গণ-অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন হলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান। ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবিতে আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দেয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ৬৪ বছর পরও একই দাবি প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।
আজ রোববার বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-এ ‘জার্নালিজম আফটার টার্নিং পয়েন্ট’ শীর্ষক অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি। তিনদিনের এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করেছে গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)।
বিএনপিকে ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি ও নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ও সরকার হিসেবে বিএনপির এই প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও সংবাদপত্র এবং সার্বিক গণমাধ্যম খাতের সংস্কারে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগ আমলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তখন সাংবাদিকদের কারাগারে পাঠানো হতো। প্রথম আলোকে টানা চাপের মধ্যে রাখা হয়েছিল। সরকারের নির্দেশে ৫০টি বড় প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে পত্রিকার ব্যবসা বাধাগ্রস্ত হয়। তার বিরুদ্ধে প্রায় ৮০টি মামলা দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলাও রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন মতিউর রহমান। তিনি বলেন, বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপে সংবাদমাধ্যমের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হওয়ায় গণমাধ্যম শিল্প ক্রমশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। এতে অনেক সাংবাদিক চাকরি হারান। অনিশ্চয়তা ও ভয়ের পরিবেশের কারণে প্রথম আলোসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম সেলফ-সেন্সরশিপ চর্চায় বাধ্য হয়।
প্রথম আলো সম্পাদক বলেন, উগ্রবাদীদের ‘বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার’ ও বিক্ষোভের চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ ও ধ্বংসযজ্ঞ। সবকিছু পুড়ে যাওয়ার পরই ফায়ার সার্ভিসের জন্য রাস্তা পরিষ্কার করেছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকাতে সরকারি কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো নির্দেশনা দেয়নি।
তিনি বলেন, ১৯৬২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার দাবিতে আইয়ুব খান সরকারের বিরুদ্ধে এক ছাত্র বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই স্মৃতিচারণা করে তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ৬৪ বছর পরও একই দাবি প্রাসঙ্গিক রয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, ৬৪ বছর পরও আমাদের সেই দাবিগুলো নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে। এখনো আমাদের এসব চাইতে হচ্ছে। ক্ষমতায় থাকাদের মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে যে কথা বলার অধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এগুলো মৌলিক অধিকার। ৫৬ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে আমি নিজেকে আবারও একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছি।