গবেষণা

গান শুনে কমে অস্ত্রোপচার–পরবর্তী ব্যথা ও উদ্বেগ

নেদারল্যান্ডসের এক গবেষণায় ৫৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, পছন্দের গান শুনলে তীব্র ঠাণ্ডা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ে।

ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অ্যাডাম হ্যানলি বলেন, ‘ব্যথায় শুধু শারীরিক অনুভূতি নয়, মানসিক প্রতিক্রিয়াও জড়িত থাকে। সঙ্গীত সেই প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।‘

সঙ্গীত শুধু মন ভালো করার মাধ্যম নয়, এটি শরীরের ব্যথা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। এমনটি জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোর নার্স রড সালাসায় হাসপাতালের রোগীদের ওষুধের পাশাপাশি গিটার ও ইউকুলেলে বাজিয়ে গান শোনান। তার অভিজ্ঞতা বলছে, রোগীদের হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ কমে যায়, অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধ কম নিতে চান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের প্রভাবকে বলা হয় ‘মিউজিক ইনড্যুসড অ্যানালজেসিয়া’— অর্থাৎ সঙ্গীতজনিত ব্যথা উপশম। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রিয় গান মনোযোগ দিয়ে শোনা ব্যথার অনুভূতি ও উদ্বেগ দুটোই কমায়।

গবেষকরা দেখেছেন, সংগীত মনোযোগকে ব্যথা থেকে সরিয়ে নেয়, ফলে ব্যথার অনুভূতি কমে আসে। তবে শুধু মনোযোগ সরানো ছাড়াও সংগীত আরো বেশি কিছু করে। ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী ক্যারোলিন পামা সংগীত এবং ব্যথা নিয়ে গবেষণা করেন। তিনি বলেন, ‘সংগীত মনঃসংযোগকারী ব্যাপার। এটি আপনার মনোযোগ ব্যথা থেকে দূরে সরিয়ে নেয়। তবে এটি শুধু এটুকুই করছে না।‘ বিজ্ঞানীরা এখনো মস্তিষ্কের বিভিন্ন স্নায়ু পথ চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন।

ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী অ্যাডাম হ্যানলি বলেন, ‘ব্যথায় শুধু শারীরিক অনুভূতি নয়, মানসিক প্রতিক্রিয়াও জড়িত থাকে। সঙ্গীত সেই প্রতিক্রিয়াকে ইতিবাচকভাবে পরিবর্তন করতে পারে।‘

নেদারল্যান্ডসের এক গবেষণায় ৫৪৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে দেখা গেছে, পছন্দের গান শুনলে তীব্র ঠাণ্ডা সহ্য করার ক্ষমতা বাড়ে — ঘরানা নয়, পছন্দই এখানে মূল বিষয়।

আইরিশ গবেষক ক্লেয়ার হাউলিন বলেন, ‘গান বেছে নেয়ার স্বাধীনতাই রোগীদের মানসিক শক্তি ও নিয়ন্ত্রণের অনুভূতি দেয়।‘

চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি এমন এক ‘সহজ প্রেসক্রিপশন’ যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই — শুধু প্রিয় গান শুনলেই মিলতে পারে প্রশান্তি ও সাময়িক ব্যথামুক্তি।

এপি অবলম্বনে

আরও