ছয় মাসে অ্যাসেট প্রকল্পে প্রশিক্ষণ নিলেন সোয়া দুই লাখ প্রশিক্ষণার্থী

অ্যাসেট প্রকল্পের শর্ট কোর্স হলো ৩৬০ ঘণ্টার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ। নির্বাচিত সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (আরপিটিআই), আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আরটিসি), বিশেষায়িত সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

কারিগরি ও কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রগতি অর্জন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীন কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন অ্যাক্সেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেংদেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন (অ্যাসেট) প্রকল্প। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্পের শর্ট কোর্স ও এন্টারপ্রাইজ-বেজড ট্রেনিং (ইবিটি) কার্যক্রমে মোট ২ লাখ ২৫ হাজার ৩৩৬ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে নারী ১ লাখ ৩০ হাজার ৪৭০ জন এবং পুরুষ ৯৪ হাজার ৮৬৬ জন। মোট প্রশিক্ষণার্থীর ৫৭ দশমিক ৯০ শতাংশই নারী। পুরুষের তুলনায় নারী প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা ৩৫ হাজার ৬০৪ জন বেশি। প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারীদের মধ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ৪ হাজার ৮০ জন এবং ৭৭৯ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছেন।

অ্যাসেট প্রকল্পের শর্ট কোর্স হলো ৩৬০ ঘণ্টার প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মমুখী প্রশিক্ষণ। নির্বাচিত সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক), আঞ্চলিক জনসংখ্যা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (আরপিটিআই), আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (আরটিসি), বিশেষায়িত সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচিত বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসব প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এ কোর্সে ২১ হাজার ৭০২ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের মধ্যে নারী প্রশিক্ষণার্থীর হার ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিল, ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন এবং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মতো বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি পার্টনারের মাধ্যমে এন্টারপ্রাইজ-বেজড ট্রেনিং (ইবিটি) পরিচালিত হয়েছে। এ কার্যক্রমে ২ লাখ ৩ হাজার ৬৩৪ জন প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। তাদের প্রায় ৫৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ নারী।

ইবিটির আওতায় কোনো কোনো প্রশিক্ষণ সরাসরি শিল্পকারখানার উৎপাদন পরিবেশে পরিচালিত হয়েছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণের ৫০ শতাংশ নির্বাচিত স্কিলস ট্রেনিং প্রোভাইডারে (এসটিপি) এবং বাকি ৫০ শতাংশ শিল্পকারখানায় অ্যাপ্রেন্টিসশিপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এতে প্রশিক্ষণার্থীরা পেশাভিত্তিক কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদনব্যবস্থা, কর্মক্ষেত্রের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা এবং বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন। এতে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সংযোগ এবং ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রি-ট্রেনিং প্রোভাইডার সম্পর্ক আরো জোরদার হয়েছে।

উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ শেষে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) মাধ্যমে মূল্যায়ন ও সনদায়ন করা হয়েছে।

প্রকল্পের অর্জন ধরে রাখা এবং পুনর্গঠিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী অবশিষ্ট ও বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অ্যাসেট প্রকল্পের মেয়াদ ১৮ মাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার। সরকারের ২৬ এপ্রিলের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়ন সহযোগী বিশ্বব্যাংক ২৯ জুলাই প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি ও পুনর্গঠনে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেয়।

বর্ধিত সময়ে শর্ট কোর্স ও ইবিটির পরিধি বাড়ানো, চাহিদাভিত্তিক ও ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী পেশায় প্রশিক্ষণ দেয়া, নারী ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন ও এনরোলমেন্টে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হবে। পাশাপাশি ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা, অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রশিক্ষণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও