ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের কাছে যেন এক সাধারণ সমস্যা। ফোনটি একেবারেই নতুন হোক বা কয়েক বছর পুরনো, অনেকেই মনে করেন সমস্যাটা হয়তো ফোনের মধ্যেই। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় চার্জ শেষ হওয়ার মূল কারণ বেশির ভাগ সময় ফোনের ভেতর লুকিয়ে থাকা কিছু অ্যাপ, যেগুলো ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে। ফলে ব্যাটারির শক্তি ক্ষয় হতে থাকে। প্রযুক্তি ওয়েবসাইট মেকইউজঅব এমন কিছু অ্যাপ নিয়ে আলোচনা করেছে—
ব্যাটারির অদৃশ্য শত্রু: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কিংবা ভারী গ্র্যাফিকসযুক্ত গেমসকে সাধারণত চার্জ তাড়াতাড়ি শেষ হওয়ার জন্য দায়ী করা হয়। সত্যি বলতে এগুলো অনেকটা শক্তি খরচ করে। তবে এর বাইরেও বেশকিছু অ্যাপ আছে, যেগুলো ব্যবহারকারীর অজান্তেই ব্যাকগ্রাউন্ডে চার্জ শেষ করছে। যেমন লোকেশনভিত্তিক অ্যাপ, গুগল ম্যাপসের মতো অ্যাপ সবসময় অবস্থান ট্র্যাক করে। আবার ফিটনেস অ্যাপ বা পেডোমিটার জিপিএস এবং স্মার্টওয়াচের সঙ্গে সংযুক্ত থেকে ব্যবহারকারীর কার্যক্রম রেকর্ড করে।
এমনকি মেসেজিং বা ই-মেইল অ্যাপের কথাও বলা যায়। তাৎক্ষণিক নোটিফিকেশন পেতে হলে এ ধরনের অ্যাপকে সারাক্ষণ চালু রাখতে হয়। ফলে অজান্তেই ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়।
কেন অ্যাপগুলো এত চার্জ ক্ষয় করে? সব অ্যাপ সমানভাবে ব্যাটারি খরচ করে না। গ্র্যাফিকসসমৃদ্ধ গেমস বা ছবি সম্পাদনার অ্যাপ চালানোর সময় চার্জ বেশি শেষ হবে, সেটিই স্বাভাবিক। তবে মূল সমস্যাটি লুকিয়ে থাকে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলমান নানা প্রক্রিয়ায়। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা তিনটি বড় কারণের কথা উল্লেখ করেছেন—
ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ ও সিংকিং: অনেক অ্যাপ নিয়মিত আপডেট বা ক্লাউড সিঙ্ক চেক করে। প্রতিটি কাজ ক্ষুদ্র মনে হলেও একসঙ্গে চলতে থাকলে তা বড় অংকের চার্জ খরচ করে।
অটো ডাউনলোড ও ব্যাকআপ: ইউটিউব মিউজিক, স্পটিফাই কিংবা নেটফ্লিক্সের মতো স্ট্রিমিং অ্যাপ প্রায়ই অফলাইনে ব্যবহারের জন্য ডাউনলোড করে রাখে।
লোকেশন সার্ভিস: আবহাওয়া, রাইডশেয়ারিং বা ফিটনেস অ্যাপ নিয়মিত জিপিএস ব্যবহার করে। একাধিক অ্যাপ একসঙ্গে চললে ব্যাটারির চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যায়।
যেসব অ্যাপ বেশি ক্ষতি করে: সংবাদমাধ্যমের অ্যাপ। কারণ লাইভ উইজেট সক্রিয় থাকলে বারবার নতুন খবর রিফ্রেশ করে। স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ট্র্যাকার, যা অনেক সময় ওয়ার্কআউটের বাইরে থাকলেও জিপিএস চালু রাখে। গুগল ড্রাইভ, ড্রপবক্স বা ওয়ানড্রাইভের মতো অ্যাপ অটো-সিঙ্ক ও ব্যাকআপ করে। এছাড়া স্ট্রিমিং অ্যাপ, স্মার্ট হোম অ্যাপ ও শপিং অ্যাপও ধীরে ধীরে চার্জ কমিয়ে দেয়।
সমাধান আছে ফোনেই: ভালো খবর হলো, স্মার্টফোনেই ব্যাটারি ব্যবহারের তালিকা দেখার সুবিধা আছে। সেটিংসে গিয়ে ‘ব্যাটারি’ অপশনে গিয়ে দেখা যাবে কোন অ্যাপ কতটুকু ব্যাটারি ব্যবহার করছে। সেখানে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের ব্যাকগ্রাউন্ড কার্যক্রম বা ব্যাটারি সেভার মোড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
অটো সিংক বন্ধ করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড রিফ্রেশ নিয়ন্ত্রণ করা বা লোকেশন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আনলে ফোনের চার্জ দীর্ঘস্থায়ী হবে।
ফোনের ব্যাটারি বাঁচানোর সহজ উপায়: অনেকে মনে করেন, ফোনে ত্রুটি থাকার কারণেই চার্জ দ্রুত শেষ হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে কয়েকটি সহজ পরিবর্তনেই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। নতুন অ্যাপ ইনস্টল করার পর পরই যদি এর ব্যাকগ্রাউন্ড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে নেয়া হয়, তবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাড়তি ব্যাটারি সময় পাওয়া সম্ভব। তাই লুকানো ‘চার্জখেকো’ অ্যাপগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা স্মার্টফোন ব্যবহারের অন্যতম কার্যকর কৌশল।
—মেকইউজঅব অবলম্বনে