয়া সাধারণ পদার্থের অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই সাধারণ পদার্থ আসলে গ্যাস হিসেবে ছড়িয়ে আছে গ্যালাক্সিগুলোর মধ্যবর্তী ফাঁকা শূন্যস্থানে। এই হালকা গ্যাসকে বলা হয় আন্তঃগ্যালাকটিক মাধ্যম, যা এক ধরনের ছায়া বা কুয়াশার মতো কাজ করে।

মহাবিশ্বে দুই ধরনের পদার্থ রয়েছে। একটি হলো অদৃশ্য ডার্ক ম্যাটার, যেটা সরাসরি দেখা যায় না। এটি শুধু মহাকর্ষীয় প্রভাবে ধরা পড়ে। আরেকটি হলো সাধারণ পদার্থ। যেমন— গ্যাস, ধূলিকণা, তারা, গ্রহ, এমনকি আমাদের শরীরের অংশ বা ব্যবহৃত জিনিসপত্রও।

বিজ্ঞানীরা আগে থেকেই জানতেন, মহাবিশ্বে থাকা মোট পদার্থের মাত্র ১৫ শতাংশ সাধারণ। কিন্তু এর অর্ধেকের বেশি এতদিন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

এই পদার্থ শনাক্তে বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্ট’ বা এফআরবি নামের রেডিও তরঙ্গ। এগুলো হচ্ছে খুব দ্রুত ও শক্তিশালী রেডিও তরঙ্গ, যেগুলো বহু আলোকবর্ষ দূর থেকে আসে।

ধারণা করা হয়, চুম্বকীয় নিউট্রন তারকার কারণে এ ধরনের তরঙ্গ তৈরি হয়। এসব এফআরবি বিশ্লেষণ করা হয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি টেলিস্কোপ নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন টেলিস্কোপ ব্যবহার করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এসব রেডিও তরঙ্গ এসেছে ৯.১ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের স্থান থেকে। এসব তরঙ্গের গতিপথে যত পরিমাণ সাধারণ পদার্থ থাকার কথা, বিজ্ঞানীরা এবার সেটি পরিমাপ করতে সক্ষম হয়েছেন।

গবেষণায় দেখা যায়, এই সাধারণ পদার্থের ৭৬ শতাংশ রয়েছে গ্যালাক্সির বাইরের আন্তঃগ্যালাকটিক ফাঁকা স্থানে, ১৫ শতাংশ গ্যালাক্সির চারপাশের ‘হালো’তে আর ৯ শতাংশ রয়েছে গ্যালাক্সির ভেতরে তারকা বা গ্যাস হিসেবে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বিগ ব্যাংয়ের পর মহাবিশ্বে যে আলো ছড়িয়ে পড়ে, তা বিশ্লেষণের মাধ্যমে তারা আগে থেকেই জানতেন সাধারণ পদার্থের সর্বমোট পরিমাণ কত হওয়া উচিত। কিন্তু এতদিন সেটির বড় একটি অংশই অনুপস্থিত ছিল।

সাধারণ পদার্থ গঠিত হয় ব্যারিয়ন নামের একটি কণার মাধ্যমে। এর মধ্যে থাকে প্রোটন ও নিউট্রন। গ্যালাক্সির ভেতর থেকে এই পদার্থ নক্ষত্র বিস্ফোরণ বা ব্ল্যাক হোল থেকে নির্গত গ্যাসীয় নির্গমনের মাধ্যমে নিঃসরিত হয়। এ প্রক্রিয়াকে গবেষকেরা বার্প বলে থাকেন। আর এভাবেই নক্ষত্র বা তারকারা ছিটকে পড়ে দূর মহাকাশে ছড়িয়ে যায়।

গবেষকেরা মনে করছেন, এ আবিষ্কারের মাধ্যমে তারা এখন আরো বড় প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়ার পথে এগিয়ে যেতে পারবেন। যেমন— ডার্ক ম্যাটার আসলে কী আর সেটিকে সরাসরি শনাক্ত করা এত কঠিন কেন? এখন এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার কাজ আরো সহজ হতে পারে বলে তারা আশা করছেন।

—রয়টার্স অবলম্বনে

আরও