নতুন বা পুরনো আইফোন কেনার আগে যা জানা জরুরি

অ্যাপলের আইফোন সম্পর্কে প্রধান একটি অভিযোগ হচ্ছে এর দাম তুলনামূলক বেশি।

অ্যাপলের আইফোন সম্পর্কে প্রধান একটি অভিযোগ হচ্ছে এর দাম তুলনামূলক বেশি। কেউ কেউ এটিকে বিলাসবহুল ডিভাইস হিসেবে দেখে থাকেন। এর থেকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখা হয় সীমিত কাস্টমাইজেশন ফিচারকে। পাশাপাশি ফোনটির মেরামতও তুলনামূলক ব্যয়বহুল। তবু বরাবরই বিক্রির দিক থেকে শীর্ষস্থানে থাকে আইফোন। অনেকেই রয়েছেন যারা পরবর্তী ফোন হিসেবে আইফোন বেছে নেয়ার পরিকল্পনা করছেন। নতুন বা পুরনো আইফোন নেয়ার আগে অবশ্যই হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইকোসিস্টেমসহ বেশকিছু বিষয় সম্পর্কে ধারণা থাকা জরুরি।

ইউএসবি-সি পোর্ট

লাইটনিং পোর্ট থেকে ইউএসবি-সি পোর্টে ফিরেছে আইফোন। আইফোন ১৫ মডেল থেকে ইউএসবি-সি পোর্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে তথ্য আদান-প্রদানে মডেলগুলোয় একই গতি পাওয়া যাবে না। যেমন আইফোন ১৬ ও ১৬ প্লাস মডেলে ইউএসবি ২ (প্রতি সেকেন্ডে ৪৮০ মেগাবিট) সমর্থন করে। অন্যদিকে আইফোন ১৬ প্রো ও ১৬ প্রো ম্যাক্স মডেলে ইউএসবি ৩ (প্রতি সেকেন্ডে ১০ গিগাবিট) সমর্থন করে।

সফটওয়্যার আপডেটের সময়সীমা

বাজারে নানা ব্র্যান্ডের অসংখ্য ভালো স্মার্টফোন রয়েছে। তবে গড়ে ব্যবহারকারীদের ফোন পরিবর্তন করার সময় আগের চেয়ে বেড়েছে। স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা আড়াই বছরে একবার স্মার্টফোন পরিবর্তন করে থাকেন। উন্নয়নশীল দেশগুলোয় এ সময় আরো বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হার্ডওয়্যারের পাশাপাশি সফটওয়্যার অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে একজন গ্রাহক কত সময় পর ফোন পরিবর্তন করবেন। আইফোন সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা হালনাগাদ পাঁচ বছর পর্যন্ত দিয়ে থাকে। অন্যদিকে স্যামসাং ও গুগলের নতুন ফোনে সাত বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার হালনাগাদ দেয়া হয়। ফলে নতুন ফোন কেনার সময় বিষয়টি আমলে নেয়া জরুরি।

অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সমর্থন

অ্যাপলের নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহার বা অ্যাসাসিনস ক্রিড শ্যাডোসের মতো এএএ রেটেড গেম খেলার জন্য আইফোন ১৫ প্রো বা এর পরবর্তী মডেলের দরকার হবে। অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স এখনো বেটা সংস্করণে ব্যবহার করা যাচ্ছে। অন্যদিকে এএএ গেমের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। সেক্ষেত্রে এসব ফিচার খুব বেশি জরুরি না হলে পুরনো মডেল কেনার মাধ্যমে অর্থ বাঁচানো যেতে পারে।

তৃতীয় পক্ষের ও ডিফল্ট অ্যাপের ব্যবহার

তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইফোনের তুলনায় অ্যান্ড্রয়েডে স্বাধীনতা বেশি। আইফোনে তৃতীয় পক্ষের অ্যাপ ব্যবহারে অ্যাপ স্টোরের কঠোর নীতি মেনে চলতে হয়। যদিও অ্যান্ড্রয়েডে এক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে, তবে নানা ধরনের অ্যাপও ব্যবহার করার সুযোগ থাকে। অন্যদিকে ব্রাউজার ও ই-মেইলের ডিফল্ট অ্যাপ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ব্যতীত দেশগুলোয় অন্য ডিফল্ট অ্যাপ পরিবর্তন করা যায় না। অ্যান্ড্রয়েডে তা বেশ সহজেই করা যায়। সুতরাং, অ্যাপের ব্যবহারভেদ ফোন নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

আইফোন মেরামত ব্যয়বহুল

আইফোনের যন্ত্রাংশ ও মেরামতে মোটা অংকের খরচ করতে হয়। অনেকে মজা করে বলে থাকেন আইফোনের ডিসপ্লে ঠিক করতে যে খরচ হবে তার চেয়ে নতুন একটি ফোন কেনা ভালো! তাছাড়া মেরামতে কোনো ত্রুটি হলে বা ভালোমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহার না করলে কিছু ফিচার ব্যবহার নাও করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনের মেরামত তুলনামূলক সহজ এবং খরচও কম। স্ল্যাশগিয়ার অবলম্বনে

আরও