যুক্তরাষ্ট্রে ইন্টেলের সেমিকন্ডাক্টর ফ্যাব্রিকেশন প্লান্ট বা চিপ তৈরির কারখানা পরিচালনার জন্য একটি যৌথ উদ্যোগ গঠনের প্রাথমিক চুক্তিতে পৌঁছেছে ইন্টেল ও টিএসএমসি। বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই চিপ প্রস্তুতকারকের এ অংশীদারত্ব উন্নত চিপ উৎপাদন বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে আশাবাদী প্রযুক্তিসংশ্লিষ্টরা। উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সেমিকন্ডাক্টরকে বিশ্বব্যাপী আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। দি ইনফরমেশনের বরাতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন বলছে, সেমিকন্ডাক্টর জগৎ এক বা দুই ন্যানোমিটার সংকুচিত হয়ে এসেছে। দুই চিপ নির্মাতার চুক্তির মাধ্যমে প্রযুক্তির অগ্রগতি ত্বরান্বিত হতে পারে, ফলে চিপগুলো আরো ছোট ও শক্তিশালী হবে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তাইওয়ানের শীর্ষ চিপ নির্মাতা টিএসএমসি নতুন যৌথ প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ মালিকানা পাবে বলে জানা গেছে। বাকি ৮০ শতাংশ কারা পাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। চলতি বছরের শুরুতে টিএসমসি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেশ কয়েকটি বড় ফ্যাবলেস চিপ ডিজাইন কোম্পানি (নিজস্ব চিপ তৈরির কারখানা নেই), যেমন এসমডি, ব্রডকম, এনভিডিয়া ও কোয়ালকমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা করে বলে একাধিক প্রতিবেদনে উঠে আসে। তবে পরে এনভিডিয়া ও টিএসএমসির এক পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এ আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ইন্টেলের চলমান কারখানা পরিচালনাসংক্রান্ত সমস্যাগুলো সমাধানে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার, বিশেষ করে হোয়াইট হাউজ ও কমার্স ডিপার্টমেন্ট এ উদ্যোগে ভূমিকা রেখেছে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এ অংশীদারত্ব ইন্টেলকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করবে। কারণ পণ্যের গুণগত মান কিংবা চিপ তৈরির প্রযুক্তিতে এখনো পিছিয়ে রয়েছে ইন্টেল। একই সঙ্গে বর্তমান মার্কিন সরকার চায় না কোম্পানির ফ্যাক্টরিগুলো কোনো বিদেশী বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে টিএসএমসির হাতে বিক্রি হোক।
তবে টিএসএমসি ঠিক কীভাবে ইন্টেলের মার্কিন ফ্যাক্টরিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এসব কারখানা নির্মাণে খরচ হয়েছে হাজার হাজার কোটি ডলার এবং এর মধ্যে বেশির ভাগ শুধু ইন্টেলের নিজস্ব প্রসেসর তৈরির জন্যই উপযোগী।
এদিকে গত বছর এক্সিনোস প্রসেসর তৈরিতে টিএসএমসির সঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনার কথা জানায় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় স্যামসাংয়ের এক্সিনোস চিপ অ্যাপল ও কোয়ালকমের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে পিছিয়ে ছিল। তাই কোম্পানিটি টিএসএমসির সহায়তায় নিজেদের চিপ আরো উন্নত করার পরিকল্পনা করছে।