দেশে হৃদরোগ চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সেবা ও বিশেষায়িত চিকিৎসা ব্যবস্থার সমন্বয় করছে এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকা। হৃদরোগ শনাক্তকরণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা থেকে শুরু করে ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, কার্ডিয়াক সার্জারি, নিবিড় পরিচর্যা এবং চিকিৎসা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্ডিয়াক চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপকে একই ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে হাসপাতালটির কার্ডিয়াক সেবা কাঠামোয়।
হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগের রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির সুবিধা রয়েছে। হৃদযন্ত্রের রক্তনালিতে ব্লক শনাক্তকরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার জন্য ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব বা ক্যাথল্যাব ব্যবহার হচ্ছে। করোনারি এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি ও স্টেন্টিংসহ বিভিন্ন ধরনের ইন্টারভেনশনাল প্রক্রিয়া এ ব্যবস্থার মাধ্যমে করা হয়।
শুধু করোনারি ধমনির ব্লক নয়, হৃদযন্ত্রের ছন্দের সমস্যা ও হার্ট ফেইলিউরের মতো জটিল অবস্থার চিকিৎসায়ও বিশেষায়িত সেবা রয়েছে হাসপাতালটিতে। অ্যারিদমিয়া বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের ক্ষেত্রে রোগীর ধরন ও প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা এবং ডিভাইসভিত্তিক ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে। একইভাবে হার্ট ফেইলিউর রোগীদের জন্যও বিশেষায়িত কার্ডিয়াক ব্যবস্থাপনার কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
তবে সব হৃদরোগীর ক্ষেত্রে ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসা যথেষ্ট নয়। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে করোনারি আর্টারি বাইপাস গ্রাফটিং বা ভালভ সার্জারি কিংবা অ্যাওর্টিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। এভারকেয়ারের কার্ডিওথোরাসিক ও ভাসকুলার সার্জারি বিভাগে এসব জটিল অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা রয়েছে। করোনারি বাইপাসের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের ভালভ রিপেয়ার ও রিপ্লেসমেন্ট এবং অ্যাওর্টিক সার্জারিও এ বিভাগের আওতায় রয়েছে।
কার্ডিয়াক সার্জারির ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য হাসপাতালটিতে রয়েছে পৃথক কার্ডিয়াক ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্যবস্থা। হার্ট অ্যাটাক, কার্ডিয়াক ইস্কেমিয়া, হার্ট ফেইলিউর, কার্ডিওমায়োপ্যাথি ও গুরুতর হৃৎস্পন্দনের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের এখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসা দেয়া হয়।
ইন্টারভেনশনাল চিকিৎসার পরও অনেক রোগীর নিবিড় পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে স্টেন্টিং বা অন্যান্য জটিল কার্ডিয়াক প্রক্রিয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে হাসপাতালের বিশেষ কার্ডিয়াক টিম। গুরুতর অবস্থা থেকে স্থিতিশীল হওয়া রোগীদের জন্য রয়েছে পোস্ট-CCU। এর মাধ্যমে নিবিড় পরিচর্যার পরবর্তী পর্যায়েও কার্ডিয়াক রোগীদের পর্যবেক্ষণ করা হয়, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয় রোগীর সুস্থতার ওপর।
বাইপাস বা ভালভ সার্জারির জন্য ব্যবহার করা হয় আধুনিক প্রযুক্তি, সার্জারিতে হাসপাতালটির রয়েছে উন্নতমানের টেকনোলজি, যা হাসপাতালের চিকিৎসার মানকে করেছে আরো রোগীবান্ধব, অন্যদিকে বাইপাস বা ভালভ সার্জারির মতো বড় ধরনের কার্ডিয়াক অস্ত্রোপচারের পর রোগীদের জন্য রয়েছে অত্যাধুনিক কার্ডিওথোরাসিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট। ওপেন হার্ট সার্জারি, করোনারি বাইপাস সার্জারি, ভালভ সার্জারি, জন্মগত হৃদরোগের অস্ত্রোপচার এবং অ্যাওর্টিক সার্জারির পর রোগীদের নিবিড় পরিচর্যায় এ ইউনিট ব্যবহার হয়।
কার্ডিয়াক সার্জারির সঙ্গে অ্যানেস্থেসিয়া ও অপারেশন-পরবর্তী ব্যবস্থাপনাও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এভারকেয়ারে কার্ডিওথোরাসিক অ্যানেস্থেসিয়ার জন্য বিশেষায়িত সেবা রয়েছে। জটিল হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচারে সার্জারি, অ্যানেস্থেসিয়া, পারফিউশন ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার টিমের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন হয়।
হৃদরোগের জরুরি চিকিৎসায়ও সময় গুরুত্বপূর্ণ। হার্ট অ্যাটাক বা তীব্র বুকব্যথার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা না গেলে জটিলতা বাড়তে পারে। এ কারণে জরুরি বিভাগ, কার্ডিওলজি, ক্যাথ ল্যাব ও কার্ডিয়াক ক্রিটিক্যাল কেয়ারের মধ্যে দ্রুত সমন্বয় জরুরি। এভারকেয়ারের কার্ডিয়াক সেবা কাঠামোয় এ ধরনের জরুরি কার্ডিয়াক রোগীদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বিত ব্যবস্থার সুযোগ রয়েছে, যা হাসপাতালের সেবার মান বাড়িয়েছে বহুগুণ।
হৃদরোগ চিকিৎসার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো শিশুদের জন্মগত হৃদরোগ। এভারকেয়ারে ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজির সেবাও রয়েছে। জন্মগত হৃদরোগ শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় ইন্টারভেনশন এবং জটিল ক্ষেত্রে সার্জিক্যাল চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে হাসপাতালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।
কার্ডিয়াক চিকিৎসার পর রোগীর পুনর্বাসনও চিকিৎসার ধারাবাহিক অংশ। হৃদরোগের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক সক্ষমতা ফিরিয়ে আনা, দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে ফিরে আসা এবং জীবনযাপনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন গুরুত্বপূর্ণ। এভারকেয়ারের কার্ডিওলজি সেবার সঙ্গে কার্ডিও-পালমোনারি রিহ্যাবিলিটেশনের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা রোগীদের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে।