টেকসই নগরায়ণে মফস্বল শহরকে গুরুত্ব দিতে হবে

অধ্যাপক ড. মু. মোসলেহ উদ্দিন হাসান

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর পরিচালন কাঠামো (গভর্ন্যান্স) ঠিক করতে হবে। বর্তমানে এ শহরগুলোর নিজের পরিকল্পনা তৈরির ক্ষমতা নেই এবং মনিটরিং না করায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) কম এবং মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এমন জায়গায় প্লট উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থিত।

বাংলাদেশে পাঁচ শতাধিক শহর রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি শহরে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আছে, যা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। বাকি শহরগুলো বড় ও ছোট পৌরসভা এবং কিছু অ-পৌর শহর। পৌরসভাগুলো পরিচালিত হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এগুলো শহরমুখী জনস্রোত ও জলবায়ুজনিত অভিবাসীদের গন্তব্য নয়—ঢাকা ও চট্টগ্রামই তাদের লক্ষ্য।

তাই বলে এটা মনে করা ঠিক হবে না যে ছোট ও মাঝারি জনকেন্দ্রগুলো বাড়ছে না। বরং এ জনপদগুলোর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঢাকা ও চট্টগ্রামে করা একই ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি ঘটছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর প্রশাসন ও মনিটরিং ব্যবস্থার অভাবে আরো বেশি গুরুতর ও অপরিবর্তনীয় ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঘটছে। সরু রাস্তার পাশে বহুতল ভবন নির্মাণ, নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছাড়াই ড্রেন তৈরি, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পাহাড় কাটা এবং দূষণকারী শিল্পের বিস্তার শহরগুলোর পরিবেশ ও বাসযোগ্যতাকে ঝুঁকিতে ফেলছে।

এ ধরনের বস্তুগত ও পরিবেশগত পরিবর্তনের বিপরীতে স্মার্ট ও টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে এবং দেশব্যাপী বড়-ছোট নগর ও গ্রামীণ এলাকার পরিবেশগত এবং অর্থনৈতিকভাবে সর্বোত্তম বণ্টন নিশ্চিত করতে আমাদের একটি জাতীয় স্থানিক পরিকল্পনা কাঠামো (এসপিএফ) প্রয়োজন। আমাদের ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর পরিচালন কাঠামো (গভর্ন্যান্স) ঠিক করতে হবে। বর্তমানে এ শহরগুলোর নিজের পরিকল্পনা তৈরির ক্ষমতা নেই এবং মনিটরিং না করায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) কম এবং মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য এমন জায়গায় প্লট উন্নয়ন প্রকল্প নিয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থিত।

সরকারি ও বেসরকারি খাত মিলে আবাসন, যোগাযোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, অন্যান্য নাগরিক সুবিধা প্রদানের জন্য নানা ধরনের উদ্ভাবনী ও সৃষ্টিশীল প্রকল্প নিতে পারবে। বেসরকারি আবাসন উদ্যোক্তারা কেবল ঢাকায় ভিড় না করে এসব ‘মফস্বল’ শহরে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন তুলনামূলকভাবে প্রতিযোগিতামূলক দামে। এ উদ্যোগ ছোট শহরগুলোর অর্থনীতিতে দারুণ ‘মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ তৈরি করবে। ফলে প্রকৃতপক্ষেই নতুন এক বাংলাদেশের দেখা পাওয়া যাবে। আর সেটা হবে ছোট ও মাঝারি শহরের বাংলাদেশ। ঢাকা মানেই বাংলাদেশ নয়—এটা যখন সম্ভব হবে, বাংলাদেশে নগরায়ণ তখন টেকসই হবে।

‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে প্রকাশিত লেখা থেকে

আরও