গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ‘উল্লাস ২০২৬’ ইন্টার ক্লাব স্পোর্টসফেস্টের সফল সমাপ্তি

গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী ‘উল্লাস ২০২৬ ইন্টার ক্লাব স্পোর্টসফেস্ট সিজন ২’ শেষ হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) গুলশান ইয়ুথ ক্লাব বাস্কেটবল কমপ্লেক্স, গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক অ্যান্ড স্পোর্টস কমপ্লেক্সে সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শেষ হয়। ১৩টি ইভেন্টে অংশ নিয়ে সর্বাধিক ৮টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ পদক জিতে সম্মিলিতভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আয়োজক গুলশান ইয়ুথ ক্লাব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন)। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এছাড়া গুলশান ইয়ুথ ক্লাব লিমিটেডের সভাপতি ডা. ওয়াহিদুজ্জামান (তমাল), সেক্রেটারি জেনারেল ও আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান, আয়োজক কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ইফতেখার রহমান, ইফফাত আম্বারিন জয়া ও এম আমীর আলী মোস্তফা, ট্রেজারার রেশাদ হোসেন খান এবং প্রেস, মিডিয়া অ্যান্ড মার্কেটিং কো-অর্ডিনেটর অজয় কুমার কুন্ডু অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদ ও আয়োজক কমিটির সদস্যরাও এতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ‘উল্লাস ২০২৬’-এর গোল্ড স্পন্সর ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেরিন করিম। এছাড়া প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ও সিলভার স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নাবিলা খালিদ এবং সিলভার স্পন্সর মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

গত ৩০ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ ক্রীড়া উৎসবে দেশের ২৪টি স্বনামধন্য ক্লাবের ১ হাজার ২০০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ ও অংশগ্রহণকারী অংশ নেন। সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে ১০০ বল ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, দাবা, ৭-এ-সাইড ফুটবল, গলফ, ৮-বল পুল, প্যাডেল বল, সাঁতার, টেবিল টেনিস, টেনিস, কুইজ ও আর্ম রেসলিংসহ মোট ১৩টি ক্রীড়া ও প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সেক্রেটারি জেনারেল ও আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে খেলাধুলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন ক্লাবের অংশগ্রহণকারী ও ক্রীড়াপ্রেমীরা উৎসাহ, আনন্দ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ উৎসব উপভোগ করেছেন।

আয়োজনটি সফল করতে অংশগ্রহণকারী ক্লাব, ক্রীড়াবিদ, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমকর্মী, অতিথি ও স্পন্সরদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান মেহেদী হাসান। একই সঙ্গে আয়োজক কমিটি, ক্লাবের সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি। পরে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে উৎসবের উল্লেখযোগ্য মুহূর্তগুলো তুলে ধরেন এবং আয়োজন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

সমাপনী অনুষ্ঠানে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথি জাকারিয়া তাহের (সুমন) ও বিশেষ অতিথি তাবিথ আউয়ালকে সম্মাননা ক্রেস্ট দেয়া হয়। এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী সব ক্লাবের সভাপতিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়। উৎসব সফল করতে অবদান রাখায় স্পন্সর ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়।

প্রাইম ব্যাংক পিএলসি ও সিলভার স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড ও কমিউনিকেশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নাবিলা খালিদ ‘উল্লাস ২০২৬’, ইন্টার ক্লাব স্পোর্টসফেস্ট সিজন ২ এবং গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন। খেলাধুলার চেতনা বিকাশ, তরুণদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেয়া এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে এসব উদ্যোগের অবদানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমানও আয়োজনটির প্রশংসা করেন। অর্থবহ সুযোগ সৃষ্টি, তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা এবং ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনে এ ধরনের উদ্যোগের ভূমিকা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি এসব উদ্যোগের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের সামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখা অর্থবহ আয়োজনের পাশে থাকার বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করায় আয়োজকদের অভিনন্দন জানান তিনি।

