ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিট্রফিক অ্যাকুয়াকালচার বিষয়ক গবেষণা কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়নের সম্ভাবনা তুলে ধরতে রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে দিনব্যাপী কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থাপন করা হয় ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিট্রফিক অ্যাকুয়াকালচার (আইএমটিএ) বিষয়ক গবেষণা ফলাফল। কর্মশালার আয়োজন করে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশ।

যুক্তরাজ্য সরকারের ব্লু প্লানেট ফান্ডের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এশিয়া-আফ্রিকা ব্লুটেক সুপারহাইওয়ে (এএবিএস) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব অ্যাকুয়াটিক খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে ওয়ার্ল্ডফিশ।

কর্মশালায় মূলত বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আইএমটিএ প্রযুক্তির প্রাসঙ্গিকতা, সম্ভাব্য ভ্যালু চেইন, পরিবেশ ও জলবায়ু প্রভাব এবং প্রযুক্তি বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারিদা আখতার। তিনি বলেন, আইএমটিএ প্রযুক্তি দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্য খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে এর বাস্তবায়ন সম্ভব।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ড. এস. এম. রেজাউল করিম এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র। তারা বলেন, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতের টেকসই মৎস্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষণা ফলাফল উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লিফাত রাহী ও সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ তারেক আরাফাত, সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুব্রত সরকার, এক্সেমপ্ল্যারি কনসালটিং লিমিটেডের সিইও মোহাম্মদ নুরুল আজম এবং ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের পোস্টডক ফেলো ড. মোহাম্মদ আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া।

কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্য দেন ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফারুক-উল ইসলাম। তিনি বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিবেশসম্মত অ্যাকুয়াকালচার মডেল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালার কাঠামো ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ওয়ার্ল্ডফিশের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. বিনয় কুমার বর্মন ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক অশোক কুমার সরকার।

কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, একাডেমিক, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা মত দেন, উপকূলীয় মৎস্য খাতে টেকসই অগ্রগতির জন্য আইএমটিএ একটি সময়োপযোগী ও কার্যকর প্রযুক্তি।

কর্মশালার শেষাংশে প্রযুক্তিটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি।

আরও