ইল্লিয়ীনের ‘সুপার এয়ার’, পোশাকে স্বস্তির নতুন খোঁজ

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে 'লাক্সারি' শব্দটি শুনলেই মনে হয় বিদেশী কোনো ব্র্যান্ড, দামটাও চড়া। দেশের যেকোনো অভিজাত ব্র্যান্ড শপে ঢুকলে এর একটা বাস্তব চিত্র পাওয়া যায়। কোন পোশাকে কী ধরনের কাপড় বা ফেব্রিক ব্যবহার করা হয়েছে, সেটি সেখানে মুখ্য নয়। তার চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায় পোশাকের গায়ের লেবেল, অর্থাৎ পোশাকটি কোন দেশের বা কোন ব্র্যান্ডের। তবে দেশে পোশাকের উপকরণ ও ফেব্রিক নিয়ে ভাবনায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন আসছে।

দেশীয় কাপড় বুননের কৌশল আটকে আছে নস্টালজিয়ায়। একটি ফেব্রিক কীভাবে তৈরি হচ্ছে, তার পেছনের কৌশল বা উদ্ভাবন কী, বাংলাদেশের আবহাওয়ার জন্য সেটি কতটা উপযোগী, এসব আলোচনা হয় না বললেই চলে।

এর একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ ঢাকাই মসলিন। অত্যন্ত হালকা ও সূক্ষ্ম এ কাপড়ের সৌন্দর্যে রোমানরাও মুগ্ধ হয়েছিলেন। এতটাই পাতলা ছিল মসলিন যে শরীরে পরলে মনে হতো কাপড়টি যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে। তবে মসলিনের বিশেষত্ব শুধু এর সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এ কাপড় তৈরি হয়েছিল এ বদ্বীপের আবহাওয়া, স্থানীয় উপকরণ ও বুননজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে। নকশা আর উপযোগিতার এই মেলবন্ধন মসলিনকে এনে দিয়েছিল পুরো বিশ্বজোড়া খ্যাতি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কারিগরি জ্ঞানের দিকটি অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে।

বাংলাদেশী ব্র্যান্ডগুলোও এখন পোশাকের ফেব্রিকের মানের নানা দিককে গুরুত্ব দিচ্ছে। ৩৫ বা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা, চরম আর্দ্রতা কিংবা দিনের প্রায় অর্ধেকটা সময় পরেও আরামদায়ক থাকবে, এমন গুণগত মানসম্পন্ন ফেব্রিক তৈরিতে মনোযোগ দিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো।

গরম সামলাতে আগে পোশাকে ঢিলেঢালা কাট ব্যবহার করা হতো। এখন ফেব্রিক নিয়েও কাজ হচ্ছে। টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও গবেষণার মাধ্যমে এমন ফেব্রিক তৈরি হচ্ছে, যেখানে আর্দ্রতা সহজে আটকে থাকে না। ফলে দীর্ঘ সময় পরেও পোশাক হালকা ও পরিপাটি থাকে।

লাক্সারি লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ইল্লিয়ীনের সুপার এয়ার ফেব্রিক এমনই এক উদাহরণ। উন্নত টেক্সটাইল প্রযুক্তির সাহায্যে এমনভাবে সুপার এয়ার তৈরি করা হয়েছে, যাতে তাপ আটকে না থাকে। এতে ব্যবহৃত সিনথেটিক ফেব্রিক শরীরের উষ্ণতা দূরে সরিয়ে বাতাস চলাচলে সহায়তা করে। এ ধরনের ফেব্রিক সাধারণত ইল্লিয়ীনের থোবে ব্যবহার করা হয়। সুপার এয়ার ফেব্রিক একদম হালকা ও ব্রিদেবল। ফলে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘক্ষণ পরার পরও এটি পরিপাটি দেখায়।

আমাদের মসলিন ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কাপড় শুধু আমাদের ঐতিহ্যের অংশ নয়, বরং সে সময়কার সবচেয়ে জটিল, শ্রমসাপেক্ষ ও বুদ্ধিদীপ্ত কাজের উদাহরণ। ইল্লিয়ীনের এই উদ্ভাবন সেই উদ্ভাবনী স্পিরিটকে ধারণ করে যা আমাদের দেশের টেক্সটাইল জগতের অগ্রযাত্রায় যোগ করেছে নতুন এক পালক। এ ধরনের ভাবনা পুরো ফ্যাশন শিল্পে পোশাকের উপকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবতে অনুপ্রাণিত করতে পারে। আর সেটিই হয়তো বাংলাদেশের অভিজাত বা লাক্সারি ফ্যাশনের ধারাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করবে।-বিজ্ঞপ্তি

আরও