২৩ বছরে হিমালয়ে সর্বনিম্ন তুষারপাত

আইসিআইএমওডির গবেষকরা জানান, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে মৌসুমি তুষারপাতের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তুষারের স্থায়ীত্ব (মাটিতে তুষার থাকার সময়কাল) স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে, যা গত ২৩ বছরে সর্বনিম্ন। টানা তৃতীয় বছর এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এশিয়ার সর্ববৃহৎ পর্বতমালা হিন্দুকুশ-হিমালয়ে গত ২৩ বছরে সর্বনিম্ন তুষারপাত হয়েছে। এতে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের নিরাপদ পানির উৎস হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।

সোমবার (২১ এপ্রিল) এমনটিই জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের (আইসিআইএমওডি) গবেষকরা। খবর ডন

আফগানিস্তান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হিন্দুকুশ-হিমালয় পর্বতমালা আর্কটিক ও অ্যান্টার্কটিকার পরে বরফ ও তুষারের সবচেয়ে বড় মজুদস্থল। একই সঙ্গে প্রায় দুই বিলিয়ন মানুষের নিরাপদ ও সুপেয় পানির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

আইসিআইএমওডির গবেষকরা জানান, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে মৌসুমি তুষারপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তুষারের স্থায়ীত্ব (মাটিতে তুষার থাকার সময়কাল) স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে, যা গত ২৩ বছরে সর্বনিম্ন। টানা তৃতীয় বছর এ প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ক্রমাগত তুষারপাত হ্রাসের কারণে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়া, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা বাড়ার এবং খরার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনের প্রধান লেখক শের মোহাম্মদ বলেন, ‘এ বছর জানুয়ারির শেষদিকে তুষারপাত শুরু হয় ও পুরো শীতজুড়েই এর পরিমাণ গড়পড়তা কম ছিল।’

এরই মধ্যে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ খরার সতর্কতা জারি করেছে। ফসল ও পানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের মানুষজ এরই মধ্যে আগের থেকে বেশি, দীর্ঘ ও ঘন ঘন তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছে।

আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, ভারত, মিয়ানমার, নেপাল ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃসরকারি সংস্থা আইসিআইএমওডি ১২টি প্রধান নদী অববাহিকার ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোকে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করা, খরা মোকাবেলায় প্রস্তুতি জোরদার করা, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ দুটি নদী, মেকং ও সালউইন অববাহিকায় তুষারঢাকা এলাকা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

আইসিআইএমওডির মহাপরিচালক পেমা গিয়ামটসো দীর্ঘমেয়াদি বরফের স্বল্পতা মোকাবেলায় নীতিমালায় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘কার্বন নিঃসরণ এরই মধ্যে এইচকেএইচে (হিন্দুকুশ-হিমালয়) নিয়মিত তুষারপাতে অস্বাভাবিকতার এক অপরিবর্তনীয় ধারা সৃষ্টি করেছে।’

জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) গত মাসে জানায়, গত ছয় বছরের মধ্যে পাঁচ বছরেই হিমবাহ সবচেয়ে দ্রুতগতিতে গলেছে। আর সবচেয়ে বেশি জলবায়ু-সম্পর্কিত দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চল হলো এশিয়া।

আরও