গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিটের (জিপিইউ) জন্য সুপরিচিত প্রযুক্তি কোম্পানি এনভিডিয়া তাদের চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এ সময় কোম্পানিটির আয় প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি ছিল। একই সঙ্গে এনভিডিয়া বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের আয়ের পূর্বাভাসও জানিয়েছে। যদিও দ্বিতীয় প্রান্তিকের আয় আশানুরূপ ছিল, তবে বিনিয়োগকারীরা এনভিডিয়ার পরবর্তী প্রান্তিকের পূর্বাভাসে হতাশ হয়েছেন এবং এর প্রভাবে আফটার-আওয়ারে কোম্পানিটির শেয়ারের মূল্য কমেছে ৬ শতাংশ। খবর রয়টার্স।
দ্য ন্যাশনাল নিউজের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, এনভিডিয়া বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ হাজার ৪ কোটি ডলার আয় করেছে, যা প্রত্যাশিত ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের চেয়ে বেশি। আবার এ আয়ের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে ১২২ শতাংশ এবং আগের প্রান্তিকের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। তবে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জন্য এনভিডিয়ার আয়ের পূর্বাভাস বিশ্লেষকদের নির্ধারিত উচ্চ প্রত্যাশা পূরণ করেনি। শক্তিশালী কর্মক্ষমতা সত্ত্বেও আসন্ন প্রান্তিকের জন্য কোম্পানির অনুমান বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়ে কম ছিল।
এনভিডিয়া অনুমান করেছে, পরবর্তী প্রান্তিকে তাদের আয় প্রায় হবে ৩ হাজার ২৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি হবে। এদিকে বিশ্লেষকরা তৃতীয় প্রান্তিকের জন্য ৩ হাজার ১৭৭ কোটি ডলার গড় আয়ের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। কিছু বিশ্লেষক ৩ হাজার ৭৯০ কোটি ডলার পর্যন্ত আয়ের ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। এদিকে আফটার-আওয়ার ট্রেডিংয়ে কোম্পানির শেয়ার কমেছে ৬ শতাংশ। দ্য ন্যশনালের তথ্যানুয়ায়ী কমেছে ৭ শতাংশের বেশি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বিনিয়োগকারীরা এনভিডিয়ার তৃতীয় প্রান্তিকের পূর্বাভাসে হতাশ হওয়ায় এ পতন ঘটেছে। তাদের মনোভাব কোম্পানির আয়ের রিপোর্ট দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, এনভিডিয়ার প্রতিবেদন অন্যান্য সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোয় উল্লেখযোগ্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোম্পানির শেয়ারের দাম বা বাজারের মনোভাবকে প্রভাবিত করতে পারে। । প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে এনভিডিয়ার ডাটা সেন্টারের আয় ২ হাজার ৬২৭ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫৪ শতাংশ এবং গত প্রান্তিকের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। এ উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এনভিডিয়ার ডাটা সেন্টার পরিষেবা ও চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে তুলে ধরে। অ্যাপল, গুগল, মেটা (আগে ফেসবুক) ও মাইক্রোসফটের মতো প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এনভিডিয়ার চিপ এবং ডাটা সেন্টারের ওপর নির্ভর করে, কারণ তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) প্রচুর বিনিয়োগ করছে।
গত তিনটি প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় বেড়েছে ২০০ শতাংশেরও বেশি। এ সফলতার কারণে ওয়াল স্ট্রিট তাদের প্রত্যাশা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। এনভিডিয়াকে প্রযুক্তি শিল্পের একটি প্রধান খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে এআই, গেমিং ও ডাটা সেন্টারের ক্ষেত্রে। তাই কোম্পানিটির আর্থিক ফল বৃহত্তর প্রযুক্তির বাজার ও বিনিয়োগকারীর অনুভূতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।