গাজায় হামলার প্রতিবাদে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির মানববন্ধন কর্মসূচি

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, যেকোনো যুদ্ধের মতো গাজায়ও সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। গাজার যুদ্ধের পেছনে রয়েছে হাজার বছরের সমস্যা। তিনি প্রশ্ন রাখেন—বিশ্ব মানবাধিকারকর্মীরা কি এ জেনোসাইডের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না?

গাজায় নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষের ওপর হামলা ও নির্যাতন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করেছে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি। আজ রোববার (১৩ এপ্রিল) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, যেকোনো যুদ্ধের মতো গাজায়ও সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছে নারী ও শিশু। গাজার যুদ্ধের পেছনে রয়েছে হাজার বছরের সমস্যা। তিনি প্রশ্ন রাখেন—বিশ্ব মানবাধিকারকর্মীরা কি এ জেনোসাইডের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে না? জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, গাজার চলমান যুদ্ধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হতে হবে। একই সঙ্গে সাম্প্রদায়িক ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে প্রতিহত করে মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্যোগ প্রয়োজন।

কর্মসূচিতে আরো বক্তব্য রাখেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি রেখা চৌধুরী।

শাহীন আনাম বলেন, গাজায় চলমান গণহত্যার বিপরীতে পাশ্চাত্যসহ সারা বিশ্বের নীরবতা হতাশাজনক। যারা মানবাধিকারের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দেয়, তারাও এখন কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। তিনি বলেন, গাজায় নিহতদের ৭০ শতাংশ নারী ও শিশু, যা মানবতাবিরোধী। তিনি দ্রুত এ যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, গাজার যুদ্ধ বন্ধে প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোসহ বিশ্বকে জেগে উঠতে হবে। দখলদার বাহিনীকে সমর্থন দেয়া পরাশক্তির বিরুদ্ধেও সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।

রেখা চৌধুরী বলেন, গাজার এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বিশ্ব বিবেক কোথায়? তিনি বলেন, ক্ষমতার প্রভাবে এভাবে মানবতা ধ্বংস হতে পারে না। যুদ্ধ বন্ধ করে মানবতা রক্ষার দাবি জানান তিনি।

কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন আইইডির তারিক হোসেন, নিজেরা করি'র সোহানা আহমেদ, এডাবের সমাপিকা হালদার, বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘের সেলিনা পারভীন, একশন এইডের মৌসুমি বিশ্বাস ও ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের রুহুল আমিন। এছাড়া সংহতি প্রকাশ করেন বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদের মেহেরুননেসা ও দীপ্ত ফাউন্ডেশনের একজন প্রতিনিধি।

মানববন্ধনে সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতা, সাংবাদিক, কর্মকর্তাসহ শতাধিক মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের অ্যাডভোকেসি ও নেটওয়ার্কিং পরিচালক জনা গোস্বামী।

আরও