আমাদের হসপিটালে হৃদরোগের ২৪/৭ কম্প্রেন্সিভ সেবা রয়েছে

অধ্যাপক ডা. মহসীন আহমদ

বিভাগীয় প্রধান ও চিফ কনসালট্যান্ট কার্ডিওলজি বিভাগ

ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হসপিটাল

বিশ্বব্যাপী অকালমৃত্যুর বড় একটি অংশ জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। তাই শুধু ব্যক্তিকে সচেতন করলেই হবে না, পরিবেশও বদলাতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের রোগী বাড়ার প্রধান কারণ কী বলে মনে করেন?

বাংলাদেশে কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। তবে উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের বড় পার্থক্য হলো রোগীদের বয়স। ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান বা কোরিয়ায় হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের গড় বয়স যেখানে ৭০-৮০ বছর, বাংলাদেশে আমরা ৪০-৫০ বছর বয়সীদের মধ্যেই বেশি রোগী দেখি। অর্থাৎ আমাদের দেশে অপেক্ষাকৃত তরুণ জনগোষ্ঠী বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

এর পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ রয়েছে?

এর পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। বাংলাদেশে ইদানীং ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেশি। এর সঙ্গে বংশগত প্রবণতার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণদের মধ্যে ফাস্টফুড ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস বাড়ছে, শারীরিক পরিশ্রম কমছে। দীর্ঘ সময় বসে থাকা ও ব্যায়ামের অভাবে শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানসিক চাপ। সব মিলিয়ে ডায়াবেটিস, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, মানসিক চাপ, ধূমপান ও মাদক তরুণ বয়সে হৃদরোগের বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

এ পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপনের গুরুত্ব কতটা বা কেমন হওয়া উচিত?

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে অকালমৃত্যুর বড় একটি অংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশে হৃদরোগ মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। অথচ ডেঙ্গু বা করোনার মতো অন্যান্য রোগ নিয়ে যতটা আলোচনা হয়, হৃদরোগ নিয়ে সে তুলনায় সচেতনতা কম। এটি শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এর সঙ্গে পারিবারিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিও জড়িত। ৪০-৫০ বছর বয়সে একজন কর্মক্ষম মানুষ হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হলে তার পরিবার, সন্তান এবং আয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। তাই অকালমৃত্যু কমাতে এটিকে সামাজিক আন্দোলনের পর্যায়ে নিতে হবে।

বিশ্বব্যাপী অকালমৃত্যুর বড় একটি অংশ জীবনযাত্রা পরিবর্তনের মাধ্যমে কমানো সম্ভব। তাই শুধু ব্যক্তিকে সচেতন করলেই হবে না, পরিবেশও বদলাতে হবে। স্কুলে মাঠ ও পিটি ক্লাস কার্যকর করা, কর্মক্ষেত্রে কিছু সময় শরীরচর্চার সুযোগ তৈরি করা এবং তরুণদের হতাশা থেকে বের করে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা জরুরি। দীর্ঘ কর্মঘণ্টা কমিয়ে কর্মীদের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেয়ার কথাও ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি এনজিও, বেসরকারি খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

আপনাদের হাসপাতালে সিসিইউ-আইসিইউর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে?

জি, আমাদের এখানে সিসিইউ, আইসিইউ সবই পর্যাপ্ত রয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগী ১০৬৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে হাসপাতালের নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তাকে হাসপাতালে আনা হয় এবং জরুরি টিম সক্রিয় হয়ে যায়। প্রাইমারি পিসিআই প্রয়োজন হলে দ্রুত ক্যাথল্যাবে নিয়ে গিয়ে ব্লক খোলার ব্যবস্থা করা হয়। রোগীর পরবর্তী চিকিৎসার জন্য আইসিইউ, সিসিইউ, পোস্ট-সিসিইউ ও কার্ডিয়াক ওয়ার্ডসহ ধাপে ধাপে সেবার ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসার পাশাপাশি পুষ্টিবিদ ও মনোবিজ্ঞানীর সহায়তাও দেয়া হয়।

বিশ্ব হার্ট দিবসকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের জন্য আপনার বার্তা কী?

হৃদরোগের লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন হওয়া জরুরি। একটি সহজ বিষয় মনে রাখতে হবে—গতকাল যে কাজটি সহজে করতে পেরেছেন, আজ সেটি করতে গিয়ে যদি বুকে চাপ, অস্বস্তি বা শ্বাসকষ্ট হয়, সেটিকে অবহেলা করবেন না। তাই লক্ষণ বুঝলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

আরও