দেশে আন্তর্জাতিক মানের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা করে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বাডাস) একটি প্রতিষ্ঠান। বাডাসের অধীনে হৃদরোগ চিকিৎসায় বিদ্যমান ঘাটতি পূরণ এবং সাশ্রয়ী ব্যয়ে আন্তর্জাতিক মানের কার্ডিয়াক সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যে এর কার্যক্রম শুরু হয়।
ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের যাত্রা শুরু হয় ২০০১ সালে ‘ডিএবি কার্ডিয়াক সেন্টার’ নামে। ওই সময় এটি সুইডিশ একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হতো। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালের ৬ জুন প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট’।
কার্ডিয়াক চিকিৎসাই প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। ওয়েবসাইটে কার্ডিওলজির পাশাপাশি কার্ডিয়াক সার্জারি ও কার্ডিয়াক অ্যানেসথেসিওলজির জন্য পৃথক বিশেষায়িত বিভাগের তথ্য রয়েছে। কার্ডিওলজি বিভাগের সঙ্গে ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির সেবাও যুক্ত রয়েছে। একই সঙ্গে শিশুদের হৃদরোগ চিকিৎসার জন্য পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির ব্যবস্থাও রয়েছে।
হৃদরোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে কার্ডিয়াক সার্জারিও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কার্ডিয়াক সার্জারির সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্ডিয়াক অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগ কাজ করছে। অর্থাৎ হৃদরোগের চিকিৎসায় মেডিকেল ব্যবস্থাপনা, ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচার এ বিভিন্ন ধারাকে একই প্রতিষ্ঠানের কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছে।
কার্ডিয়াক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষায়িত বিভাগ। প্রতিষ্ঠানটির বিভাগীয় কাঠামোয় রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং রয়েছে। পাশাপাশি পরবর্তী সময়ে ভাসকুলার সার্জারি, নিউরোসার্জারি ও অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিটের মতো সেবাও যুক্ত হয়েছে।
চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি হৃদরোগ বিষয়ে চিকিৎসকদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের অধীনে পরিচালিত সার্টিফিকেট কোর্স অন কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজেস (সিসিভিডি) ডিসট্যান্স লার্নিং প্রোগ্রামের লক্ষ্য হলো সাধারণ চিকিৎসকদের উচ্চ রক্তচাপ, অ্যাকিউট করোনারি সিনড্রোম ও হার্ট ফেইলিউর সম্পর্কে প্রশিক্ষিত করা। এর মাধ্যমে রোগ দ্রুত শনাক্তকরণ, চিকিৎসা শুরু, ফলোআপ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে রেফার করার দক্ষতাও তৈরি করছে।
এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনলাইন ও সরাসরি প্রশিক্ষণের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। কোর্সটির মাধ্যমে কার্ডিওভাসকুলার রোগ ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকায় হৃদরোগসেবা পৌঁছে দেয়ার সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এভাবে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই হৃদরোগ চিকিৎসাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ইব্রাহিম কার্ডিয়াকের কার্যক্রম বর্তমানে কার্ডিওলজি, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি, কার্ডিয়াক অ্যানেসথেসিওলজি ও পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির মতো বিশেষায়িত সেবাকে ঘিরে বিস্তৃত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রোগ নির্ণয়, সংশ্লিষ্ট সার্জারি এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও।