গ্রাহকদের সুবিধা দিয়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে চায় ইসলামী ব্যাংক

এবারের রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কার্ডভিত্তিক কেনাকাটার ক্ষেত্রে গ্রাহকদের জন্য আপনাদের বিশেষ অফারগুলো কী কী? রমজান ও ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে আমরা খিদমাহ কার্ডে বিশেষ মূল্যছাড় ও ক্যাশব্যাক অফার প্রদান করছি।

ইফতার ও সাহরির জন্য শীর্ষস্থানীয় রেস্তোরাঁগুলোয় এক্সক্লুসিভ ডাইনিং অফারের পাশাপাশি রয়েছে কাপল ট্রিপ টু মালয়েশিয়া, স্মার্টফোন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রনিকস ও গ্রোসারি ভাউচারসহ বাই ওয়ান গেট ওয়ান/টু/থ্রি সুবিধা। এছাড়া গ্রোসারি ও রিটেইল দোকানগুলোয় রয়েছে বিশেষ মূল্যছাড় ।

ঈদের আনন্দঘন মুহূর্ত পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করতে আমরা প্রধান টিকেটিং প্লাটফর্মগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়ে খিদমাহ কার্ডে এক্সক্লুসিভ ক্যাশব্যাক অফার দিচ্ছি। সামগ্রিকভাবে আমাদের গ্রাহকদের বিভিন্ন সুবিধা দেয়ার মাধ্যমে রমজান ও ঈদের এ উৎসবের আমেজকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। গ্রাহকের প্রয়োজনীয়তা অনুসারে সেবা প্রদানের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করার চেষ্টা আমরা অব্যাহত রেখেছি।

গ্রাহকদের জন্য আপনারা কত ধরনের ক্রেডিট কার্ড বাজারে এনেছেন?

ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের আর্থিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের খিদমাহ ক্রেডিট কার্ড চালু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মাস্টারকার্ড এবং ভিসা ব্র্যান্ডের গোল্ড, প্লাটিনাম, প্রায়োরিটি প্লাটিনাম ও মাস্টারকার্ড ওয়ার্ল্ড। এগুলো ব্যবহার করে আমাদের গ্রাহকরা দেশ-বিদেশে নগদ উত্তোলন, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন প্রকারের সেবা গ্রহণ করছেন। গ্রাহকদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে আমরা তাদের বৈচিত্র্যময় ক্রেডিট কার্ড সেবা দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।

কোন কোন বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আপনাদের কার্ড অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের তুলনায় স্বতন্ত্র বলে মনে করেন?

আমরা খিদমাহ ক্রেডিট কার্ডে বিভিন্ন সুবিধা দিচ্ছি। ইসলামী ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড শরিয়াহসম্মত উজরা নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত একটি সেবা বা প্রডাক্ট। এর মধ্যে বেশকিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা বাজারে অন্যদের থেকে আলাদা। আমাদের কার্ড গ্রাহক ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধে কোনো প্রকার চার্জ বা বাড়তি ফি ছাড়াই সর্বোচ্চ ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় পেয়ে থাকেন। এছাড়া মাত্র ১৮টি লেনদেন করলেই আমরা গ্রাহককে বার্ষিক ফি মওকুফের সুবিধা দিচ্ছি, যা তাদের কাছে আমাদের ক্রেডিট কার্ডগুলোকে আরো সাশ্রয়ী করে তুলেছে।

সর্বনিম্ন ফিতে সেলফিন অ্যাপের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড থেকে যেকোনো অ্যাকাউন্টে নিমেষেই ফান্ড ট্রান্সফার করা যাচ্ছে। কার্ডের স্ট্যাটাসভেদে আমাদের গ্রাহকরা দেশ-বিদেশে দেড় হাজারের বেশি এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ সুবিধা উপভোগ করতে পারছেন। এছাড়া ২ হাজারটির বেশি ব্র্যান্ড আউটলেটে আকর্ষণীয় ছাড়ে কেনাকাটা সুবিধা পাচ্ছেন তারা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আকর্ষণীয় ক্যাশব্যাকসহ ২৫০টির বেশি ব্র্যান্ড মার্চেন্টে ৩৬ মাস পর্যন্ত শূন্য শতাংশ ইএমআই সুবিধা রয়েছে।

দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের কোন কোন বিষয় কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথে অন্তরায় বলে মনে করেন?

বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেম দ্রুত এগোলেও কার্ডভিত্তিক পেমেন্ট ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বেশকিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এদের মধ্যে উচ্চ মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট অন্যতম। ছোট ও মাঝারি দোকানদাররা কার্ডে পেমেন্ট নিতে খুব একটা আগ্রহী হন না। কারণ প্রতিটি লেনদেনে তাদের একটি নির্দিষ্ট হারে (সাধারণত এক থেকে আড়াই শতাংশ) চার্জ দিতে হয়। এছাড়া পিওএস টার্মিনাল বা কার্ড সোয়াইপ মেশিনের দাম এবং এটি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ কিছুটা বেশি। গ্রামীণ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট এবং বিদ্যুৎ সংযোগের অভাবে কার্ড পেমেন্ট ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে ভীতি এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার অভাব কার্ডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণে একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক বাধা। আমাদের দেশে ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে যেমন, চায়ের দোকান বা মুদি দোকান—এসব জায়গায় কার্ডের মাধ্যমে ৫-১০ টাকা পেমেন্ট করার পরিকাঠামো বা মানসিকতা এখনো তৈরি হয়নি। এছাড়া কার্ড টু ক্যাশ সেটলমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ না হওয়াও একটি অন্তরায় হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশে জনসাধারণের মধ্যে কেনাকাটায় কার্ড ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় করতে আপনাদের উদ্যোগগুলো কী কী?

বাংলাদেশে কেনাকাটায় কার্ডের ব্যবহারকে আরো জনপ্রিয় এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে আমাদের পক্ষ থেকে বেশকিছু আধুনিক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইসলামী ব্যাংকের ৪০০টি শাখা ও ২৭৬টি উপশাখা ও প্রায় ২ হাজার ৮০০ এজেন্ট আউটলেটের মাধ্যমে সারা দেশে মানুষের চাহিদার আলোকে খিদমাহ কার্ডের গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত ক্যাম্পেইন, প্রচার-প্রসার চালিয়ে যাচ্ছি। নগদ টাকা বা কার্ড সঙ্গে রাখার ঝামেলা এড়াতে আমরা ‘সেলফিন’ অ্যাপের মাধ্যমে কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুবিধা দিয়েছি। এছাড়া আমাদের আধুনিক কার্ডগুলোয় এনএফসি (নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন) বা কন্টাক্টলেস প্রযুক্তি রয়েছে, যেখানে কার্ড মেশিনে পাঞ্চ ও পিন ব্যবহার না করে শুধু স্পর্শ করেই দ্রুত পেমেন্ট করা সম্ভব। বড় অংকের কেনাকাটা (যেমন ল্যাপটপ, মোবাইল বা ফ্রিজ ক্রয়) সহজ করতে আমরা শূন্য শতাংশ প্রফিট রেটে তিন থেকে ৩৬ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের (ইএমআই) সুবিধা দিচ্ছি। এটি মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের জন্য কার্ড ব্যবহারের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। উৎসবের সময় যেমন ঈদ বা পহেলা বৈশাখে আমাদের কার্ড হোল্ডাররা বিশেষ ডিসকাউন্ট ও ক্যাশব্যাক সুবিধা পান, যা গ্রাহকদের কার্ড ব্যবহারকারীদের নানাভাবে উৎসাহিত করছে। এছাড়া আমরা দেশব্যাপী সহজলভ্য বাংলা কিউআর ও পিওএস মেশিন সরবরাহ করে ক্যাশলেস সমাজ গঠনে অব্যাহত চেষ্টা করে যাচ্ছি।

ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধিতে সরকার কী ধরনের উদ্যোগ নিতে পারে?

ডিজিটাল লেনদেন একটি দেশের অর্থনীতিকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করে। সরকার ডিজিটাল লেনদেনকে সহজ করতে বাস্তবসম্মত বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ২০৩২ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়া। পাশাপাশি বাংলাদেশে ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমকে আরো শক্তিশালী ও জনপ্রিয় করতে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন ডিজিটাল লেনদেনের ওপর আরোপিত চার্জ কমিয়ে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করা যেতে পারে। কার্ড বা কিউআর কোডে পেমেন্ট করলে নির্দিষ্ট হারে সরাসরি ক্যাশব্যাক বা সরকারি ভর্তুকি সুবিধা দেয়া যেতে পারে। সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের (এসএমই) জন্য কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ সহজ করতে এমডিআর চার্জ কমিয়ে আনা যায়, যাতে দোকানদাররা ক্যাশ টাকার চেয়ে ডিজিটাল পেমেন্ট নিতে বেশি আগ্রহী হয়। শহরের বাইরেও নিরবচ্ছিন্ন ফোরজি-ফাইভজি ইন্টারনেট নিশ্চিত করা এবং দুর্গম এলাকায় ‘ক্যাশলেস’ বাজার গড়ে তোলা এবং বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল, হোল্ডিং ট্যাক্স, পাসপোর্টের ফি ও লাইসেন্স ফিসহ সব সরকারি ফি শুধু ডিজিটাল মাধ্যমে পরিশোধ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে। এতে মানুষ বাধ্য হয়েই ডিজিটাল পেমেন্টে অভ্যস্ত হবে।

আরও