ফ্যাক্টচেক করতে গিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে গ্রোক

গবেষকদের দাবি, এআই চ্যাটবট গ্রোক এখন হয়ে উঠেছে তথ্য বিভ্রান্তির উৎস।

চলতি বছরের মার্চে গ্রোক চালু হওয়ার পর থেকে এক্স ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন পোস্টে কী ওয়ার্ড ট্যাগ করে তাৎক্ষণিক সত্যতা যাচাই করতে চাইছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই গ্রোক ভুল তথ্য দিচ্ছে।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রোক’ ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দ্রুত ফ্যাক্টচেকিংয়ের জন্য তৈরি এই টুলটি এখন ভুল তথ্য দিয়ে গুজব ছড়ানোর মাধ্যম হয়ে উঠেছে। খবর আল জাজিরা।

গবেষক ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সত্য যাচাইয়ের বদলে গ্রোক নিজেই হয়ে উঠছে ভুল তথ্যের কারখানা।

সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন নিয়ে গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এক্সে একটি ছবি পোস্ট করেন। তাতে দেখা যায়, কিছু সৈন্য মেঝেতে ঘুমিয়ে আছেন। ব্যবহারকারীরা ছবিটির সত্যতা জানতে গ্রোককে ট্যাগ করলে, চ্যাটবটটি প্রথমে জানায়, এটি আফগানিস্তানের পুরনো ছবি। পরে ভুল স্বীকার করলেও পরে নিরপেক্ষ ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা পলিটিফ্যাক্ট জানায়, ছবিটি সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলে প্রকাশিত হয়েছিল।

চলতি বছরের মার্চে গ্রোক চালু হওয়ার পর থেকে এক্স ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন পোস্টে কী ওয়ার্ড ট্যাগ করে তাৎক্ষণিক সত্যতা যাচাই করতে চাইছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই গ্রোক ভুল তথ্য দিচ্ছে।

এ বিষয়ে গবেষক থিওডোরা স্কিয়াডাস বলেন, মানুষ ফ্যাক্টচেকের জন্য এআইয়ের ওপর নির্ভর করলে এআই যদি ভুল দেয়, সেটা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্রোকের মূল সমস্যা এর প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতে। এটি ইন্টারনেটের তথ্য থেকে পরবর্তী শব্দ অনুমান করে উত্তর তৈরি করে। ফলে ভুল বা পক্ষপাতদুষ্ট তথ্য সহজেই ঢুকে পড়ে। এর ওপর রয়েছে মাস্কের নিজস্ব নির্দেশনা। গ্রোক যেন রাজনৈতিক শালীনতা অনুসরণ না করে ও তথাকথিত মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে সন্দেহের চোখে দেখে। এর ফলে চ্যাটবটটি কখনো হিটলারের প্রশংসা করেছে, আবার কখনো সাংবাদিকদের পাকিস্তানি গুপ্তচর বলে অপপ্রচার চালিয়েছে।

আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এক্সের একটি পোস্টে ৪০০ এর বেশি ব্যবহারকারী কেবল সত্য যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে গ্রোককে ট্যাগ করেছেন। এমনকি ট্রাম্প-এপস্টিন সম্পর্কিত মাস্কের এক পোস্টে ৩ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী গ্রোককে ট্যাগ করে তথ্য জানতে চেয়েছেন।

ডিজিটাল ফরেনসিক রিসার্চ ল্যাব বলছে, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে গ্রোক ব্যর্থ হয়েছে। ওয়াশিংটনের একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় এক ট্রান্সজেন্ডার পাইলটকে ভুলভাবে দায়ী করেছিল চ্যাটবটটি।

গবেষকেরা বলছেন, সম্প্রতি চালু হওয়া গ্রোক-৪ আরো বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। এক গবেষণায় দেখা যায়, এটি যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে ইলন মাস্কের মতামতের সঙ্গে মিল খোঁজে। এমনকি কিছু উত্তরে ৬৪টি উৎসের মধ্যে ৫৪টিই ছিল মাস্ক সংশ্লিষ্ট।

আরও