যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিশোর-কিশোরী প্রতিদিন এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছে। তাৎক্ষণিক তথ্য ও দৈনন্দিন কাজে নানা সহায়তা পাওয়ায় তরুণদের মধ্যে চ্যাটজিপিটির মতো চ্যাটবট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এসব চ্যাটবট ব্যবহার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এছাড়া প্রযুক্তিটি শিশুদের অশোভন বা অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। খবর সিএনএন।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ২৮ শতাংশ মার্কিন কিশোর-কিশোরী অন্তত একবার চ্যাটবট ব্যবহার করছে।
শিশুদের ক্ষেত্রে এআই চ্যাটবট মূলত পড়াশোনা বা স্কুলের কাজে সাহায্যের জন্য তৈরি বা প্রচার করা হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু কিশোর-কিশোরী চ্যাটবটকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু কিংবা সঙ্গী হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে এমন উদ্বেগও রয়েছে যে শিক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও চ্যাটবট শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
পিউ প্রায় ১ হাজার ৫০০ মার্কিন কিশোর-কিশোরীকে (১৩-১৭ বছর বয়সী) এ সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। নির্বাচিতদের লিঙ্গ, বয়স, বর্ণ, জাতিগত পটভূমি এবং পরিবারের আয় ভিন্ন ছিল।
সংস্থাটি বলছে, এআই চ্যাটবটগুলোর মধ্যে শিশুদের কাছে সবচেয়ে জনপ্রিয় চ্যাটজিপিটি। দেশটিতে ওপেনএআইয়ের এই চ্যাটবট ব্যবহার করছে প্রায় অর্ধেকেরও বেশি কিশোর-কিশোরী। অন্য জনপ্রিয় চ্যাটবটগুলো হলো গুগলের জেমিনি, মেটা এআই, মাইক্রোসফটের কোপাইলট, ক্যারেক্টার ডটএআই এবং অ্যানথ্রপিকের ক্লড।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সমান সংখ্যক কিশোরী ও কিশোর এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছে। ১৫-১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে (৬৮ শতাংশ) ১৩-১৪ বছর বয়সীদের (৫৭ শতাংশ) তুলনায় চ্যাটবট ব্যবহার করার প্রবণতা সামান্য বেশি। এছাড়া পরিবারের আয়ের ওপরও চ্যাটবট ব্যবহারের হার কম-বেশি হতে দেখা যায়।
পিউ রিসার্চের ফলাফল এমন সময় এসেছে যখন ওপেনএআইয়ের মতো চ্যাটবট নির্মাতা নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা সম্পর্কিত সমালোচনার মুখে রয়েছে। চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে গত আগস্টে ১৬ বছর বয়সী কিশোর অ্যাডাম রেইনের আত্মহত্যায় সহায়তার মামলা করেছিল পরিবার।
পরিবারটির অভিযোগে বলা হয়, তাদের ছেলে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য ও আত্মহত্যার বিষয়ে আলাপের পর নিজের জীবন শেষ করেছে। যদিও ওপেনএআইয়ের দাবি, কিশোরের মৃত্যুতে সংস্থাটির কোনো দায় নেই। কোম্পানিটির ভাষ্য, ‘রেইনে সঠিকভাবে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেনি।’ কিন্তু এর পরপর ওপেনএআই অভিভাবক নিয়ন্ত্রণ এবং বয়স সীমাবদ্ধতা ফিচার চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।
মেটার এআই চ্যাটবটও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে সমালোচিত হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, চ্যাটবটটি শিশুদের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বা অনুপযুক্ত যোগাযোগ করছে। এরপর নতুন এক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেয় সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্টটি। মেটা জানায়, শিগগিরই ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও মেটা এআই অ্যাপে চ্যাটবটের সঙ্গে সন্তানদের আলাপচারিতা নিয়ন্ত্রণ ও চাইলে বন্ধ করতে পারবেন অভিভাবকরা।
কিছু বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে স্কুলের কাজে এআই ব্যবহার প্রতারণা বা অসৎ কাজে উৎসাহ তৈরি করতে পারে। তবে অনেকে মনে করছেন, এই এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা নিজস্ব প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী শেখার সুযোগ পাচ্ছে।