উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সবসময়ই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। নতুন সংস্করণে একদিকে নতুন ফিচার আসে, অন্যদিকে কিছু পুরনো ফিচার বিদায় নেয়। যেগুলোর সঙ্গে একসময় ব্যবহারকারীরা অভ্যস্ত ছিলেন, সেগুলো এখন আর নেই বা নতুন রূপে ফিরে এসেছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেকইউজঅবের প্রতিবেদন অবলম্বনে উইন্ডোজ থেকে হারিয়ে যাওয়া তেমন ছয়টি ফিচার সম্পর্কে তুলে ধরা হলো—
১. ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার
দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ছিল উইন্ডোজ ব্যবহারকারীদের প্রধান ওয়েব ব্রাউজার। কিন্তু ধীরে ধীরে এতে ধীরগতি ও নিরাপত্তা সমস্যার অভিযোগ আসতে শুরু করে। অবশেষে ২০২২ সালে ব্রাউজারটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে পাঠানো হয়। এর জায়গায় এসেছে মাইক্রোসফট এজ। নতুন ব্রাউজারটি তৈরি হয়েছে ক্রোমিয়াম প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে। ফলে গতি বেড়েছে, নিরাপত্তা উন্নত হয়েছে এবং এতে ক্রোম এক্সটেনশন ব্যবহারেরও সুযোগ রয়েছে।
২. ওয়ার্ডপ্যাড
ওয়ার্ডপ্যাডের যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালে। এটিকে বলা যেতে পারে নোটপ্যাড ও ওয়ার্ডের মাঝামাঝি সরল একটি টেক্সট এডিটর। ২০২৩ সালে মাইক্রোসফট ঘোষণা করে, ওয়ার্ডপ্যাড আর থাকবে না। এখন সাধারণ কাজের জন্য রয়েছে নোটপ্যাড, আর জটিল লেখালেখির জন্য মাইক্রোসফট ওয়ার্ড। বর্তমানে নোটপ্যাড আরো উন্নত হয়েছে।
৩. করটানা
করটানাকে একসময় সিরি বা অ্যালেক্সার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল মাইক্রোসফট। তবে জনপ্রিয়তা না পাওয়ায় ফিচারটি সরিয়ে নেয়া হয়। বর্তমানে এর জায়গায় এসেছে কো-পাইলট। এটি মাইক্রোসফটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সহকারী।
৪. উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার
একসময় গান শোনা, সিনেমা দেখা কিংবা সিডি বার্ন করার জন্য সবার পছন্দ ছিল উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার। কিন্তু নতুন নানা ফাইল ফরম্যাট আর স্ট্রিমিংয়ের যুগে এটি আর কার্যকর নয়। বর্তমানে উইন্ডোজ ১১-তে এসেছে নতুন ‘মিডিয়া প্লেয়ার’। এতে রয়েছে আধুনিক ডিজাইন, বেশি ফাইল ফরম্যাট সমর্থন ও ভিডিও ব্যবস্থাপনার সুযোগ।
৫. এরো গ্লাস → ফ্লুয়েন্ট ডিজাইন
উইন্ডোজ ভিস্তা ও উইন্ডোজ ৭-এ ইন্টারফেস ‘এরো গ্লাস’ বেশ জনপ্রিয় ছিল। কাচের মতো স্বচ্ছ ও ঝলমলে নকশার কারণে ব্যবহারকারীরা এটিকে ভবিষ্যতের ফিচার মনে করতেন। তবে এতে অতিরিক্ত গ্রাফিক্যাল শক্তি খরচ হতো। উইন্ডোজ ৮ থেকে ধীরে ধীরে এটি বাদ দেয়া হয়। এখন উইন্ডোজ ১০ ও ১১-তে এসেছে ফ্লুয়েন্ট ডিজাইন, যেখানে স্বচ্ছতা ও গভীরতা রাখা হয়েছে, তবে কম গ্রাফিক্যাল শক্তি খরচ হয়।
৬. উইন্ডোজ ফটো ভিউয়ার
পুরনো ফটো ভিউয়ার কম স্টোরেজ ব্যবহার ও দ্রুত কাজ করত। ছবি দেখার জন্য অনেকেই এটিকে আদর্শ ফটো ভিউয়ার সফটওয়্যার মনে করতেন। কিন্তু উইন্ডোজ ১০ থেকে যুক্ত হয়েছে নতুন ফটোজ সফটওয়্যার। এতে ছবি দেখার পাশাপাশি ক্রপ, ঘোরানো বা উজ্জ্বলতা বাড়ানোর মতো এডিটিং টুল রয়েছে। যদিও অনেক ব্যবহারকারী মনে করেন, এটি আগের ভিউয়ারের মতো দ্রুত নয়।
বিশ্লেষকরা বলেন, প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে সময়ের দাবি। নতুন প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীর চাহিদা মেটাতে মাইক্রোসফট পুরনো ফিচার সরিয়ে নতুন সমাধান দিচ্ছে। হয়তো আগামী দিনে আরো কিছু পরিচিত ফিচার হারিয়ে যাবে।