নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন পর্যালোচনা ও সংশোধনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ উদ্যোগকে উপসাগরীয় দেশটির সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে এ বাবদ কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে ইউএই। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে উদ্যোগটিকে ‘এআই-চালিত আইন প্রণয়ন’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এক্ষেত্রে এআইকে এতটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথি সংক্ষেপ, সেবা উন্নয়নের মতো সরকারি কাজ সহজ করতে এআই ব্যবহার করছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। কিন্তু ইউএই সরাসরি আইনের খসড়া তৈরি ও আইন সংশোধনে এআইয়ের পরামর্শ নেয়ার পরিকল্পনা করছে। যদিও প্রতিবেদনে উদ্যোগ বিষয়ে বিশদ বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
এ বিষয়ে দুবাইয়ের শাসক ও আমিরাতের ভাইস প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুম বলেছেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এ নতুন আইন প্রণয়ন আমাদের আইন তৈরির প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও আরো সুনির্দিষ্ট করে তুলবে।’
গত সপ্তাহে দেশটির মন্ত্রিসভা রেগুলেটর ইন্টেলিজেন্স অফিস গঠনের অনুমোদন দিয়েছে, যা এআই-ভিত্তিক আইন প্রণয়নের তদারকি করবে।
কোপেনহেগেন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক রনি মেডাগলিয়া আমিরাতের এ উদ্যোগকে সাহসী পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, আমিরাতের এ পদক্ষেপে এআইকে সহ-আইনপ্রণেতা হিসেবে রূপান্তর করার অন্তর্নিহিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে।
এরই মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করেছে আবুধাবি। গত বছর চালু করা হয়েছে বিনিয়োগ সংস্থা এমজিএক্স, যা এরই মধ্যে ব্ল্যাকরকের এআই অবকাঠামো, বিভিন্ন ফান্ডসহ বেশকিছু প্রকল্পে ৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। এসব কাজে তদারকির জন্য তাদের বোর্ডে একজন এআই পর্যবেক্ষকও নিয়োগ দিয়েছে এমজিএক্স।
দেশের জনগণ ও অর্থনীতির ওপর আইন কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা বিশ্লেষণ ও এ বিষয়ক একটি বড় তথ্যভাণ্ডার গড়ে তুলতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে আমিরাত। তথ্যভাণ্ডারটিতে ফেডারেল ও স্থানীয় আইন, আদালতের রায় ও সরকারি পরিষেবার মতো তথ্য থাকবে।
শেখ মোহাম্মদ বলেন, ‘এআই নিয়মিতভাবে আইনবিধিতে সংস্করণের পরামর্শ দেবে। সরকার আশা করছে, এআই ব্যবহারের ফলে আইন তৈরির প্রক্রিয়া ৭০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রুত হবে।’
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন, এআইয়ের ব্যবহার কিছু চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তাদের মতে, এ পদ্ধতি মানুষের কাছে অজানা বা অস্পষ্ট হতে পারে, প্রশিক্ষণ তথ্যের পক্ষপাতদুষ্টতা থাকতে পারে। সেই সঙ্গে, মানুষের মতো ব্যাখ্যায় এআইয়ের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। এছাড়া এআই ভুল, অনির্ভরযোগ্য ও অবাস্তব তথ্য দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।