প্রবাসীদের শ্রম ও ত্যাগেই শক্তিশালী হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি

মোহাম্মাদ সামিউল্লাহ
সিইও, প্রাইম এক্সচেঞ্জ কোম্পানি
প্রাইভেট লিমিটেড

প্রাইম এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে সিঙ্গাপুর প্রবাসী সব বাংলাদেশীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। প্রবাস জীবনের নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে আপনারা বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংযোগের একটি শক্তিশালী সেতু তৈরি করেছেন।

আপনাদের সততা, কর্মদক্ষতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে শুধু দেশের সুনামই বাড়ছে না, বাংলাদেশের অর্থনীতিও পাচ্ছে প্রয়োজনীয় শক্তি। আজকের এ সম্মাননা আয়োজন সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকারই স্বীকৃতি।

দেশে পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার হিসেবেই সাধারণত প্রবাসীদের অবদান মূল্যায়ন করা হয়। অথচ এ অর্থ উপার্জনে তাদের কতটা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করতে হয়, সে বাস্তবতা খুব কমই সামনে আসে। স্বজনদের ছেড়ে দীর্ঘ সময় বিদেশে থাকা, পরিবারের সুখ-দুঃখের সময়ে পাশে থাকতে না পারা এবং নিজের অনেক ইচ্ছাকে বিসর্জন দেয়ার অভিজ্ঞতা নিয়েই তাদের প্রবাস জীবন। এসব ত্যাগের মূলে থাকে প্রিয়জনদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রত্যাশা।

আপনারা নিজের আরাম-আয়েশ ও অনেক ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াকে পেছনে রেখে বিদেশের মাটিতে কাজ করে যাচ্ছেন। আপনাদের পাঠানো অর্থে দেশের লাখো পরিবার তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা করাতে পারছে, উন্নত চিকিৎসা নিতে পারছে, বাড়িঘর তৈরি করছে এবং নতুন ব্যবসা বা উদ্যোগ শুরু করার সুযোগ পাচ্ছে। অনেক পরিবার আপনাদের পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভর করে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছে। একই সঙ্গে এ রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়াচ্ছে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখছে।

তাই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদান শুধু তাদের নিজ নিজ পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তাদের শ্রম ও অর্জনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি সরাসরি যুক্ত। তারা দেশের উন্নয়নের নীরব কারিগর। দেশের বাইরে থেকেও তারা যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের প্রতিটি সাফল্য শুধু আপনাদের পরিবারের জন্য নয়, আমাদের পুরো দেশের জন্যই গর্বের।

এ আয়োজনের মাধ্যমে আমরা সেই সব প্রবাসী বাংলাদেশীকে সম্মান জানাতে চাই, যারা নিজেদের কষ্ট ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে চলেছেন। আপনারা বাংলাদেশের প্রকৃত গর্ব। আপনাদের শ্রম, সততা ও দায়িত্ববোধ নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অবদানকে সামনে এনে তাদের সম্মান জানানোর এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে আমাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে আয়োজনকে আরো মর্যাদাপূর্ণ ও প্রাণবন্ত করার জন্য প্রধান অতিথির প্রতি জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সব রেমিট্যান্স যোদ্ধা, অতিথি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের শ্রম, ত্যাগ ও অবদানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা সবসময় অটুট থাকবে। আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো শক্তিশালী হবে এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও যোগাযোগ ভবিষ্যতে আরো বাড়বে। বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর মৈত্রী দীর্ঘজীবী হোক। প্রবাসী বাংলাদেশীদের অগ্রযাত্রা আরো সমৃদ্ধ হোক। তাদের অবদানে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

আরও