স্বস্তিতে খামারিরা

কম উৎপাদন আর বাড়তি চাহিদায় দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগির

শহরের মুরগির বাজারগুলোয় ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঈদুল ফিতরের আগে সাধারণত মুরগির চাহিদা বাড়ে, কারণ এ সময়ে ভোক্তারা বেশি মুরগি কেনেন। ব্রয়লার মুরগি খামারিরা জানান, গত বছরের বেশিরভাগ সময় দাম কম থাকায় তারা লোকসানে ছিলেন। ঈদের আগে দাম বাড়ায় সেই লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পেরেছেন তারা। এছাড়া সম্প্রতি অনেক মুরগির খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে। দামের আকস্মিক বৃদ্ধিতে এরও ভূমিকা রয়েছে।

নরসিংদীর শিবপুরের বিরাজনগর বাজারের খাজা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন কর্নারের সত্ত্বাধিকারী এবং খামারি আবু হানিফা (৩৭) গত ১৩ মার্চ জানান, চাহিদা বেশি ও সরবরাহ কম হওয়ায় ব্রয়লারের মুরগির দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, তার এলাকার ৫০ শতাংশেরও বেশি খামারের মুরগি রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে অস্বাভাবিক হারে মুরগির মৃত্যু ঘটেছে। ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে।

তিনি জানান, শিবপুরের খামারিরা খামার থেকে সম্প্রতি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯৮ টাকায় বিক্রি করেছেন। যা ফেব্রুয়ারিতে বিক্রি করতে হয়েছে প্রায় ১৪৫ টাকায় দরে। একইভাবে এ দাম জানুয়ারিতে ১৩৬ থেকে ১৪৫ টাকা; ডিসেম্বরে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা ছিল। আর নভেম্বরে সেগুলো ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আবু হানিফা বলেন, ব্রয়লার মুরগির বর্তমান বাজারদর আরো কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে তার মতো খামারিরা নিকট অতীতে দাম কম থাকার লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।

মো. জহিতুল হক (৪১) সাতটি শেডে ২২-২৩ হাজার মুরগি পালনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পোল্ট্রি খামার চালান। শিবপুরের সোনাকুড়া সিঅ্যান্ডবি বাজারে তার ‘মায়ের দোয়া পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন কর্নার’ নামে একটি দোকানও রয়েছে। তার মতে, গত এক মাস ধরে খামারিদের জন্য দাম ভালো ছিল। কিন্তু তার আগের ১০ মাসের ৯ মাসই খারাপ ছিল। তিনি বলেন, কিছু খামারি বর্ধিত দামের কারণে লাভবান হচ্ছেন, আবার অন্যরা উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে এখনও লোকসানে রয়েছেন।

শিবপুরের বয়লাবোতে নারী উদ্যোক্তা জীবনা বেগম (৩৬), তার স্বামী ও দুই ছেলের সহায়তায় দুটি শেডে ৩ হাজার ৫০০ মুরগির একটি খামার চালান। গত ১২ মার্চ খামারের ১ হাজার ৬০০টি মুরগি বিক্রি করে ভালো মুনাফা পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবার রমজানে এতো লাভের আশা ছিল না আমাদের।

মো. রবিউল্লাহ (৩৫) একজন সিনিয়র স্কুল শিক্ষক। ১৬ বছর আগে ছাত্র থাকাকালীন শিবপুরের দোপাথরে গ্রামের বাড়িতে ৫০০টি মুরগি নিয়ে পোল্ট্রি পালন শুরু করেন। এখন তার ছয়টি শেডে ২০ হাজার মুরগি রয়েছে। তিনি বলেন, গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহত লোকসানের পর অবশেষে লাভের মুখ দেখেছি। এর অন্যতম কারণ এলাকার আশেপাশের অনেক খামারে রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগি মারা গেছে। এতে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, এই ব্যবসায় যে টিকে থাকে, শেষ পর্যন্ত সে-ই লাভ করে। কিছুদিন দাম কম থাকার পর বাজার আবার ভালো হয়ে যায়।

আরও