বিএসপিইউএ ওয়েবিনার

গবেষণাপত্র প্রত্যাহার ও গবেষণা সততা রক্ষায় সম্মিলিত দায়িত্বের আহ্বান

বাংলাদেশ সোসাইটি ফর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি একাডেমিকস (বিএসপিইউএ) উদ্যোগে আয়োজিত হয়ে গেল 'রিসার্চ ইন্টিগ্রিটি অ্যান্ড আর্টিকেল রিট্র্যাকশনস' শীর্ষক ওয়েবিনার। মঙ্গলবার জুম প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এ ওয়েবিনারে দেশ-বিদেশের প্রায় ২০০ জন শিক্ষক ও গবেষক অংশগ্রহণ করেন।

ওয়েবিনারে গবেষণা নৈতিকতা, গবেষণাপত্র প্রত্যাহার, দায়িত্বশীল প্রকাশনা এবং গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জার্নাল ও প্রকাশকদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পেন স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এমেরিটাস এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. সৈয়দ সাদ আন্দালিব মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

প্যানেল আলোচক হিসেবে ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. তামিম, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও বিএসপিইউএ-এর সভাপতি প্রফেসর ড. ফরিদ আহমদ সোবহানী এবং ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ডিজিটাল ইনোভেশন বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. সৈয়দ আখতার হোসেন। ওয়েবিনারটি সঞ্চালনা করেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মো. মামুন হাবিব।

বক্তারা বলেন, গবেষণাপত্র প্রত্যাহার মানেই সবসময় গবেষণায় অসদাচরণ নয়। অসদাচরণের কারণে যেমন কোনো গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হতে পারে, তেমনি অনিচ্ছাকৃত ভুল, পদ্ধতিগত সমস্যা, লেখকত্ব-সংক্রান্ত জটিলতা কিংবা সম্পাদকীয় ও পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণেও তা ঘটতে পারে। তাই প্রতিটি প্রত্যাহারের ঘটনা সতর্কতা, ন্যায়সংগতভাবে এবং যথাযথ প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে গবেষণাপত্র প্রত্যাহার নিয়ে সাম্প্রতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে বক্তারা দায়িত্বশীল ও ভারসাম্যপূর্ণ সংবাদ পরিবেশনের আহ্বান জানান। তাদের মতে, শুধু প্রত্যাহার করা গবেষণাপত্রের সংখ্যা দিয়ে কোনো গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা দেশকে মূল্যায়ন করা উচিত নয়। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক আলোচনাকে গবেষণা সততা ও প্রকাশনার মান উন্নয়নের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

বক্তারা আরো বলেন, গবেষণা সততা রক্ষা একটি সম্মিলিত দায়িত্ব। গবেষকদের গবেষণার শুরু থেকেই নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, রিভিউয়ার, সম্পাদক, প্রকাশক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। গবেষণার গুণগত মান, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ন্যায়সংগত তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচকরা গবেষণা সততা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী জাতীয় কাঠামো প্রণয়নের আহ্বান জানান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় কার্যকর গবেষণা নৈতিকতা ও সততা কমিটি গঠন, গবেষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মানসম্মত ও প্রিডেটরি জার্নাল চিহ্নিতকরণে সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং পিয়ার-রিভিউ ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, গবেষণার মূল্যায়ন শুধু প্রকাশনার সংখ্যা দিয়ে নয়; বরং এর গুণগত মান, প্রাসঙ্গিকতা, সততা এবং সমাজে প্রভাবের ভিত্তিতে হওয়া উচিত।

ওয়েবিনারের শেষাংশে বাংলাদেশে নৈতিক, উচ্চমানসম্পন্ন এবং সমাজ-প্রাসঙ্গিক গবেষণা প্রসারে অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বিএসপিইউএ।-বিজ্ঞপ্তি

আরও