বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঢেউ ২০২৫ সালেও থামেনি। গুগল, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যামাজনসহ একাধিক বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে। ২০২২ ও ২০২৩ সালের ব্যাপক ছাঁটাইয়ের তুলনায় এবার সংখ্যা তুলনামূলক কম। তবে চলমান ছাঁটাইয়ের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে খরচ কমানো, কাঠামোগত পুনর্গঠন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বেশি জোর দেয়া।
প্রযুক্তি খাতে কর্মী ছাঁটাই পর্যবেক্ষণ সম্পর্কিত প্লাটফর্ম লেঅফসডটএফওয়াইআই-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত বিশ্বের ৯৩টি প্রযুক্তি কোম্পানি মোট ২৩ হাজার ৫০০ জন কর্মী ছাঁটাই করেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছে গুগল ও মাইক্রোসফট। কোম্পানি দুটি নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের অধীনে সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড, পিক্সেল স্মার্টফোন ও ক্রোম ব্রাউজার সংশ্লিষ্ট প্লাটফর্ম অ্যান্ড ডিভাইসেস বিভাগ থেকে শত শত কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছা অবসরের সুযোগ দিয়েছিল এবং এরপর ফেব্রুয়ারিতে ক্লাউড ও মানবসম্পদ বিভাগেও কর্মী ছাঁটাই করা হয়। গুগলের এক মুখপাত্র বলেন, ‘অধিক কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’
অন্যদিকে মাইক্রোসফটও মে মাসের মধ্যে মধ্যম স্তরের ব্যবস্থাপক পদে ছাঁটাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি কোডারদের তুলনায় ব্যবস্থাপকের সংখ্যা কমিয়ে প্রকৌশলীদের অনুপাত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে, কোম্পানির সিকিউরিটি বিভাগের নেতৃত্বে থাকা চার্লি বেলের অধীনে প্রকৌশলী-ব্যবস্থাপক অনুপাত ৫.৫:১ থেকে বাড়িয়ে ১০:১ করা হবে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি যেসব কর্মীর কর্মদক্ষতা স্কোর ‘ইমপ্যাক্ট ৮০’ বা তার নিচে, তাদেরও ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে রাখা হয়েছে।
শুধু গুগল বা মাইক্রোসফট নয়, আরো অনেক প্রযুক্তি কোম্পানিও বড় আকারে জনবল ছাঁটাই করছে। ওয়ার্ডপ্রেসের মূল কোম্পানি অটোম্যাটিক প্রায় ২৭০ কর্মীকে বাদ দিয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের মোট জনবলের ১৬ শতাংশ। এআই-নির্ভর কনটেন্ট তৈরির দিকে ঝুঁকতে গিয়ে ক্যানভা ১০-১২ জন টেকনিক্যাল রাইটার ছাঁটাই করেছে। টিকটক আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন অফিসে ৩০০ জন কর্মী ছাঁটাই করেছে, যা তাদের সে দেশের মোট কর্মীর ১০ শতাংশ। ভারতের ওলা ইলেকট্রিক পাঁচ মাসে দ্বিতীয়বারের মতো এক হাজারের বেশি কর্মী ও কন্ট্রাক্টর ছাঁটাই করেছে।
এছাড়া সিমেন্স অটোমেশন ও ইভি চার্জিং ইউনিটে ৫ হাজার ৬০০ কর্মী, এইচপি ‘ফিউচার নাও’ পরিকল্পনার আওতায় দুই হাজার কর্মী ও ব্লু অরিজিন এক হাজারের বেশি প্রকৌশলী ছাঁটাই করেছে। সেলসফোর্সও এক হাজারের বেশি কর্মী বাদ দিলেও এআই সংশ্লিষ্ট নতুন নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
এদিকে মেটা বছরের শুরুতেই ৩ হাজার ৬০০ কর্মী ছাঁটাই করেছে, যাদের ‘লো পারফরমার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুততা ও গ্রাহককেন্দ্রিক সংস্কৃতি গঠনের লক্ষ্যে অ্যামাজন কমিউনিকেশনস টিম থেকে কয়েক ডজন কর্মী বাদ দিয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এআইভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা, উচ্চ সুদের হার, মূল্যস্ফীতি ও প্রযুক্তি খাতে ব্যয় কমার কারণে এ ছাঁটাইয়ের প্রবণতা জোরালো হয়েছে। তবে একই সঙ্গে এআই-কেন্দ্রিক নতুন নিয়োগও চলমান রয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে