স্ক্রিন স্ক্রোলেই কেটে যাচ্ছে বছরের ৪০টি দিন!

একজন সাধারণ সক্রিয় ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট সময় কাটান। সপ্তাহের হিসাবে তা দাঁড়ায় সাড়ে ১৮ ঘণ্টারও বেশি

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম আর কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নেই, এটি আমাদের যাপিত জীবনের অন্যতম নিয়ন্ত্রকে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক ‘ডেটারিপোর্টাল ডিজিটাল ২০২৬ গ্লোবাল ওভারভিউ রিপোর্ট’ অনুযায়ী, বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি অর্থাৎ প্রায় ৫৬৬ কোটি মানুষের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ২০০৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৫০ কোটিরও কম, ২০১৫ সালে তা বেড়ে ২২৭ কোটি হয়। সাশ্রয়ী স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণেই এ সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একজন সাধারণ সক্রিয় ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ৩৯ মিনিট সময় কাটান। আপাতদৃষ্টিতে প্রতিদিনের এ আড়াই ঘণ্টা সময়কে খুব বেশি মনে না হলেও, সপ্তাহের হিসাবে তা দাঁড়ায় সাড়ে ১৮ ঘণ্টারও বেশি। আর এটিকে পুরো এক বছরের ফ্রেমে এনে হিসাব করলে দেখা যায়, বছরে গড়ে ৪০টিরও বেশি দিন অর্থাৎ প্রায় এক হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় মানুষ কেবল স্ক্রোল করে কাটিয়ে দিচ্ছে। সময়ের এ বিশাল অপচয় মানুষের কর্মক্ষমতা, চিন্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কত বড় প্রভাব ফেলছে, তা সহজেই অনুমেয়।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ব্যবহারের হার ভিন্ন হলেও সবখানে এর আধিপত্য স্পষ্ট। বিশেষ করে পূর্ব এশিয়ায় মোট জনসংখ্যার সর্বোচ্চ ৮৮ শতাংশেরও বেশি মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় বুঁদ হয়ে আছেন, যার পরেই রয়েছে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশগুলো। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা ইউটিউবের মতো বহুল ব্যবহৃত প্ল্যাটফর্মগুলোর কোটি কোটি ব্যবহারকারী প্রতিদিন অজান্তেই এ আসক্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ভিডিওর ‘রিলস’ বা ছোট ছোট ক্লিপ ব্যবহারকারীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে আটকে রাখছে।

সোশ্যাল মিডিয়ার এ মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি বিশেষ করে শিশুদের ওপর এর ক্ষতিকর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তির এ আগ্রাসন থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে। বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করেছে। চলতি বছর একই পথে হেঁটেছে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও তুরস্কের মতো দেশগুলো। এমনকি যুক্তরাজ্য সরকারও আগামী বছর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধ করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

আরও