ওয়াশিংটনে বিনিয়োগ সম্মেলন

ডিজিটাল ফাইন্যান্স অ্যাওয়ার্ড পেল বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও ডিজিটাল অর্থায়ন সম্মেলনে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময়, স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের সমাপনী দিনে দক্ষিণ এশিয়ার বিনিয়োগ পরিবেশ, আর্থিক কাঠামো ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ এশিয়া ডিজিটাল অর্থায়ন ও বিনিয়োগ উৎকর্ষ পুরস্কারও দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইন সার্চ অব রুট ফাউন্ডেশন সম্মেলনটির আয়োজন করে। সমাপনী অধিবেশনে পাকিস্তানের ব্যাংক অব পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট জাফর মাসুদ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. সারওয়ার হোসেন বলেন, শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, স্থিতিশীল বিনিময় হার, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি ও ধারাবাহিক প্রবাসী আয় প্রবাহের কারণে বাংলাদেশ এখন নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে।

তিনি জানান, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা দেশে ফেরত নেয়ার সুযোগ সহজ করা হয়েছে এবং নীতিগত সহায়তা বিনিয়োগ পরিবেশকে আরো শক্তিশালী করছে।

সম্মেলনে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান পাঠাও ও ফিন ডটকমের প্রতিষ্ঠাতা হুসাইন এম. এলিয়াস বলেন, নেপাল ও পাকিস্তানের তুলনায় বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা এবং বিনিয়োগ কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সহজ। দেশের দ্রুত সম্প্রসারিত ডিজিটাল অবকাঠামো, উদ্যোক্তাবান্ধব নীতি ও বড় বাজার সম্ভাবনাকে তিনি গুরুত্ব দেন।

‘যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ এশিয়ায় বিনিয়োগ প্রবাহ জোরদারকরণ’ শীর্ষক আলোচনায় নীতিগত সমন্বয়, আর্থিক কাঠামো উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিনিয়োগ সম্ভাবনা বাড়ানোর বিষয় উঠে আসে। আলোচনায় বিশ্বব্যাংক, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাত, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে আর্থিক তদারকি, নীতিগত স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া হয়। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যাংকিং, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল অর্থায়নের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন ও আর্থিক প্রযুক্তি খাতের সম্প্রসারণকে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সম্মেলনে তরুণ উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান বাজার, বিশেষ করে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থায়ন ও নতুন উদ্যোগ খাতে বিনিয়োগের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের অংশগ্রহণ সম্মেলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

সমাপনী পর্বে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থায়ন ও নীতিনির্ধারণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র–দক্ষিণ এশিয়া ডিজিটাল অর্থায়ন ও বিনিয়োগ উৎকর্ষ পুরস্কার দেয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা কামাল কাদির ও ট্রাস্ট ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান এ পুরস্কার পান।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে মাস্টারকার্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস বারট্রান ও গ্রেটার নিউইয়র্ক চেম্বার অব কমার্সের প্রধান মার্ক জাফে, পাকিস্তান থেকে ব্যাংক অব পাঞ্জাবের প্রেসিডেন্ট জাফর মাসুদ এবং বিশেষ সম্মাননা হিসেবে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ওসমান সিদ্দিকীকেও পুরস্কৃত করা হয়।

সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় উঠে আসে, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ দ্রুত একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব গন্তব্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে।

আরও