স্ক্রিনশট পড়তে সক্ষম ম্যালওয়্যার শনাক্ত আইওএসে

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে হ্যাকার ও ম্যালওয়্যারের সক্ষমতা আরো উন্নত ও জটিল হয়ে উঠছে।

প্রযুক্তির উৎকর্ষের সঙ্গে সঙ্গে হ্যাকার ও ম্যালওয়্যারের সক্ষমতা আরো উন্নত ও জটিল হয়ে উঠছে। এতে সাইবার নিরাপত্তায় পরিবর্তন আসছে। সম্প্রতি সাইবার সিকিউরিটি কোম্পানি ক্যাসপারস্কির গবেষকরা ‘স্পার্কক্যাট’ নামের একটি নতুন আইওএস প্লাটফর্মের ম্যালওয়্যার শনাক্ত করেছেন, যা অ্যাপ স্টোরের কিছু সন্দেহজনক অ্যাপে লুকিয়ে থাকে। এ ম্যালওয়্যার আক্রান্ত ডিভাইসের স্ক্রিনশটের তথ্য পড়তে পারে। খবর গিজচায়না।

গবেষকরা এই প্রথম আইওএস প্লাটফর্মে এ ধরনের ম্যালওয়্যার শনাক্ত করলেন। ম্যালওয়্যারটি অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন (ওসিআর) প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্ক্রিনশট স্ক্যান করে সংবেদনশীল তথ্য খুঁজে বের করে। বিশেষ করে ক্রিপ্টো ওয়ালেট-সংক্রান্ত তথ্য খোঁজাই এর প্রধান লক্ষ্য, যা হ্যাকারদের বিটকয়েন ও অন্যান্য ডিজিটাল সম্পদ চুরি করতে সহায়তা করে।

কামকাম, উইটিংক, এনিজিপিটিসহ কিছু সংক্রমিত অ্যাপে একটি ক্ষতিকারক মডিউল পাওয়া গেছে, যা গুগলের এমএল কিট ওসিআর প্লাগ-ইন ব্যবহার করে ছবি স্ক্যান করতে পারে। যদি এটি ক্রিপ্টো ওয়ালেটের স্ক্রিনশট শনাক্ত করে, তবে ম্যালওয়্যারটি সে তথ্য হ্যাকার-নিয়ন্ত্রিত সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়। স্পার্কক্যাট ২০২৪ সালের মার্চ থেকেই সক্রিয় বলে জানা গেছে। তবে ২০২৩ সালে অ্যান্ড্রয়েড ও কম্পিউটারে হামলার খবর পাওয়া যায়।

যখন এ অ্যাপগুলো ইনস্টল করা হয়, তখন ছবির অ্যাকসেসের অনুমতি চায়। যদি ব্যবহারকারী অনুমতি দেন তবে অ্যাপগুলো ছবি স্ক্যান করে গুরুত্বপূর্ণ লেখা খুঁজে বের করে, আর তা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এ অ্যাপগুলোর কিছু এখনো অ্যাপ স্টোরে রয়েছে। এগুলো প্রধানত ইউরোপ ও এশিয়ার মানুষকে লক্ষ্য করছে। যদিও এগুলো ক্রিপ্টো-সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেয়ার কাজ করে, তবে পাসওয়ার্ডসহ অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যও চুরি করতে পারে।

অ্যাপলের কঠোর অ্যাপ যাচাই ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও স্পার্কক্যাট ম্যালওয়্যারটি অ্যাপ স্টোরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনক। কারণ অনেক আইফোন ব্যবহারকারী মনে করেন যে তাদের ডিভাইস ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার থেকে নিরাপদ। এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্ক্রিনশট ফটো লাইব্রেরিতে সংরক্ষণ না করার পরামর্শ দিয়েছে ক্যাসপারস্কি।

আরও