প্রায় ২০ বছর ধরে খোঁজ না মেলায় বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছিলেন, বারবাডোস থ্রেডস্নেক হয়তো চিরতরে হারিয়ে গেছে। কিন্তু এক রৌদ্রোজ্জ্বল সকালে, ক্যারিবীয় দ্বীপ বারবাডোসের একটি ছোট বনভূমিতে পাথর উল্টে দেখেই শ্বাস থামিয়ে দাঁড়িয়ে যান পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কনর ব্লেডস।
এই সাপ এতটাই ছোট যে একটি কয়েনের ওপর অনায়াসে জায়গা করে নিতে পারে। নগ্ন চোখে শনাক্ত করা অসম্ভব। তাই পাওয়ার পর ব্লেডস একটি কাঁচের জারে সাপটিকে রেখে তার সঙ্গে মাটি, পাতার আবর্জনা ও গাছের ছাল দিয়ে দেন। ঘণ্টা কয়েক পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোস্কোপের নিচে পেট্রি ডিশে ছটফট করা সাপটিকে দেখে ব্লেডস প্রথমে নিশ্চিত হতে পারেননি।
অবশেষে একটি স্থিরচিত্র থেকেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়। সাপটির শরীরজুড়ে পাতলা হলুদ ডর্সাল বা পৃষ্ঠদেশীয় রেখা ছিল এবং চোখ দুটি ছিল মাথার পাশে। এটি দেখতে অনেকটা ব্রাহ্মিণী ব্লাইন্ড স্নেকের মতো, যাকে সাধারণত 'ফুলের টবের সাপ' নামে ডাকা হয়, কিন্তু ব্রাহ্মিণী সাপের ডর্সাল রেখা থাকে না এবং আকৃতি কিছুটা বড় হয়।
বুধবার, আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থা রি: ওয়াইল্ড ও বারবাডোস পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় বারবাডোস থ্রেডস্নেকের পুনরাবিষ্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। রি: ওয়াইল্ড-এর ক্যারিবীয় অঞ্চলের প্রোগ্রাম অফিসার জাস্টিন স্প্রিংগার বলেন, ‘আমাদের স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের একটি হারিয়ে যাওয়া সদস্যকে খুঁজে পাওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।‘
এই অন্ধ সাপটি মাটির নিচে গর্ত করে থাকে, পিঁপড়া ও উইপোকা খায় এবং প্রতি প্রজননে মাত্র একটি ডিম দেয়। পুরোপুরি বড় হলেও এর দৈর্ঘ্য চার ইঞ্চি বা ১০ সেন্টিমিটারের বেশি নয়। ‘তারা খুবই গুপ্তচর স্বভাবের,’ ব্লেডস বলেন। ‘আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা খুঁজলেও ওরা যদি কাছেই থাকে তাও আপনি দেখতে নাও পারেন।‘
চলতি বছরের ২০ মার্চ সকালে, ব্লেডস ও স্প্রিংগার বারবাডোসের কেন্দ্রে একটি জ্যাক ইন দ্য বক্স গাছের চারপাশে খোঁজ করতে গিয়ে সাপটি আবিষ্কার করেন। সেসময় অন্যান্য গবেষকরা গাছটির মাপ-জোক করছিলেন।
বারবাডোস থ্রেডস্নেককে প্রথম শনাক্ত করেন টেম্পল ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী এস. ব্লেয়ার হেজেস। ২০০৮ সালে তার গবেষণাপত্রে এটি নতুন প্রজাতি হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং হেজেসের স্ত্রীর নামে নাম হয় টেট্রাকেইলোস্টোমা কারলাই।
হেজেস বলেন, ‘আমি দিনের পর দিন পাথর উল্টেছি, তবু পাইনি। তাই আমি একে একটি দুর্লভ প্রজাতি বলেই মনে করি।‘
একসময় বারবাডোস দ্বীপটিতে যে সব স্থানীয় প্রজাতি দেখা যেত—যেমন বারবাডোস রেসার স্নেক, বারবাডোস স্কিঙ্ক ও একধরনের গুহা চিংড়ি—তাদের অনেকেই আজ বিলুপ্ত।
হেজেস বলেন, ‘আশা করি এই আবিষ্কার দ্বীপটিতে পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি আগ্রহ বাড়াবে। ক্যারিবীয় অঞ্চলে খারাপ দিক দিয়ে বারবাডোস একটু ব্যতিক্রম। হাইতির পর এখানেই সবচেয়ে কম মূল বনভূমি অবশিষ্ট আছে।‘