বাংলাদেশে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য হুয়াওয়ে

২০১৮ সালে বাংলাদেশ যখন মাত্র ফোরজি যুগে প্রবেশ করেছে তখন হুয়াওয়ে ফাইভজি ট্রায়াল সম্পন্ন করে। এরই ধারাবাহিকতায়, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত টেলিকম খাতের সঙ্গে এদেশের টেলিকম খাতকে একই কাতারে এনে দাঁড় করাতে ২০২১ সালে ফাইভজি প্রযুক্তি উদ্বোধন করা হয়। সম্ভাবনা তৈরি হয় শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা এমনকি চিকিৎসা, পরিবহন এবং অন্যান্য খাতে একে কাজে লাগানোর

‘HUAWEI’— প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আমরা প্রায় সকলেই জানি। এরমধ্যে বেশির ভাগ মানুষই একে চিনে একটি মোবাইল ফোন উৎপাদনকারী কোম্পানি হিসেবে। আবার এটাও অনেকে জানে যে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় নেটওয়ার্ক সুবিধা পৌঁছে দিতে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানগুলোকে টেলিযোগাযোগ প্রযুক্তি সরবরাহ করে এই প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এগুলো ছাড়াও আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে বিস্তৃত পরিসরে কাজ করে থাকে হুয়াওয়ে। সব মিলিয়ে হুয়াওয়ের মূলত রয়েছে পাঁচটি বিভাগ- আইসিটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কনজ্যুমার, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল পাওয়ার, ইন্টেলিজেন্ট অটোমোটিভ সল্যুশন্স।

১৯৮৭ সালে মাত্র ২০ হাজার চীনা ইউয়ান (বর্তমানে বাংলাদেশি ৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা) নিয়ে চীনে যাত্রা শুরু করা হুয়াওয়ে গত বছর শুধু গবেষণা ও উন্নয়নেই বিনিয়োগ করেছে ১৬৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন চীনা ইউয়ান (প্রায় ২ হাজার ৮০০ বিলিয়ন টাকা)। এখানে বর্তমানে কর্মীসংখ্যা দুই লাখের বেশি, যার ৫৫% কাজ করে গবেষণা ও উন্নয়নে।

আজ বিশ্বজুড়ে ১৭০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের মতো বাংলাদেশেও টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেড় যুগেরও বেশি সময় থেকে সর্বাধুনিক পণ্য ও সেবা দিয়ে যাচ্ছে হুয়াওয়ে। বলা যায়, শুরু থেকেই প্রতিষ্ঠানটি শুধু প্রযুক্তি সরবরাহকারীর ভূমিকায় ছিল না, বরং বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতিতে এক বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। টেলিকম সেবার অবকাঠামো থেকে শুরু করে প্রযুক্তিসমৃদ্ধ বাংলাদেশ নির্মাণের প্রতিটি স্তরেই হুয়াওয়ের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক লক্ষ্য অনুসারে বাংলাদেশের জন্য মূল লক্ষ্য হলো ‘বিল্ডিং এ ফুললি কানেক্টেড ইন্টেলিজেন্ট বাংলাদেশ’ বা ‘একটি সম্পূর্ণ সংযুক্ত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বাংলাদেশ গঠন’।

প্রথম দিকে বেশ কয়েক বছর এই প্রতিষ্ঠান সময় নেয় বাংলাদশের টেলিযোগাযোগ খাতকে পর্যবেক্ষণ করতে। উদ্দেশ্য ছিল কীভাবে এই খাতকে এগিয়ে নেয়া যায় তা খুঁজে বের করা। ২০০৩-০৪ সালের দিকে বাংলাদেশের টেলিকম খাতে মোবাইল ফোনের কলরেট উল্লেখযোগ্য হারে কমতে শুরু করে। টেলিকম অপারেটরদের সাশ্রয়ী প্রযুক্তিগত সুবিধা সরবরাহের মাধ্যমে এই উদ্যোগটির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব করে তুলেছে এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।

পরবর্তীতে দেশের টেলিকম খাতের জন্য ২০১৩ সালে থ্রিজি এবং পরবর্তীতে ফোরজি নেটওয়ার্ক চালু ও সম্প্রসারণেও হুয়াওয়ে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে। তখন মানুষের স্মার্টফোনের চাহিদা মেটাতে প্রতিনিয়ত দারুণ ক্যামেরা আর নতুন-নতুন ফিচারের স্মার্টফোন বাংলাদেশের বাজারে নিয়ে এসেছে হুয়াওয়ে। ফলশ্রুতিতে, একটি জনপ্রিয় মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড হিসেবে সকলের মনে জায়গা দখল করে নেয় প্রতিষ্ঠান।

২০১৮ সালের মার্কিন–চীন বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগপর্যন্ত স্মার্টফোনের বিশ্ববাজারে হুয়াওয়ের স্থান ছিল দ্বিতীয়। কিন্তু বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র চীনের কাছে প্রযুক্তি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে ধীরে ধীরে হুয়াওয়ের স্মার্টফোনের বাজার কিছুটা কমে গেলেও মাত্র ছয় মাসের মধ্যে নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম ‘হারমনি’ নিয়ে আসে হুয়াওয়ে। ২০২৩ সালের আগস্টে বিশ্ববাজারে নিয়ে আসে হুয়াওয়ে মেট ৬০ প্রো। এই স্মার্টফোন রীতিমতো বাজার মাত করে দেয়। এর পর আরও বেশ কিছু হ্যান্ডসেট নিয়ে এসেছে হুয়াওয়ে। সম্প্রতি বিশ্বে প্রথমবারের মতো তিন ভাঁজের স্মার্টফোন মেট এক্স এনেছে হুয়াওয়ে।

আবার বাংলাদেশের বিষয়ে ফিরে আসা যাক। ২০১৮ সালে দেশ যখন মাত্র ফোরজি যুগে প্রবেশ করেছে তখন প্রতিষ্ঠানটি ফাইভজি ট্রায়াল সম্পন্ন করে। এরই ধারাবাহিকতায়, প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে বিশ্বের উন্নত টেলিকম খাতের সঙ্গে বাংলাদেশের টেলিকম খাতকে একই কাতারে এনে দাঁড় করাতে ২০২১ সালে টেলিটকের সঙ্গে যৌথভাবে হুয়াওয়ে এদেশে ফাইভজি প্রযুক্তি উদ্বোধন করে বাংলাদেশে। সম্ভাবনা তৈরি হয় শিল্প, ব্যবসা, শিক্ষা এমনকি চিকিৎসা, পরিবহন এবং অন্যান্য খাতে একে কাজে লাগানোর।

বিদ্যুতের কারণে সৃষ্ট সমস্যার সমাধানে এ খাতকে সোলার নির্ভর করার ধারণা প্রথম বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করে হুয়াওয়ে। সম্প্রতি বাংলাদেশের টেলিকম বিটিএস (বেস ট্রান্সসিভার স্টেশন)-এর জন্য লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদন সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে হুয়াওয়ে ও ওয়ালটন। এই চুক্তির অধীনে, বাংলাদেশে টেলিকম লিথিয়াম ব্যাটারি উৎপাদনে ওয়ালটনকে প্রযুক্তিগত সহায়তা, ডিজাইনে দক্ষ কর্মী, কাঁচামাল ও নির্দেশনা প্রদান করবে হুয়াওয়ে। এর মাধ্যমে টেলিকম শিল্পে উল্লেখযোগ্যভাবে খরচ সাশ্রয়, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিপর্যয় পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এছাড়া, এটি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক কার্বন নির্গমন হ্রাসের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সহায়তা করবে।

বাংলাদেশের নানা প্রকল্পে অপটিক্যাল ফাইবার লেআউটের জন্য কাজ করেছে হুয়াওয়ে। এর ফলে সাধারণ মানুষ সেবা পাচ্ছে সহজেই। এমনকি এটিকে কাজে লাগিয়ে দেশের ফ্রিল্যান্সাররাও সহজে কাজ করতে পারছে। তাছাড়া ই-গভর্নেন্স কাঠামো তৈরিতে ৮০০ এরও বেশি ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেম তৈরি করেছে। এর ফলে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ এখন সহজেই ব্রডব্যান্ড সেবা পাচ্ছে।

