বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে মানসম্মত আবাসনের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরের পাশাপাশি জেলা ও আঞ্চলিক শহরগুলোতেও নিজস্ব বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টের চাহিদা তৈরি হচ্ছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং ফাইন্যান্সের প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে।
তবে বর্তমানে উচ্চ নির্মাণ ব্যয়, জমির মূল্য, সুদহারের চাপ এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বাজারের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ক্রয় সক্ষমতা। তাই পুরো হাউজিং ইকোসিস্টেমকে আরো সাশ্রয়ী করতে হবে।
প্রথমত, দীর্ঘমেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের তহবিলের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, নির্মাণ ব্যয় কমাতে পরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প, স্ট্যান্ডার্ডাইজড নির্মাণ এবং দক্ষ নির্মাণ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তৃতীয়ত, মধ্যম ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী হোম লোনের বিশেষ কাঠামো প্রয়োজন। চতুর্থত, সরকারি জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রজেক্ট তৈরি করে সাশ্রয়ী আবাসনের জোগান দিতে হবে। একই সঙ্গে সরকার, ডেভেলপার ও ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
হাউজিং ফাইন্যান্সের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল অর্থায়নের মধ্যে ভারসাম্য। একজন গ্রাহককে যত বেশি ঋণ দেয়া যায়, সেটিই সাফল্যের মাপকাঠি নয়; বরং এমন ঋণ দিতে হবে যার কিস্তি তিনি দীর্ঘমেয়াদে স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে পরিশোধ করতে পারেন। আবাসন ঋণ গ্রাহকের ভবিষ্যতের আয়কে বর্তমান দিনের গৃহ মালিকানায় রূপান্তর করে। ঢাকা-কেন্দ্রিকতার বাইরে গিয়ে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলোতে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তুলতে হাউজিং ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষঙ্গিক ভূমিকা পালন করতে পারে।
আমাদের দৃষ্টিতে হাউজিং ফাইন্যান্স শুধু একটি ঋণপণ্য নয়; এটি নগরায়ণ, কর্মসংস্থান, নির্মাণ শিল্প ও মানুষের সম্পদ সৃষ্টির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সঠিক নীতি সহায়তা, দীর্ঘমেয়াদি তহবিল এবং উদ্ভাবনী অর্থায়ন কাঠামো নিশ্চিত করা গেলে আগামী দিনে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’ উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনে প্রকাশিত লেখা থেকে