আধুনিক কম্পিউটারে প্রয়োজন হারিয়েছে কিবোর্ডের ৬ বাটন

আজকের প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় কম্পিউটারের কিবোর্ডের নকশা বহু বছর ধরেই প্রায় অভিন্ন রয়েছে।

আজকের প্রযুক্তিনির্ভর দুনিয়ায় কম্পিউটারের কিবোর্ডের নকশা বহু বছর ধরেই প্রায় অভিন্ন রয়েছে। ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ যাই হোক না কেন, সবাই জানে এতে কোন কোন বাটন থাকবে। কিন্তু কখনো কি চিন্তায় এসেছে, এমন অনেক বাটন এখনো রয়ে গেছে যেগুলো প্রায় ব্যবহারই করা হয় না? প্রযুক্তি যতই এগিয়েছে, এসব বাটনের ব্যবহার ততটাই কমে গেছে। একসময় দরকারি হলেও এখন সেগুলো কেবল কিবোর্ডে জায়গা দখল করে আছে। প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট মেক ইউজ অব (এমইউও) এমনই ছয়টি কি বা বাটনের কথা উল্লেখ করেছে

স্ক্রল লক: একসময়ের দরকারি, এখন ভুলে যাওয়া বাটন

স্ক্রল লক বাটন সম্ভবত সবচেয়ে অর্থহীন বাটনগুলোর একটি। আগে এটি অ্যারো (তীরচিহ্ন) বাটনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করত। যেমন কখনো কার্সর সরানো, কখনো পুরো স্ক্রিন স্ক্রল করা। ১৯৯০-এর দশকে মাউসের স্ক্রল হুইল আসার আগে এটি বেশ কাজে লাগত। এখন কেবল মাইক্রোসফট এক্সেল বা লিব্রেঅফিস ক্যাল্কের মতো কিছু স্প্রেডশিট প্রোগ্রামেই এটি আংশিকভাবে ব্যবহার হয়। অন্য ক্ষেত্রে এর তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। বরং স্ক্রল লক কিবোর্ডে অপ্রয়োজনীয় আলো জ্বালিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ায়।

পজ/ব্রেক: পুরনো কম্পিউটারের বাটন

পজ/ব্রেক বাটন একসময় কম্পিউটারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। এটি দিয়ে কোনো কমান্ড থামানো বা কম্পিউটার চালুর সময় প্রদর্শিত লেখা সাময়িকভাবে বন্ধ করা যেত। এখনো কিছু সফটওয়্যার ডেভেলপার ভিজুয়াল স্টুডিও বা পাওয়ারশেলে এটি ব্যবহার করেন, তবে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এর তেমন প্রয়োজন নেই। বর্তমানে এর একমাত্র সুবিধা হলো ‘উইন্ডোজ+পজ/ব্রেক’ চাপলে উইন্ডোজের সিস্টেম ইনফরমেশন পেজ খুলে যায়।

ইনসার্ট: ভুলে চাপলে বিপত্তি

ইনসার্ট বাটন অনেকের কাছে সবচেয়ে বিরক্তিকর। এটি দুটি মোডে কাজ করে—ইনসার্ট ও ওভারটাইপ। ইনসার্ট মোডে নতুন লেখা পুরনো লেখার সামনে যোগ হয়, কিন্তু ওভারটাইপ মোডে নতুন লেখা পুরনো লেখাকে মুছে দেয়। ফলে ভুলবশত এ বাটন চাপলে লেখা মুছে যাওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেক সফটওয়্যারেই এখন এ ফিচার সমর্থন করে না।

নাম লক: সংখ্যার জায়গায় বিভ্রান্তি

যাদের কিবোর্ডে নামপ্যাড আছে, তারা সাধারণত দ্রুত সংখ্যা টাইপ করার সুবিধার জন্যই নাম লক (Num Lock) ব্যবহার করেন। কিন্তু এ বাটন ভুল করে চাপলে সংখ্যাগুলোর পরিবর্তে দিকনির্দেশক বা অন্যান্য কি—যেমন হোম, এন্ড বা অ্যারো সক্রিয় হয়ে যায়। এতে দ্রুত কাজের পরিবর্তে বিভ্রান্তি বাড়ে। অধিকাংশ ব্যবহারকারীই এটিকে সবসময় চালু রাখতেই পছন্দ করেন।

মেনু: মাউসের বিকল্প হলেও অপ্রয়োজনীয়

মেনু কি/বাটন সাধারণত ডানদিকের উইন্ডোজ বাটনের পাশে থাকে। এটি মূলত মাউসের ডান ক্লিকের বিকল্প অর্থাৎ অতিরিক্ত অপশন মেনু খোলার ক্ষেত্রে কাজ করে। খুব জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া এটি তেমন কাজে আসে না। মাউস নষ্ট হলে এটি কাজে লাগে, তবে এমন ঘটনা খুবই বিরল। নতুন উইন্ডোজ ১১ ল্যাপটপে এ বাটনের জায়গায় এখন কোপাইলট বাটন দেয়া হচ্ছে। কিন্তু ‘উইন+ সি’ চাপলেও একই কাজ করা যায়।

ক্যাপস লক: অনিচ্ছাকৃত বিরক্তিকর বাটন

কিবোর্ডের সবচেয়ে বিতর্কিত বাটন হলো ক্যাপস লক। এটি ভুল করে চাপলে পুরো লেখাই বড় হাতের হয়ে যায়, ফলে অনেক সময় পাসওয়ার্ড ভুল হয়। টাইপরাইটারের যুগে ছোট আঙুলে শিফট ধরে রাখা কষ্টকর ছিল বলে এ বাটন ব্যবহার হতো। এখন এর ব্যবহার প্রায় শেষ। গুগল তাদের ক্রোমবুক কিবোর্ডে এ বাটনের জায়গায় সার্চ বাটন দিয়েছে, যা অনেক বেশি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ।

অপ্রয়োজনীয় বাটনগুলো বদলে নেয়া সম্ভব

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব পুরনো বাটন সরিয়ে বা রিম্যাপ করে কিবোর্ডকে আরো উপযোগী করা যায়। মাইক্রোসফটের পাওয়ারটয়েজ সফটওয়্যার ব্যবহার করে সহজেই কোনো বাটনের কাজ বদলে ফেলা সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, ক্যাপস লককে কন্ট্রোল বাটন বানানো বা ইনসার্ট বাটনকে সার্চ ফাংশনে রূপান্তর করা যেতে পারে।

আরও