দেশের প্রথম ই-গভর্নমেন্ট ক্লাউড প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্ধ শতাধিক প্রতিষ্ঠানকে ক্লাউড সেবা প্রদান করছে হুয়াওয়ে। এছাড়া, বর্তমানে বাংলাদেশে হাইব্রিড ক্লাউড সেবায় প্রথম স্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। রকমারি, ইফাদ গ্রুপ, জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড -এর মতো বিভিন্ন ই-কমার্স সাইট, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকে ক্লাউড সেবা প্রদানের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কিংবা স্বল্প পুঁজির স্টার্টআপ বা দেশজুড়ে থাকা ছোট-বড় অনেক প্রতিষ্ঠানকে ডাটাবেজের জন্য স্টোরেজ ও সার্ভার সলিউশন প্রদান করে হুয়াওয়ে ক্লাউড। এর ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাথমিক বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনেক কমে যায়।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য হাই-পারফরম্যান্স কম্পিউটিং (এইচপিসি), ক্লাউড, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্মার্ট শিক্ষার সুযোগ ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিআরইএন)-এর সঙ্গে হুয়াওয়ে সম্প্রতি কৌশলগত সহযোগিতার উদ্যোগ নিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় হুয়াওয়ে বিডিআরইএনের সহযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে উচ্চগতির ইন্টারনেট/ডাটা সংযোগ হার্ডওয়্যার, তারযুক্ত (সুইচ) ও তারহীন ওয়াই-ফাই (এপি) সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অ্যাপ্লিকেশন অপারেসনাল সফটওয়্যার সরবরাহ করবে।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে হুয়াওয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, ইষ্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরও কিছু উচ্চশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্মার্ট এনএমএস, নেটওয়ার্ক সিস্টেম ও ওয়াই-ফাই স্থাপন করেছে। এছাড়াও কলেজ এডুকেশন ডেভেলাপমেন্ট প্রজেক্ট-এর আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ৯৫+ কলেজে উচ্চগতির ক্যাম্পাস নেটওয়ার্ক সিস্টেম স্থাপনে সহযোগিতার মাধ্যমে সারাদেশব্যাপী উচ্চশিক্ষার মানকে উন্নতিতে সহায়তা প্রদান করেছে।

স্বাস্থ্য খাতেও হুয়াওয়ে বিশেষ অবদান রেখেছে। প্রাইম হাসপাতাল সিলেট এম এ জি ওসমানি মেডিকেল কলেজ ও হসপিটাল, ইউনাইটেড হাসপাতালসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে অত্যাধুনিক মেডিকেল নেটওয়ার্ক সিস্টেম চালু করে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক করা হয়েছে। এছাড়াও, বিভিন্ন ব্যাংক ও হাসপাতালগুলোর ডাটাবেজ সংরক্ষণে স্টোরেজ সুবিধা এবং এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং (ইআরপি) ও কাস্টমার রিলেশনশিপ ম্যানেজমেন্ট (সিআরএম)-এর ক্ষেত্রে ক্লাউড প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নতিকে ত্বরান্বিত করতে পেরেছে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হুয়াওয়ে স্মার্ট হাইওয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে একটি ইনটেলিজেন্ট হাইওয়ে সিস্টেমও তৈরি করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় সড়কে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য লাইসেন্স প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা, স্বয়ংক্রিয় নম্বর প্লেট শনাক্তকরণ ক্যামেরা ও নিয়ম লঙ্ঘন শনাক্তকরণ সিস্টেম সংযোজন করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের হাইওয়ে নিরাপত্তায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ফলে পুলিশ কন্ট্রোল রুম টিম অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় অ্যালার্ম পেয়ে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিতে পারে এবং সার্বক্ষণিক সিসিটিভি ক্যামেরা মনিটর করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।

দেশের সব মানুষকে আর্থিক ব্যবস্থায় সংযুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০১০ সালে মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করে। বিবিএসের প্রকাশিত বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩ প্রতিবেদনের তথ্য অনুসারে, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের (১৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী) মধ্যে ২৮ শতাংশ মানুষের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হিসাব রয়েছে। এর বিপরীতে প্রায় ৪৮ শতাংশ মানুষের এমএফএস সেবায় হিসাব রয়েছে। এই খাতে হুয়াওয়ে মোবাইল মানি সলিউশন (সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার) দিচ্ছে, যা তাদেরকে উন্নত মানের আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে সাহায্য করেছে। এই সেবার মাধ্যমে হুয়াওয়ে বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতির যাত্রার অংশীদার হিসেবে কাজ করছে। এর স্বীকৃতি স্বরূপ হুয়াওয়ে আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের কাছ থেকে অর্জন করে ‘পার্টনার রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড’ ।

বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রযাত্রার পাশাপাশি টেকসই জ্বালানি তৈরি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় হুয়াওয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি সোলার পাওয়ার সলিউশনের মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি শক্তির প্রচলন করেছে। হুয়াওয়ের স্মার্ট ফোটোভোলটাইক (পিভি) সলিউশন ব্যবহার করে ২০২৪ সালে পাবনার ভবানীপুরে দেশের বৃহত্তম ১০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হয়ছে। এছাড়াও দেশের ২য় বৃহত্তম ময়মনসিংহের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রতে ব্যবহার হচ্ছে হুয়াওয়ে পণ্য ও সেবা। ফটোভোলটাইক সিস্টেম (পিভি সিস্টেম বা সৌর শক্তি সিস্টেম নামেও পরিচিত) হলো এমন একটি পাওয়ার সিস্টেম যার মাধ্যমে বিশেষভাবে সৌরশক্তি সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পিভি সলিউশনের মাধ্যমে পাবনা ও ময়মনসিংহের সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্রটিকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। এটি বাংলাদেশের পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্বন নিঃসরণ হ্রাসেও সহায়তা করেছে। এ বছরের জুন পর্যন্ত হুয়াওয়ে ৫৪৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট সবুজ জ্বালানি উৎপাদন করেছে। এর ফলে, ২ লাখ ৫৯ হাজার ৮৩৫ টন কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত হুয়াওয়ে বাংলাদেশে ৩০০ টিরও বেশি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। বাংলাদেশের রুফটপ সোলার মার্কেটে হুয়াওয়ে ফিউশনসোলার ইনভার্টার সলিউশন ব্যবহার করে ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি সৌর প্রকল্প স্থাপন করা হয়েছে।

একটি টেকসই ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ করে আসছে হুয়াওয়ে। তিনটি কার্যালয় ও একটি একাডেমির মাধ্যমে হুয়াওয়ে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এখানে বর্তমানে প্রায় ৫০০ কর্মী কাজ করছে, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি। পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্টও করে থাকে। ফলে একজন সদ্য গ্র্যাজুয়েট বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পায়। কাজ শেখার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করে এসব তরুণ বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ে বিশেষ কিছু সিএসআর (কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা) কার্যক্রম এবং ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম পরিচালনা করে আসছে। যেমন- ‘সিডস ফর দ্য ফিউচার’, ‘উইমেন ইন টেক’, ‘হুয়াওয়ে আইসিটি কম্পিটিশন’, ‘হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর’ প্রভৃতি। চুয়েট, রুয়েট, এআইইউবি এর মতো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিটি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেছে হুয়াওয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থীদের জন্য হুয়াওয়ে-বুয়েট আইসিটি একাডেমি, যেখানে কারিগরি প্রযুক্তি ও যন্ত্রাদির সঙ্গে রয়েছে ফাইভজি কানেক্টিভিটি। এর মাধ্যমে বিশ্বের এক হাজার দুইশরও বেশি প্রশিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পান বুয়েট শিক্ষার্থীরা। 

হুয়াওয়ে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) নতুন একটি সোলার ল্যাব প্রতিষ্ঠা করেছে, যা খুব শীঘ্রই উদ্বোধন করা হবে। এ ধরনের অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে নানা ধরনের কোর্স সম্পন্ন করতে পারেন। তাছাড়া, হুয়াওয়ে আইসিটি কম্পিটিশন ও সিডস ফর দ্য ফিউচার এর মতো বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে হুয়াওয়ে। অন্যদিকে, স্টার্টআপের জন্য প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে হুয়াওয়ে আইসিটি ইনকিউবেটর প্রোগ্রাম ও উইমেন ইন টেক।

বাংলাদেশে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য হুয়াওয়ে কাজ করে-এমন বিশ্বাস নিয়ে বাংলাদেশের জনজীবনে নেমে আসা নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, তীব্র শীত, ঘূর্ণিঝড় প্রভৃতি) মোকাবিলায় ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এদেশের মানুষের পাশে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি এমন দুটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে- ২২টি বন্যাদুর্গত ঘরহীন পরিবারকে ঘর নির্মাণ এবং বন্যাকবলিত এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা। ক্যাম্পগুলোতে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসকদের পরামর্শ, ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ কিট, বিশুদ্ধ পানি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। তাছাড়া, ঈদের মতো উৎসবে কিংবা বন্যার মতো বিপর্যয়ে অপারেটরদের নির্দেশনায় হুয়াওয়ে মানুষকে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে প্রতিনিয়ত কাজ করে হুয়াওয়ে।

সব মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে একটি প্রযুক্তিনির্ভর সমৃদ্ধ অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে উপস্থাপন করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে। সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন তথা জাতীয় অগ্রগ্রতিতে একটি তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, তার এক অনন্য উদাহরণ হুয়াওয়ে। বাংলাদেশকে যেভাবে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছে হুয়াওয়ে তার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হুয়াওয়ে ‘বাংলাদেশে, বাংলাদেশের মানুষের জন্য’ কাজ করে।

আরও