এভারেস্ট জয়ের প্রথম অভিযানের শেষ সদস্য কাঞ্চা শেরপা আর নেই

১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি ও নেপালের তেনজিং নোরগে শেরপা যখন প্রথমবারের মতো এভারেস্টের ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতায় পৌঁছান, তখন তাদের সহায়ক দলের একজন ছিলেন তরুণ কাঞ্চা শেরপা।

বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করা প্রথম অভিযানের শেষ জীবিত সদস্য কাঞ্চা শেরপা আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) নেপালের কাঠমান্ডুর কাপান এলাকায় নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। খবর বিবিসি।

নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন কাঞ্চা শেরপাকে ‘ঐতিহাসিক ও কিংবদন্তি পর্বতারোহী’ বলে বর্ণনা করেছে। সংগঠনের সভাপতি ফুর গেলজে শেরপা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কাঞ্চা শেরপার মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। এভারেস্ট জয়ের ইতিহাসে তিনি ছিলেন এক জীবন্ত অধ্যায়।‘

১৯৫৩ সালের ২৯ মে নিউজিল্যান্ডের স্যার এডমন্ড হিলারি ও নেপালের তেনজিং নোরগে শেরপা যখন প্রথমবারের মতো এভারেস্টের ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতায় পৌঁছান, তখন তাদের সহায়ক দলের একজন ছিলেন তরুণ কাঞ্চা শেরপা।

সে সময় তিনি ছিলেন অভিযানের ৩৫ সদস্যের একজন এবং শেষ শিবির পর্যন্ত পৌঁছানো তিন শেরপার একজন। তিনি নিজে চূড়ায় না ওঠলেও তার ভূমিকা ছিল অভিযানের সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।

১৯৩৩ সালে নেপালের নামচে গ্রামে জন্ম নেয়া কাঞ্চা শেরপা ছোটবেলায় ছিলেন কৃষক পরিবারের সন্তান। কৈশোরে আলু বেচে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিব্বতে। পরে দার্জিলিং সফরে গিয়ে পর্বতারোহণ প্রশিক্ষণের সুযোগ পান এবং বিদেশী অভিযাত্রীদের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। তার পিতা তেনজিং নোরগের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। সে সূত্রেই তিনি ১৯৫৩ সালের অভিযানে জায়গা পান।

অভিযানের পরও তিনি প্রায় দুই দশক ধরে হিমালয়ে গাইড হিসেবে কাজ করেছেন। তবে স্ত্রীর অনুরোধে বিপজ্জনক অভিযাত্রা ছেড়ে দেন তিনি। কারণ, পর্বতারোহণে গিয়ে তার বহু বন্ধু প্রাণ হারিয়েছেন।

পরবর্তী জীবনে কাঞ্চা শেরপা পর্বতারোহণের বাণিজ্যিকীকরণে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৪ সালে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এভারেস্ট এখন ভিড় আর ময়লায় ভরা। হাজার হাজার মানুষ উঠে যাচ্ছে, কেউ কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। এই পাহাড় দেবী চোমোলংমা—তার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। মানুষ পাহাড়ে ধূমপান করে, মাংস খায়, আবর্জনা ফেলে যায়—এটা আমাদের দেবীর অবমাননা।‘

ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সোসাইটির এপ্রিল মাসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতি বছর প্রায় ৬০০ জন আরোহী এভারেস্ট আরোহণে যান। যার ফলে পাহাড়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। গলে যাওয়া বরফ ও মানববর্জ্য স্থানীয় পানির উৎসকে দূষিত করছে, যা স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি।

কাঞ্চা শেরপা মৃত্যুকালে রেখে গেছেন তার স্ত্রী, চার ছেলে, দুই মেয়ে ও বেশ কয়েকজন নাতি-নাতনি। তার নাতি তেনজিং চোগিয়াল শেরপা বলেন, ‘দাদুর গলায় কিছু সমস্যা ছিল, তবে বয়সের তুলনায় তিনি বেশ সুস্থই ছিলেন।‘

আরও