পাটের সহজলভ্যতাকে পুঁজি করে ফরিদপুরে গড়ে উঠছে পাটপণ্যের নতুন নতুন উদ্যোগ

ফরিদপুরে পাটের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পাটপণ্য উদ্যোক্তা গড়ে উঠছেন।

এমনই একজন সফল উদ্যোক্তা আলেয়া বেগম, যিনি ছয় বছর ধরে পাটপণ্য নিয়ে কাজ করছেন। শুরুতে মাত্র ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে কাজ শুরু করলেও বর্তমানে প্রতি মাসে তিনি ৩-৪ লাখ টাকার পাটজাত পণ্য বিক্রি করেন। ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামটে তিনি গড়ে তুলেছেন ‘আলেয়া জুট প্রডাক্ট অ্যান্ড হ্যান্ডি ক্রাফট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

আলেয়া বেগম জানান, যুব উন্নয়ন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মাধ্যমে পাটপণ্যের ওপরে প্রশিক্ষণ নিয়ে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে বিভিন্ন গ্রামের নারীদের মাধ্যমে পাট বেণি তৈরি করিয়ে সংগ্রহ করেন। পরে উৎপাদিত পণ্য বিভিন্ন শপিংমল ও সরকারি চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করেন। দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মেলায়ও তার প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। টিস্যু ব্যাগ, মানিব্যাগ, পাপোসসহ অন্তত ৫০ ধরনের পণ্য বিক্রি করেন তিনি। সরকারিভাবে কম সুদে বড় অংকের ঋণ পেলে ব্যবসার পরিসর বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন আলেয়া বেগম।

শুধু আলেয়া নয়, ফরিদপুরে পাটের সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে অনেকেই এখন পাটপণ্য উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তেমনি আরেকজন উদ্যোক্তা লুবাবা তুল জান্নাত। ২০২২ সালে মহিলা অধিদপ্তর থেকে পাটপণ্যের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে উৎপাদন ও বিপণনের কাজ শুরু করেন তিনি। লাঞ্চ ব্যাগসহ কয়েক ধরনের পণ্য তৈরি ও বিপণন করছেন। মাত্র ১৮ হাজার টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করা এ উদ্যোক্তার পুঁজি বর্তমানে লাখ টাকা ছুঁয়েছে। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে একটি কারখানা স্থাপনের স্বপ্ন থাকলেও তা পূরণ করতে পারছেন না লুবাবা।

তিনি জানান, কর্মীর স্বল্পতা, পাটজাত পণ্যের কম মূল্য ও কালারিং পাটের উচ্চ দামের কারণে পণ্য উৎপাদন করে কাঙ্ক্ষিত মূল্যে বিক্রি করা দুরূহ হয়ে উঠেছে, যা তার ব্যবসার প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। তবু হাল ছাড়ছেন না এ উদ্যোক্তা। অনুকূল পরিবেশ পেলে পাটপণ্যের ব্যবসায় সফলতা অর্জন করা সম্ভব বলে বিশ্বাস তার।

এদিকে ১৮ বছর আগে পাটপণ্যের কাজ শুরু করেছিলেন সাইফুল ইসলাম ওহিদ। শুরুতে ক্ষুদ্র আকারে ব্যাগ ও খেলার তৈজসপত্র নিয়ে কাজ শুরু করলেও কয়েক বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। চীনে অনুষ্ঠিত ৯৯ দেশের অংশগ্রহণের সে মেলার পর থেকেই তার ব্যবসায়ের দুয়ার সম্প্রসারণ হয়। তখন থেকেই পাটজাত লন্ড্রি বাস্কেট, ঝুড়ি, ফুলের টব, শিকে, লেডিস পার্টসসহ বিভিন্ন ধরনের শো-পিস সামগ্রী রফতানির সুযোগ পান। বর্তমানে বিদেশী আমদানিকারকদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করেন তিনি। এক্ষেত্রে কিছু অসুবিধার কথাও জানালেন ওহিদ। তার মতে, বিভিন্ন দেশে পণ্য সরবরাহ করতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হয়, যা উদ্যোক্তাদের পক্ষে শতভাগ নিশ্চিত করা কঠিন।

সাইফুল ইসলাম ওহিদ জানান, বিভিন্ন সভা-সেমিনারে ভালো ভালো কথা বলা হলেও বাস্তব ক্ষেত্রে সরকারের উল্লেখযোগ্য কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায় না। ফলে অনেক উদ্যোক্তাই মাঝপথে ঝরে যাচ্ছেন। বাংলাদেশে পাটপণ্যের ব্যবহার বাড়াতে না পারলে এ খাতের উদ্যোক্তাদের টিকে থাকা কঠিন হবে উল্লেখ করে এ খাতের উদ্যোক্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, ফরিদপুরের ডিজিএম আহ্সান কবীর জানান, তাদের প্রতিষ্ঠান পাটপণ্যের উদ্যোক্তা তৈরি ও সহযোগিতায় কাজ করে যাচ্ছে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ দেয়া, প্লট বরাদ্দ, মেলার আয়োজন করা হয়। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেশব্যাপী ও দেশের বাইরে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে দেয়া হয়।

আরও