‘উল্লাস ২০২৬’-এর গোল্ড স্পন্সর ওরিয়ন ফার্মা লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেরিন করিম বলেন, ক্রীড়াঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। খেলাধুলা, প্রতিভা বিকাশ, যুবসমাজের ইতিবাচক সম্পৃক্ততা এবং সুস্থ সমাজ গঠনে সহায়ক উদ্যোগের পাশে থাকার বিষয়ে ওরিয়ন ফার্মার প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন তিনি। ভবিষ্যতেও ‘উল্লাস’-এর মতো আয়োজনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে আয়োজকদের অভিনন্দন ও ক্লাবের ভবিষ্যৎ পথচলার সাফল্য কামনা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের এ অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া উৎসবের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ক্লাবভিত্তিক ক্রীড়া কার্যক্রম নতুন প্রতিভা বিকাশ, দলগত মনোভাব তৈরি এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ভিত্তি শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণ ক্রীড়াবিদদের জন্য আরো সুযোগ তৈরি করতে বিভিন্ন ক্লাব ও ক্রীড়া সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াহিদুজ্জামান (তমাল) প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি, অংশগ্রহণকারী ক্লাব, ক্রীড়াবিদ, স্পন্সর, সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, খেলাধুলার প্রসার, তরুণদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ক্লাবের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ভবিষ্যতেও কাজ করবে। ইতিবাচক সামাজিক বার্তা প্রচার ও সুস্থ সমাজ গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি। আয়োজন সফল করতে আয়োজক কমিটি, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের (সুমন) খেলাধুলা ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের ধারাবাহিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের সব জায়গায় সব বয়সী মানুষের খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে সহজলভ্য, আধুনিক ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন খেলার মাঠ গড়ে তোলা জরুরি। বহুমুখী ক্রীড়া অবকাঠামোর উন্নয়ন দেশের খেলাধুলার মান বাড়ানোর পাশাপাশি মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতেও ভূমিকা রাখবে। তরুণ প্রজন্ম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে খেলাধুলা, সুস্থ প্রতিযোগিতা, দলগত চেতনা এবং সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে আরো সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাপনী বক্তব্যে ধন্যবাদ জানান ক্লাবের প্রেস, মিডিয়া অ্যান্ড মার্কেটিং কো-অর্ডিনেটর অজয় কুমার কুন্ডু। তিনি স্পন্সর, অংশগ্রহণকারী ক্লাব, ক্রীড়াবিদ, গণমাধ্যমকর্মী, সহযোগী প্রতিষ্ঠান, অতিথি ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ‘উল্লাস ২০২৬’ সফল ও স্মরণীয় করে তুলতে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিষ্ঠা, আন্তরিকতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।

অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, উল্লাস শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি ক্রীড়াসুলভ মনোভাব, বন্ধুত্ব, ঐক্য ও সম্প্রীতির উদযাপন। ২৪টি ক্লাবের অংশগ্রহণে ১৩টি ক্রীড়া ও প্রতিযোগিতামূলক ইভেন্টে ১ হাজার ২০০-এর বেশি ক্রীড়াবিদ ও অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি এ আয়োজনকে সুস্থ প্রতিযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে সৌহার্দ্য ও বন্ধন দৃঢ় করার মঞ্চে পরিণত করেছে। তার ভাষ্য, উল্লাস ক্রীড়ার প্রকৃত চেতনার উদযাপন, যেখানে আবেগ ও নৈপুণ্যের পাশাপাশি বন্ধুত্ব ও ঐক্যের বন্ধন তৈরি হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী ক্লাবগুলোর নাম ঘোষণা ও ট্রফি বিতরণ। ১৩টি ইভেন্টে অংশ নিয়ে গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ৮টি স্বর্ণ, ৪টি রৌপ্য ও ৪টি ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করে সম্মিলিতভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়। প্রধান অতিথি জাকারিয়া তাহের (সুমন) ও বিশেষ অতিথিরা ক্লাবের সভাপতি ডা. ওয়াহিদুজ্জামান (তমাল) এর হাতে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি তুলে দেন। এ সময় ক্লাবের সহ-সভাপতি ইফতেখার রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি ট্রেজারার রেশাদ হোসেন খান, জয়েন্ট সেক্রেটারি আমির আলী মোস্তাফা ও মো. শরিফুল ইসলাম ভরসা, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ইফফাত আম্বারিন জয়া এবং অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা আয়োজনটির প্রশংসা করেন। বিভিন্ন ক্লাবের মধ্যে সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও ক্রীড়ার চেতনা জোরদারে গুলশান ইয়ুথ ক্লাবের এ উদ্যোগকে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন তারা।

আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপিকা শারমিন লাকীর সঞ্চালনায় এতে সংগীত পরিবেশন করে পার্পল হেইজ এবং সংগীতশিল্পী দীঠি আনোয়ার। তিনি কিংবদন্তি গীতিকার ও সুরকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কন্যা। পরে সংগীতসন্ধ্যা ও নৈশভোজের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। আনন্দ, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধুত্বের আবহে ‘উল্লাস ২০২৬’ অংশগ্রহণকারী ক্লাব ও ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় আয়োজন হয়ে ওঠে।

—বিজ্ঞপ্তি

আরও