বিশ্বব্যাপী ১৬০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যকে হুমকিতে ফেলেছে জীবাশ্ম জ্বালানি

প্রায় ১৬০ কোটি মানুষের বাসস্থানের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসে নির্গত হচ্ছে পিএম ২.৫ অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পরিশোধনাগার, বন্দর ও খনির মতো ‘অতিমাত্রায় দূষণকারী' শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর কাছাকাছি বসবাস করছে প্রায় ৯০ কোটি মানুষ।

জীবাশ্ম জ্বালানি সৃষ্ট দূষণ শুধু পৃথিবীর জলবায়ুকেই ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, এর ফলে হুমকিতে পড়ছে অন্তত ১৬০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্য। বিশ্বব্যাপী দূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ পর্যবেক্ষণ করছে ক্লাইমেট ট্রেস নামে জলবায়ু সংরক্ষণে গঠিত এক জোট। এ জোটের গবেষক ও বিশ্লেষকরা সম্প্রতি একটি নতুন ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্র প্রকাশ করেছেন।

এতে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১৬০ কোটি মানুষের বাসস্থানের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসে নির্গত হচ্ছে পিএম ২.৫ অন্যান্য বিষাক্ত পদার্থ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পরিশোধনাগার, বন্দর ও খনির মতো ‘অতিমাত্রায় দূষণকারী' শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর কাছাকাছি বসবাস করছে প্রায় ৯০ কোটি মানুষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান কারণ জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার। বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং শিল্প কারখানায় কয়লা ও জ্বালানি তেল ব্যবহারের ফলে বায়ু দূষণ ঘটছে। আর এ দূষিত বায়ুর সূক্ষ্ম কণিকা পিএম ২.৫ শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ দূষণে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত ১০টি নগরাঞ্চলের কথা উল্লেখ করা হয়। এসব নগরীর বায়ুমান এখন বড় দূষণকারীদের কারণে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের করাচি, চীনের গুয়াংজু, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যেখানে এখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ক্লাইমেট ট্রেসের সহপ্রতিষ্ঠাতা আল গোর বলেন, ‘মানবস্বাস্থ্য ও জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর মধ্যে স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আকাশকে উন্মুক্ত নর্দমা হিসেবে ব্যবহার করছে। এসব প্রতিষ্ঠানই পৃথিবীতে তাপ আটকে রাখা দূষণের জন্য দায়ী, যা জলবায়ু সংকটতে ত্বরান্বিত করছে। এছাড়া তাদের দূষণের ফলে বাতাসে সূক্ষ্ম কণিকা সৃষ্টি হচ্ছে, তা বাতাসের স্রোতে ভেসে আশপাশের এলাকায় পড়ছে। এ দূষণের কারণে প্রতি বছর ৮৭ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে।’

ক্লাইমেট ট্রেসের এ নতুন টুলকে এখন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। এটি ব্যবহার করে আড়াই হাজারের বেশি শহরে স্যাটেলাইট ও সেন্সর দিয়ে শনাক্তকৃত বায়ুদূষণের ধোঁয়া প্রবাহ দেখার সুযোগ পাবেন সবাই। সংস্থাটির ভাষ্যমতে, ‘নতুন এ টুলে জলবায়ু সংকট এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে ওঠা বায়ুদূষণের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। কোন কোন জনগোষ্ঠী এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে সেটিকে শনাক্ত করা ও দেখানোই এখন জরুরি অগ্রাধিকার।’

এমন পরিস্থিতিতে এখন জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের অবস্থান বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল সরকারের কর্মসূচিকে এক প্রকার বন্ধ করে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফেডারেল জলবায়ু কর্মসূচি বন্ধের পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন এবং এমন একটি জলবায়ু প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন, যেটিকে বিজ্ঞানীরা ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তিনি জলবায়ুবিজ্ঞানকে ‘প্রতারণা’ বলে আখ্যা দেন তিনি।

যদিও ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, দূষণ মোকাবিলার কিছু ধরণ বিবেচনা করতে তারা রাজি। নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় কপ ৩০ সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসেবে গত মাসে ব্রাজিলে আয়োজিত জলবায়ু সপ্তাহের বক্তাদের অন্যতম ছিলেন ট্রাম্পের পরিবেশ উপদেষ্টা এড রাসো। ভিডিও বার্তায় রাসো দাবি করেন, বর্জ্যভূমি, ল্যান্ডফিল এবং অন্যান্য উৎস থেকে দূষণ রোধে নেয়া পদক্ষেপকে তিনি সমর্থন করেন। তিনি বলেন, ‘দূষণের প্রভাবই আসলে পুরো বিষয়টির সবচেয়ে বড় সমস্যা। আমাদের নিজেদের সৃষ্ট বিপর্যয়গুলোকে মোকাবেলা করতে হবে এবং দূষণকে উৎসেই বন্ধ করতে হবে।’

তবে ট্রাম্প প্রশাসন কীভাবে এটি করবে, সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।

আরও