জল ও আকাশে সমান পারদর্শী যে ড্রোন

জাপানের দুটি কোম্পানি যৌথভাবে নতুন একটি ড্রোন তৈরি করেছে, যেটি আকাশ ও জল উভয় স্থানে সমান পারদর্শী।

জাপানের দুটি কোম্পানি যৌথভাবে নতুন একটি ড্রোন তৈরি করেছে, যেটি আকাশ ও জল উভয় স্থানে সমান পারদর্শী। জলে যেমন ভেসে বেড়াতে পারে, একইভাবে জল থেকে উড্ডয়ন ও অবতরণে সক্ষম। পেন্টা ওশান কনস্ট্রাকশন ও প্রোড্রোন কোম্পানি লিমিটেডের তৈরি করা ড্রোনটির নাম পেন্টা-ওশান ভ্যানগার্ড-ড্রোনঅ্যাকোয়া, সংক্ষেপে পিওভি-ডিএ। খবর গিজমোচায়না।

সমুদ্রবিজ্ঞানে জরিপের কাজে ব্যবহারযোগ্য বিশেষভাবে তৈরি ড্রোনটির রয়েছে যথেষ্ট সক্ষমতা ও বৈচিত্র্যতা। সমুদ্রপৃষ্ঠে নির্বিঘ্নে পর্যবেক্ষণমূলক কাজ করতে সক্ষম ড্রোনটিতে থাকছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গ্লোবাল ন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম (জিএনএসএস), বেশ গভীরে পরিমাপযোগ্য সাউন্ড নেভিগেশন অ্যান্ড রেঞ্জিং (সোনার) এবং উড্ডয়নের জন থ্রাস্টার প্রযুক্তি।

ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করতে হবে রিমোট কন্ট্রোল কনসোল। যার মাধ্যমে ড্রোনটিকে সমুদ্রপৃষ্ঠে পাঠিয়ে জলের গভীরতাসহ নানা তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ এবং তা দেখা যাবে। 

থ্রাস্টার ব্যবহার করে সমুদ্রপৃষ্ঠ উত্তাল থাকলেও ড্রোনটি নির্দিষ্ট স্থানে যেয়ে পর্যবেক্ষণের কাজ করতে পারবে। এ বিশেষ গুণের কারণে সমুদ্রের গভীর ও অগভীর উভয় স্থানের ম্যাপ তৈরি এবং সমুদ্রের ঢেউ পর্যবেক্ষণে সক্ষম পিওভি-ডিএ। সোনার প্রযুক্তি থাকার কারণে নির্মাণ প্রকল্পের অসমতল অংশের জরিপের কাজও অনায়াসে করতে পারবে ড্রোনটি।

কোম্পানি দুটি জানিয়েছে, গভীরতা পরিমাপে পিওভি-ডিএর নির্ভুলতার পরিসীমা কমবেশি ১০ সেন্টিমিটার। সমুদ্রের ঢেউ ও এর স্থায়িত্ব পরিমাপে জিএনএসএস প্রযুক্তি ব্যবহার করে ড্রোনটি তাৎক্ষণিক তথ্য দেখাতে পারে। এক্ষেত্রে প্রচলিত তরঙ্গ মিটারের তুলনায় নির্ভুলতার হার কমবেশি ১০ শতাংশ। এছাড়া উড্ডয়নকালে আশপাশের স্থিরচিত্রও পাঠাতে সক্ষম ড্রোনটি।

জরিপ কাজের পাশাপাশি দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ড্রোনটি ব্যবহার করা যাবে। তবে ড্রোনটি তৈরিতে কত খরচ হতে পারে এবং কবে নাগাদ বাজারে আনা হবে তা জাপানিজ কোম্পানি দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।

আরও