ভিডিও গেম ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত উন্মোচন হতে চলেছে রকস্টারের পরবর্তী গ্র্যান্ড থেফট অটো (জিটিএ) গেমটি। নানা গুঞ্জন, সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ার করা মিম ও বিভিন্ন আলোচনা মাধ্যমে জিটিএ সিক্স মুক্তির আগে থেকেই বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আসন্ন গেমটি নিয়ে সম্প্রতি বেশকিছু তথ্য প্রকাশ করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গিজমোচায়না।
প্রতিবেদন বলছে, জিটিএর নতুন সংস্করণের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দিকগুলোর একটি হলো ভাইস সিটিতে ফিরে যাওয়া। এটি রকস্টার গেমসের তৈরি মায়ামির শহরের একটি কাল্পনিক সংস্করণ, যা এবার লিওনিডা নামের একটি অবাস্তব অঙ্গরাজ্যের অংশ হবে। এছাড়া প্রথমবারের মতো মূল জিটিএ (থ্রি, ফোর ও ফাইভ) সিরিজে একটি প্রধান নারী চরিত্র থাকবে, যার নাম দেয়া হয়েছে লুসিয়া। যদিও লুসিয়ার সঙ্গী সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে গেমসংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, জিটিএ-ভাইভের মতো এ গেমেও খেলোয়াড়রা দুটি চরিত্র পরিবর্তন করে খেলতে পারবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গেমটি আধুনিক সংস্কৃতির ব্যঙ্গাত্মক উপস্থাপন করবে, যেখানে ইন্টারনেট মিম ও ইনফ্লুয়েন্সার সংস্কৃতির উল্লেখ থাকবে। যেহেতু জিটিএর পূর্ববর্তী সংস্করণটি ১২ বছর আগে মুক্তি পায়, গেমাররা আশা করছেন যে জিটিএ সিক্স আধুনিক সময় ও প্রযুক্তিকে ফুটিয়ে তুলবে।
২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রথম ট্রেলার প্রকাশের পর গেমটির প্রকাশক রকস্টার গেমস এ বিষয়ে তেমন নতুন কোনো তথ্য দেয়নি। তবে চলতি বছরের শেষে মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিক করেছে কোম্পানিটি। সম্প্রতি স্পেনের এক অনলাইন গেমিং স্টোর ও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ বলছে, জিটিএ সিরিজের নতুন সংস্করণটি আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেতে পারে। কারণ এদিন জিটিএ ফাইভ প্রকাশের ১২ বছর পূর্ণ হবে।
গেমারদের মতে, জিটিএ ফাইভ অনেক বৈশিষ্ট্য ও বিভিন্ন কার্যকলাপের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের চমৎকার অভিজ্ঞতা দিয়েছিল। এবার নতুন প্রজন্মের জিটিএ সে অভিজ্ঞতাকে আরো সমৃদ্ধ করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। গেমটিতে এনপিসি ও এআই চরিত্রগুলোর আরো বাস্তবসম্মত আচরণ লক্ষ করা যেতে পারে।
রকস্টার নিজেদের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী গেম হিসেবে জিটিএ তৈরি করছে, যেখানে গ্র্যাফিকসের ব্যাপক অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে বলে প্রত্যাশা গেম শিল্পসংশ্লিষ্টদের। সর্বশেষ জিটিএ গেম প্রকাশিত হয়েছিল এক দশকেরও বেশি সময় আগে। তাই নতুন গেমটি উন্নত গ্র্যাফিকস, বাস্তবসম্মত আলোছায়ার প্রভাব (রে ট্রেসিং) ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে গেমিং শিল্পে নতুন চমক নিয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।