ঢাকায় ‘জব এক্সপো ও অ্যাডভোকেসি ইভেন্ট ২০২৬’ অনুষ্ঠিত

দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির লক্ষ্যে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জব এক্সপো ও অ্যাডভোকেসি ইভেন্ট ২০২৬: ফ্রম স্কিলস টু অপরচুনিটিজ’। বৃহস্পতিবার শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) এডুকেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এডুকো) ও ইকো–সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর সহযোগিতায় এবং কোরিয়ান সংস্থা চোরোগ উসান ফর চিলড্রেন–এর অর্থায়নে বাস্তবায়িত লিফট প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে টেকনিকাল অ্যান্ড ভকেশনাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং (টিভেট) নেয়া চাকরিপ্রত্যাশী যুবদের সঙ্গে সরকারি প্রতিনিধি, টিভেট বিশেষজ্ঞ, শিল্পখাতের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, বিভিন্ন অংশীজন এবং প্রায় ৩১টি চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান অংশ নেন।

এতে চাকরিপ্রত্যাশীরা সম্ভাব্য নিয়োগদাতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা, চাকরির সুযোগ সম্পর্কে জানা এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। পাশাপাশি সিভি তৈরি, সাক্ষাৎকার দক্ষতা, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, মক ইন্টারভিউ এবং চাকরি অনুসন্ধান বিষয়ে ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং সেশনও আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদ শুভেচ্ছা বক্তব্যে দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে লিফট প্রকল্পের ভূমিকা তুলে ধরেন। তিনি ৩০০ জন সুবিধাবঞ্চিত তরুণকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সহযোগিতার জন্য নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তরুণদের নিজেদের দক্ষতার ওপর আস্থা রেখে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরে লিফট প্রকল্পের কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন এডুকোর চাইল্ড লেবার এলিমিনেশন ম্যানেজার আফজাল কবির খান। এছাড়া প্রকল্পের ওপর ভিডিও প্রদর্শন এবং অংশগ্রহণকারী তরুণদের অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জীবনের অর্জন শুধু বস্তুগত পুরষ্কার দিয়ে মূল্যায়ন করা নয়, বরং যেসব তরুণরা এরকম ক্যানভাসের সৃষ্টি করতে পারেন, তারা ভবিষ্যতের কাণ্ডারি। লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারলে রাষ্ট্র ও দেশ উভয়ই উপকৃত হবে।

চাকরি খোঁজার পাশাপাশি রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম তৈরিতে তরুণদের ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে সঠিক উদ্যোক্তাদের কাছে পুঁজি পৌঁছে দেয়া, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা এবং বাজারের পণ্য ও পরিবর্তিত চাহিদা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী। তিনি দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে তরুণদের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে এনএসডিএর ভূমিকা তুলে ধরেন। শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী কারিকুলাম উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সার্টিফিকেশন ও অ্যাসেসমেন্টের মাধ্যমে প্রকৃত দক্ষ জনশক্তি তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ শেষে জব প্লেসমেন্ট, সনদধারীদের মনিটরিং এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য ভাষা প্রশিক্ষণ ও অ্যাসেসমেন্টের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি তরুণদের চাকরি খোঁজার পাশাপাশি নিজেদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং ২০৩০ সালের মধ্যে একটি কার্যকর স্কিল ইকোসিস্টেম তৈরির লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিসিপের অতিরিক্ত সচিব ও এক্সিকিউটিভ প্রোগ্রাম ডিরেক্টর (ইপিডি) মোহাম্মদ ওয়ালিদ হোসাইন, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর (বিএনএফই) যুগ্ম সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন) দেবব্রত চক্রবর্তী, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন, বিজিএমইএর জেনারেল সেক্রেটারি মেজর জেনারেল (অব.) ড. শাহেদুল ইসলাম এবং ইনফরমাল সেক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্কিলস কাউন্সিলের (আইএসআইএসসি) চেয়ারম্যান মির্জা নুরুল গনি শোভন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিসিক চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ যুবসমাজ গড়ে তুলতে এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিসিক -এর ভূমিকা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রশিক্ষণের পর কর্মীদের যথাযথ ফলোআপের ঘাটতিকে একটি দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বাজারের চাহিদার সঙ্গে দক্ষ কর্মীদের সংযোগ স্থাপন এবং প্রশিক্ষণ-পরবর্তী নিয়মিত ফলোআপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইএসডিওর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহীদ উজ জামান বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথি, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও এডুকো বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। বর্তমান সময়ে তরুণদের জন্য এমন কর্মসংস্থানমুখী সুযোগ তৈরির উদ্যোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানের অ্যাডভোকেসি পর্বে বাংলাদেশের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট) খাতের গুণগত মান, প্রাসঙ্গিকতা এবং কর্মসংস্থান ফলাফল উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ পর্বে তরুণদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, টিভেট খাত শক্তিশালীকরণে নীতিপ্রস্তাব উপস্থাপন এবং “দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টি: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন সরকারি প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সহযোগী, সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ, এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। পরবর্তীতে অতিথিরা জব এক্সপোর বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন এবং অংশগ্রহণকারী তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

আরও